1.webp)
নবান্নে সাংবাদিক বৈঠকে আলাপন বন্দ্যোপাধ্যায় এবং এডিজি আইনশৃঙ্খলা মনোজ ভার্মা।
শেষ আপডেট: 2 July 2024 19:15
দ্য ওয়াল ব্যুরো: রাজ্যে একের পর এক গণপিটুনির ঘটনা কড়া হাতে মোকাবিলা করার কথা জানাল রাজ্য। একইসঙ্গে
মৃতদের পরিবারের একজন সদস্যকে স্পেশাল হোমগার্ডের চাকরি এবং পরিবার পিছু ২ লক্ষ টাকা ক্ষতিপূরণের ঘোষণা করা হল।
মঙ্গলবার নবান্নে সাংবাদিক বৈঠক থেকে একথা জানান মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মুখ্য উপদেষ্টা আলাপন বন্দ্যোপাধ্যায় এবং এডিজি আইনশৃঙ্খলা মনোজ ভার্মা।
সম্প্রতি রাজ্যজুড়ে ঘটে চলা একের পর এক গণপিটুনির ঘটনায় ক্ষুব্ধ মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্য়োপাধ্যায়ও। সূত্রের খবর, এবিষয়ে এদিন নবান্নে পদস্থ আধিকারিকদের নিয়ে বৈঠকে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন তিনি। পুলিশ প্রশা্সনের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি। এরপরই শীর্ষ আধিকারিকদের তরফে সাংবাদিক বৈঠক করা হয়।
আলাপন বলেন, "যেকোনও মূত্যুই দুঃখজনক। অর্থ বা চাকরি দিয়ে সেই ক্ষতিপূরণ করা সম্ভব নয়। তবে সরকারের তরফে পরিবারগুলির পাশে থাকার জন্য এই সিদ্ধান্ত।"
এডিজি আইনশৃঙ্খলা মনোজ ভার্মা বলেন, "জনগণকে বলব, হাতে আইন তুলে নেবেন না। কোথাও কোনও সমস্যা থাকলে পুলিশকে জানান। কিন্তু তা না করে হাতে আইন তুলে নিলে আমরা বরদাস্ত করব না।"
সম্প্রতি রাজ্যে একাধিক গণপিটুনির ঘটনা ঘটেছে। কয়েকটি ক্ষেত্রে মৃত্যুর ঘটনাও ঘটেছে। এর পাশাপাশি চোপড়ায় এক তরুণ তরুণীকে নৃশংসভাবে মারধরের ভিডিও ভাইরাল হয়েছে। অভিযুক্ত তৃণমূল নেতাকে ইতিমধ্যে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। একের পর এক ঘটনা সামনে আসায় রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে বিরোধীরা।
এব্যাপারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য রাজ্যের প্রতিটি জেলার পুলিশ সুপার এবং রেলের পুলিশ সুপারদের উদ্দেশে এক নির্দেশিকায় বলা হয়েছে, এ ব্যাপারে সোশ্যাল মাধ্যমে এবং টিভি চ্যানেলে সচেতনতামূলক প্রচার করতে হবে। নজর রাখতে হবে এই সংক্রান্ত ভুয়ো খবরের দিকেও।ভুয়ো খবরের অভিযোগ প্রমাণিত হলে সঙ্গে সঙ্গে পদক্ষেপ করতে হবে। উত্তেজনাপ্রবণ এলাকাগুলির প্রতি বাড়তি নজরদারি রাখতে হবে।
প্রসঙ্গত, মঙ্গলবার এই প্রসঙ্গে কড়া প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন রাজ্যপাল সিভি আনন্দ বোস। রাজ্যপালের কথায়, 'বাংলার প্রতিটি ক্ষেত্রে এখন খুন, ধর্ষণ, মারধরের ঘটনা ঘটে। বাংলার রাস্তায় রক্ত ছাড়া কিছুই দেখা যায় না। আর গ্রামগুলিতে মৃত্যুমিছিল হচ্ছে প্রতিদিন।''
বোসের আরও অভিযোগ, পুলিশের একটা বড় অংশে অপরাধবোধ ঢুকে গেছে। কে চোর আর কে পুলিশ সেটাই মাঝেমধ্যে বোঝা যাচ্ছে না।
এরপরই প্রশাসনের শীর্ষ মহলের তরফে এদিনের সাংবাদিক বৈঠক থেকে মানুষকে আইন মেনে চলার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে পুলিশকে নজরদারি ও জনসংযোগ বাড়ানোর কথা বলা হয়েছে।