দ্য ওয়াল ব্যুরো: হাই পারফরম্যান্স কম্পিউটিং-এ (HPC) আর পিছিয়ে নেই ভারত। বিশ্বের দ্রুততম কম্পিউটারের তালিকায় এর মধ্যেই পাকাপাকি জায়গা করে নিয়েছে ভারতের দুই সুপার কম্পিউটার
‘প্রত্যুষ’ ও ‘মিহির’। ‘ন্যাশনাল সুপার কম্পিউটার মিশন’ (NSM)-এর আওতায় ২০১৫ সাল থেকে আরও তিনটি সুপার কম্পিউটার টেক্কা দিচ্ছে চিন, জাপান, আমেরিকা ও ফ্রান্সকে। প্রযুক্তিতে বিপ্লব ঘটিয়ে আরও ১১ টি সুপার কম্পিউটার তৈরি করছেন দেশের তাবড় প্রযুক্তিবিদ ও বিজ্ঞানীরা। চলতি বছর শেষে অথবা আগামী বছর মার্চের মধ্যেই আইআইটি-কানপুর, বেঙ্গালুরুর জওহরলাল নেহরু সেন্টার ফর অ্যাডভান্সড সায়েন্টিফিক রিসার্চ, আইআইটি হায়দরাবাদে বসানো হবে এই সুপার কম্পিউটারগুলোকে।
ইলেকট্রনিক্স ও আইটি মন্ত্রক (MeitY) এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রকের (DST)উদ্যোগে ন্যাশনাল সুপার কম্পিউটার মিশনে সামিল হয়েছে
পুণের সেন্টার ফর ডেভেলপমেন্ট অব অ্যাডভান্সড কম্পিউটিং (C-DAC)এবং বেঙ্গালুরুর ইন্ডিয়ান ইনস্টিটিউট অব সায়েন্স (IISc)। সূত্রের খবর, প্রযুক্তির উন্নয়নে কেন্দ্রের তরফে ৭৫০.৯৭ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে।
সর্বোচ্চ গতি, হাই পারফরম্যান্স কম্পিউটিং ফেসিলিটির ৭০টি সুপার কম্পিউটার বসানোর মতো জায়গা ও নেটওয়ার্ক তৈরি হয়েছে দেশের নামীদামি আইআইটি, ইন্ডিয়ান ইনস্টিটিউট অব সায়েন্স এডুকেশন অ্যান্ড রিসার্চ (আইসার), এবং ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজিতে (এনআইটি) ।
ভারতের গর্ব যে সুপার কম্পিউটারগুলো
ন্যাশনাল সুপার কম্পিউটার মিশন বা এনএসএমের প্রথম মাইলস্টোন
‘পরম শিবায়’ যা ইনস্টল করা হয়েছে বারাণসীর আইআইটি-বিএইচএউতে। গত বছর ফেব্রুয়ারিতে এই সুপার কম্পিউটার উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। ৮৩৭ টেরাফ্লপ ক্যাপাসিটির এইচপিসি তৈরি তে খরচ পড়েছিল ২৩ কোটি ৫০ লক্ষ টাকা।
দ্বিতীয় হাই পারফরম্যান্স সুপার কম্পিউটারের ক্যাপাসিটি ১.৬৬ পেটাফ্লপ। এটি বসানো আছে আইআইটি খড়্গপুর। এটি বানাতে খরচ পড়েছিল ৪৭ কোটি টাকা।
তৃতীয় সুপার কম্পিউটার
‘পরম ব্রহ্ম’ যা আইসার-পুণেতে ইনস্টল করা হয় গত বছর সেপ্টেম্বরে। ৭৯৭ টেরাফ্লপের এই হাই ক্যাপাসিটি সুপার কম্পিউটার তৈরিতে খরচ পড়েছিল ৯৭ কোটি টাকা।
তা ছাড়াও ভারতীয় প্রযুক্তির অন্যতম নিদর্শন দুই সুপার কম্পিউটার
‘প্রত্যুষ’ ও ‘মিহির’। টপ-৫০০ গ্লোবাল ইনস্টিটিউটের তালিকায় ২০১৮ সালে বিশ্বের সেরা ৫০০ সুপার কম্পিউটারের তালিকায় জায়গা করে নিয়েছিল ‘প্রত্যুষ’ ও ‘মিহির’। গত বছরও একশোর মধ্যে তাদের র্যাঙ্ক যথাক্রমে ৪৫ ও ৭৩।

