দ্য ওয়াল ব্যুরো: খুব কম খরচে ফোন কল, নিখরচায় বা স্বল্প মূল্যে ডেটা পরিষেবার পথে হাঁটারই সিদ্ধান্ত নিতে চলেছে টেলিকম সংস্থাগুলি। বিপুল আর্থিক সঙ্কট কাটাতে এই পথ বেছে নেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছে টেলি সংস্থাগুলির সংগঠন সিওএআই।
সম্প্রতি টেলি সংস্থাগুলির সংগঠন সিওএআই কেন্দ্রের কাছে ত্রাণ প্রকল্পের আর্জি জানিয়েছিল। টেলিকম সঙ্কট কাটাতে ক্যাবিনেট সচিবের তত্ত্বাবধানে সংশ্লিষ্ট দফতরের সচিবদের নিয়ে কমিটি গড়েছিল কেন্দ্র। বিভিন্ন সরকারি চার্জ কমিয়ে ত্রাণ প্রকল্পের সম্ভাবনা খতিয়ে দেখছে সেই কমিটি।
টেলিকম দফতর (ডট) সূত্রের খবর, আর্থিক মন্দার বিষয়টির বিভিন্ন দিক খতিয়ে দেখে সমাধানের পরামর্শ দেবেন সচিবরা। যেমন, স্পেকট্রামে ব্যবহারের চার্জ কমানো, বকেয়া, বকেয়ার উপর জরিমানা মকুব-সহ নানা দিক খতিয়ে দেখা হবে। প্রাথমিকভাবে কমিটিতে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, মোবাইলে কথা বলা বা ডেটা পরিষেবার জন্য ন্যূনতম মাসুল ধার্য করতে হবে টেলি সংস্থাগুলিকে। নামমাত্র খরচে পরিষেবার সুযোগ করে দিতে হবে গ্রাহকদের। ভোডাফোন আইডিয়া, ভারতী এয়ারটেলের বিপুল লোকসানের বোঝা কমাতে এই সিদ্ধান্ত কার্যকরী হবে বলেই মনে করছে টেলিকম দফতর। পাশাপাশি দীর্ঘ মেয়াদে ব্যবসা করাও কিছুটা সহজ হবে।
টেলিকম বাজারে রিলায়েন্স জিও প্রবেশ করার পরেই উল্টে গিয়েছে আগের সব হিসাব নিকাশ। প্রতিযোগিতা বেড়েছে বহুগুণ। কোম্পানিগুলির মুনাফা কমেছে। জুলাই-সেপ্টেম্বরের হিসেবে ভোডাফোন আইডিয়ার লোকসান বেড়ে হয়েছে ৫০,৯২২ কোটি টাকা। গত ২৫ অক্টোবর সুপ্রিম কোর্ট এক রায়ে লাইসেন্স ফি ও স্পেকট্রাম ব্যবহারের চার্জ বাবদ ভোডাফোন আইডিয়াকে ‘অ্যাডজাস্টেড গ্রস রেভেনিউ’-এর (এজিআর) জন্য ২৮,৩০৯ কোটি বকেয়া টাকা দ্রুত মেটানোর কথা বলে। ডটের হিসেব মেনে লাইসেন্স ও স্পেকট্রামের ফি বাবদ বকেয়া ৯২ হাজার কোটি টাকা মেটাতে সংস্থাগুলিকে সম্প্রতি নির্দেশ দিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট। প্রবল আর্থিক সঙ্কটের মধ্যে এই নির্দেশ আসার পরই কেন্দ্রের কাছে সাহায্যের বার্তা পাঠিয়েছে ভোডাফোন আইডিয়া, এয়ারটেলের মতো সংস্থা।
স্পেকট্রাম ব্যবহারের জন্য ভারতী এয়ারটেল লিমিটেড ও ভোডাফোন ইন্ডিয়া লিমিটেডের থেকে ৪৯ হাজার ৯৯০ কোটি টাকা চেয়েছিল সরকার। এই অর্থের কিছুটা মকুব করার জন্য আবেদন জানিয়েছিল দুই সংস্থা। সরকার তাদের আর্জি বিবেচনা করে দেখছে বলে খবর।