আমি স্নাতক নই,' পাঁচ বছরের বিতর্কের ইতি টানলেন স্মৃতি নিজেই
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ফের বিতর্কে তাঁর শিক্ষাগত যোগ্যতা। কেন্দ্রীয় বস্ত্রমন্ত্রী স্মৃতি ইরানির শিক্ষাগত যোগ্যতা ঠিক কী, আদৌ তিনি স্নাতক, নাকি স্নাতক নন সেই নিয়ে বিতর্কের সূত্রপাত হয় পাঁচ বছর আগেই। বিরোধীদের তোপের মুখে, নির্বাচন কমিশনের কাছে নিজে
শেষ আপডেট: 10 April 2019 18:30
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ফের বিতর্কে তাঁর শিক্ষাগত যোগ্যতা। কেন্দ্রীয় বস্ত্রমন্ত্রী স্মৃতি ইরানির শিক্ষাগত যোগ্যতা ঠিক কী, আদৌ তিনি স্নাতক, নাকি স্নাতক নন সেই নিয়ে বিতর্কের সূত্রপাত হয় পাঁচ বছর আগেই। বিরোধীদের তোপের মুখে, নির্বাচন কমিশনের কাছে নিজের শিক্ষাগত যোগ্যতা নিয়ে ভুল তথ্য দিয়েছেন বলে অভিযোগও ওঠে নানা মহলে। তবে ভোটের হাওয়া শুরু হতেই সব বিতর্কে জল ঢেলে দেন স্মৃতি নিজেই। নির্বাচন কমিশনের কাছে হলফনামা পেশ করে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জানান, আসলে তিনি স্নাতক নন। দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ে তিনি স্নাতকের পড়াশোনা শুরু করেছিলেন সত্যি, তবে ডিগ্রি নেওয়াটা আর হয়ে ওঠেনি।
বৃহস্পতিবার নির্বাচন কমিশনের কাছে হলফনামা পেশ করে স্মৃতি জানান, দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ের স্কুল অব করেসপন্ডেন্সে বি কম পড়তে শুরু করেছিলেন তিনি। পার্ট ওয়ানের পরীক্ষাও দেন, তবে তিন বছরের কোর্স শেষ করতে পারেননি। তাই স্নাতকের কোনও ডিগ্রি নেই তাঁর।
কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভায় সর্বকনিষ্ঠ মন্ত্রী স্মৃতি। কিন্তু শুরু থেকেই বিতর্কের শিকার তিনি। ২০০৪ ও ২০১৪ সালে লোকসভা ভোটের হলফনামায় দু’ধরনের শিক্ষাগত যোগতা নির্বাচন কমিশনের কাছে জমা দিয়েছেন বলে অভিযোগ তুলে বিরোধীরা তাঁর ইস্তফার দাবিতে সরব হন। ভুয়ো ডিগ্রি মামলা দায়ের হয় আদালতে।

আহমের খান নামে এক সাংবাদিক অভিযোগ তোলেন, নিজের যোগ্যতা নিয়ে বিভিন্ন সময় নির্বাচন কমিশনের কাছে মিথ্যা তথ্য দিয়েছেন স্মৃতি। ২০০৪, ২০১১ এবং ২০১৪ সালে ভোটের সময় তিনি কমিশনের কাছে দায়ের করা হলফনামায় এক এক বার এক এক রকম তথ্য দিয়েছেন। তাঁর দাবি ছিল, ২০০৪ সালে লোকসভা ভোটের সময় স্মৃতি নাকি জানিয়েছিলেন, তিনি দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ের স্কুল অব করেসপন্ডেন্স থেকে ১৯৯৬ সালে বিএ পাশ করেছেন। আবার গুজরাত থেকে রাজ্যসভা ভোটে লড়ার সময় হলফনামায় জানান, তাঁর শিক্ষাগত যোগ্যতা বি কম পার্ট ওয়ান। ২০১৪-র লোকসভা নির্বাচনে উত্তরপ্রদেশের অমেঠি থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন স্মৃতি। তখন আবার তিনি জানান, দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ের স্কুল অব ওপেন লার্নিং-এ বি কম পার্ট ওয়ান অবধি পড়েছেন তিনি। পরে অবশ্য আদালত এই মামলা খারিজ করে দেয়।
বিতর্কের শেষ অবশ্য এখানেই হয়নি। ২০১৪ সালে একটি অনুষ্ঠানে স্মৃতি ইরানি হঠাৎই দাবি করে বসেছিলেন, তিনি আমেরিকার ইয়েল বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিগ্রিধারী। পরে বিষয়টি নিয়ে বিতর্ক সৃষ্টি হওয়ায় নিজের অবস্থান থেকে পিছিয়ে আসতে বাধ্য হন তিনি।