গত বছর পুণের ইন্ডিয়ান ইনস্টিটিউট অব ট্রপিক্যাল মেটেরিওলজিতে (আইআইটিএম) ‘মাল্টি-পেটাফ্লপ’ সুপার কম্পিউটার ‘প্রত্যুষ’-এর উদ্বোধন করেন কেন্দ্রীয় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিমন্ত্রী হর্ষ বর্ধন। অন্যদিকে নয়ডার ন্যাশনাল সেন্টার ফর মিডিয়াম রেঞ্জ ওয়েদার ফোরকাস্টে বসানো হয় সুপার কম্পিউটার ‘মিহির’কে। ‘প্রত্যুষ’ ও ‘মিহির’ ভারতের এই দুই সুপার কম্পিউটারের সর্বোচ্চ গতি ৬.৮ পেটাফ্লপ। পুণের ৪.০ পেটাফ্লপ ইউনিটে বসানো আছে ‘প্রত্যুষ’ এবং নয়ডার ২.৮ পেটাফ্লপ ইউনিটে রয়েছে ‘মিহির’।
এই দুই হাই পারফরম্যান্স কম্পিউটিং ইউনিটের মূল কাজ আবহাওয়া ও জলবায়ুর গতিপ্রকৃতি বর্ণনা করা। বৃষ্টি, সুনামি, ঘূর্ণিঝড়, ভূমিকম্প, বাতাসের গতিবেগ, বজ্রপাত, বন্যা, খরা, ঠান্ডা-গরম সমেত যে কোনও বিষয়ে উন্নত পূর্বাভাস দিতে সক্ষম এই দুই সুপার কম্পিউটার।

২০০৮ সালে ৪০টি টেরাফ্লপ কম্পিউটার বানিয়েছিল ভারত। ২০১৩-১৪ সালে প্রথম পেটাফ্লপ বানানো হয়। চিন, জাপান, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের দ্রুততম কম্পিউটারের সঙ্গে পাল্লা দিতে ২০১৭ সালে মাল্টি পেটাফ্লপ সুপার কম্পিউটার বানানোর কাজ শুরু হয়। খরচ পড়ে প্রায় ৪৫০ কোটি টাকা। ধীরে ধীরে ‘প্রত্যুষ’ ও ‘মিহির’-এর প্রযুক্তিতে আরও আপডেট হচ্ছে বলে জানা গেছে। বিশ্বের ১৬৫তম স্থান থেকে ইতিমধ্যেই তারা চলে এসেছে একশোর তালিকায়। ভারতের আরও চারটি সুপার কম্পিউটার হল সহস্রা (XC40), আদিত্য, টিআইএফআর কালার বোসন, আইআইটি দিল্লি এইচপিসি।
এই মুহূর্তে চিনের তৈরি
সানওয়ে তাইহুলাইট বিশ্বের সবচেয়ে দ্রুততম কম্পিউটার। সেরা পাঁচশোর তালিকায় এক নম্বরে রয়েছে সানওয়ে তাইহুলাইট। ২০ পেটাবাইট (২০ লক্ষ গেগাবাইট) জায়গা সম্পন্ন এই কম্পিউটারটির গতি ৯৩.০১ পেটাবাইট ফ্লপস।
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সুপার কম্পিউটার
ক্রে টাইটান। বিজ্ঞানভিত্তিক নানা গবেষণার জন্য ওক রিজ ন্যাশনাল ল্যাবরেটরি এই সুপার কম্পিউটারটিকে ব্যবহার করছে। ৪০ পেটা বাইট (৪০ লক্ষ গেগা বাইট) ডেটা ধারন করার ক্ষমতা রয়েছে এই সুপার কম্পিউটারের। স্পিড ১৭.৫৯ পেটাবাইট ফ্লপ প্রতি সেকেন্ড (ফ্লোটিং-পয়েন্ট অপারেশনস)।
জাপানের সুপার কম্পিউটার
ফুজিটসু কে। কম্পিউটারটি। এই কম্পিউটারের ডেটা ট্রান্সফারের স্পিড ১০.৫১ পেটাবাইট ফ্লপ প্রতি সেকেন্ড। ২০১১ সালে তৈরি করা হয় এই সুপার কম্পিউটার।