
ফাইল ছবি।
শেষ আপডেট: 17 March 2025 19:33
দ্য ওয়াল ব্যুরো: গত বছরের শেষ দিনে অর্থাৎ ২০২৪ এর ৩১ ডিসেম্বর রাজ্যের সিইও (মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক) পদ থেকে অবসর নিয়েছেন আরিজ আফতাব। তারপর আড়াই মাস অতিক্রান্ত। কমিশন (Election Commission of India)এখনও সিইও (CEO)পদে কাউকে নিযুক্ত না করার নেপথ্যে বিজেপির চক্রান্ত দেখছে শাসকদল।
নিয়ম অনুযায়ী, সিইও পদের জন্য রাজ্যকে এক বা একাধিক নামের প্যানেল পাঠাতে হয়। সেই তালিকা থেকে এক জনকে সিইও হিসাবে বেছে নেয় নির্বাচন কমিশন। সূত্রের খবর, এ ব্যাপারে নবান্ন থেকে দু দু'বার সিইওর তালিকাও পাঠানো হয়েছিল। কিন্তু কমিশনের তরফে দু'বারই নামের তালিকা বাতিল করা হয়েছে।
তৃণমূলের অভিযোগ, বঙ্গ বিজেপির অঙ্গুলিহেলনেই রাজ্যের পাঠানো নামের তালিকায় সম্মতি দেয়নি নির্বাচন কমিশন। সূত্রের খবর, এ ব্যাপারে বিজেপির তরফেও কয়েকটি নাম পাঠানো হয়েছে। এখন দেখার, সেই নামের মধ্যে থেকে রাজ্যের সিইও হিসেবে কারও নাম কমিশন চূড়ান্ত করে কিনা।
এ ব্যাপারে তৃণমূলের রাজ্য সহ সভাপতি জয়প্রকাশ মজুমদার বলেন, "মোদী সরকারের আমলে নির্বাচন কমিশনের মতো নিরপেক্ষ সংস্থাও বিজেপির শাখা সংগঠনে পরিণত হয়েছে। এটা দুর্ভাগ্যের। যে কারণে দিল্লি, মহারাষ্ট্র, হরিয়ানার মতো কয়েকটি রাজ্যে কমিশনের সাহায্যে ভোটার লিস্টে ফলস ভোটারের নাম ঢুকিয়ে ওরা ভোটে জিতেছে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ওদের চুরিটা ধরে ফেলেছে। তাই সম্ভবত, রাজ্যের পাঠানো নামের তালিকা ওদের পছন্দ হয়নি।"
শাসক শিবিরের অভিযোগ, ২৬ এর ভোটে বাংলা দখলে মরিয়া বিজেপি। যে কারণে সম্ভবত এবারেই প্রথম চিরাচরিত প্রথা ভেঙে রাজ্যের মুখ নির্বাচন কমিশনার পদে নবান্নের পাঠানো নামের পরিবর্তে নিজেদের পছন্দের কাউকে দায়িত্ব দিতে পারে দিল্লি। যদিও জয়প্রকাশ মনে করিয়ে দিয়েছেন, "সিইও পদে বিজেপি নিজেদের পছন্দের লোক বসাতেই পারেন, কিন্তু ভোট তো দেবেন বাংলার মানুষ। ফলে এখানে বিজেপির ঘুরে দাঁড়ানোর কোনও সম্ভাবনা নেই। কারণ, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় চুরিটা ধরে ফেলেছেন!"
প্রসঙ্গত, প্রধানমন্ত্রী, লোকসভার বিরোধী দলনেতা এবং প্রধান বিচারপতি তিনজনকে নিয়ে গঠিত কমিটির মাধ্যমে এতদিন দেশের ইলেকশন কমিশনার নিয়োগ হত। মোদী সরকার বিল এনে প্রধান বিচারপতিকে বাদ দিয়ে সেখানে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে যোগ করার প্রস্তাব দিয়েছে। বিষয়টি এখন আদালতের বিচারাধীন।
তারই মধ্যে রাজ্যের সিইও নিয়োগ নিয়ে বড় অভিযোগ সামনে আনল শাসকদল। যদিও বিষয়টিকে গুরুত্ব দিতে নারাজ বিজেপি। দলের মুখপাত্র তথা রাজ্যসভার সাংসদ শমীক ভট্টাচার্য বলেন, "বিজেপি তৃণমূলের মতো নোংরা রাজনীতি করে না। আসলে পায়ের তলার মাটি সরে গেছে বলেই ওরা এখন সবকিছুতে ইলেকশন কমিশনের ভূত দেখছে।"