দ্য ওয়াল ব্যুরো : রাস্তায় মাস্ক না পরে বেরোলেই ধরছে পুলিশ। তাদের পাঠিয়ে দিচ্ছে কোভিড হাসপাতালে অথবা পুলিশের চেকপোস্টে। অন্তত তিনদিন সেখানে স্বেচ্ছাশ্রম দিলে তবেই মিলছে মুক্তি। গোয়ালিয়র জেলার কালেক্টর কৌশলেন্দ্র বিক্রম সিং সোমবার এমনই নির্দেশ দিয়েছেন। সোমবার জেলা প্রশাসনের উচ্চপদস্থ অফিসারদের সঙ্গে কালেক্টর বৈঠকে বসেন। কীভাবে 'কিল করোনা' কর্মসূচি বাস্তবায়িত করা যায়, তা নিয়ে আলোচনা হয়। এরপরেই ওই নির্দেশ দেন কালেক্টর।
কালেক্টর বলেন, সোমবার থেকেই শুরু হয়েছে কিল করোনা কর্মসূচি। কেউ যদি কোভিড গাইডলাইন না মানে তাহলে তাকে করোনাভাইরাসের বিরুদ্ধে যুদ্ধে স্বেচ্ছাশ্রম দিতে হবে। অন্তত তিনদিন করোনা হাসপাতাল অথবা পুলিশের চেকপোস্টে তাঁরা কাজ করবেন।
গত মার্চে কোভিড নিয়ে দেশ জুড়ে নির্দেশিকা জারি করা হয়। তাতে বলা হয়, কাজের জায়গায় ও পাবলিক প্লেসে ফেস মাস্ক ব্যবহার করতে হবে। সেই সঙ্গে সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখারও নির্দেশ দেওয়া হয়।
মধ্যপ্রদেশে ১৫ হাজার মানুষ করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন। মারা গিয়েছেন ৬০৮ জন। গোয়ালিয়র জেলায় রবিবার আক্রান্ত হয়েছেন ৬৪ জন। এর আগে একইদিনে ওই জেলায় অতজন মানুষ কখনও করোনায় আক্রান্ত হননি। গোয়ালিয়রে করোনায় আক্রান্তের সংখ্যা ৫২৮। করোনা আক্রান্তের সংখ্যা কমানোর জন্য ১ জুলাই থেকে 'কিল করোনা' কর্মসূচি চালু করেছে মধ্যপ্রদেশ সরকার। ওই কর্মসূচি অনুযায়ী স্বাস্থ্যকর্মী ও অফিসাররা ১৫ দিন ধরে বাড়ি বাড়ি ঘুরে করোনা রোগীদের চিহ্নিত করবেন ও তাঁদের আইসোলেশনে পাঠাবেন।
মধ্যপ্রদেশ জুড়ে এখন কাজ করছে স্বাস্থ্যকর্মীদের ১১ হাজার ৪৫৮ টি টিম। তাঁদের সঙ্গে আছে নন কনট্যাক্ট থার্মোমিটার, পালস অক্সিমিটার এবং করোনা থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য উপযুক্ত পোশাক।
সাধারণ মানুষ যাতে কোভিড নির্দেশিকা মেনে চলে সেজন্য আরও কয়েকটি রাজ্যও বিশেষ ব্যবস্থা নিয়েছে। উত্তরাখণ্ড, রাজস্থান, ছত্তিসগড় এবং দিল্লির সরকার বলেছে, মাস্ক ছাড়া কাউকে পাবলিক প্লেসে দেখা গেলে তাঁর জেল ও জরিমানা হবে।
যে দেশগুলি করোনায় সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, তাঁর মধ্যে ভারত আছে তিন নম্বরে। রবিবার সন্ধ্যায় আমাদের দেশ রাশিয়াকে অতিক্রম করে গিয়েছে। রাশিয়ায় এখন আক্রান্তের সংখ্যা ৬ লক্ষ ৮০ হাজার। ভারতে আক্রান্তের সংখ্যা ৬ লক্ষ ৯০ হাজার। ভারতের আগে আছে ব্রাজিল ও আমেরিকা। ব্রাজিলে আক্রান্তের সংখ্যা ১৫ লক্ষ। আমেরিকায় আক্রান্তের সংখ্যা ২৮ লক্ষেরও বেশি।