.jpeg)
গ্রাফিক্স- দ্য ওয়াল।
শেষ আপডেট: 23 January 2025 20:56
দ্য ওয়াল ব্যুরো: সুন্দরবন থেকে জঙ্গলমহল! দলমার দামালের দোসর হিসেবে গত এক মাসে বারে বারে হানা দিয়েছে রয়্যাল বেঙ্গল টাইগার।
শুরুটা হয়েছিল বাঘিনি জিনাতকে দিয়ে। তারপর পুরুলিয়ার পাশাপাশি সুন্দরবনেও বেড়েছে বাঘের আনাগোনা। অন্যদিকে বেড়েছে হাতির উপদ্রবও। পরিস্থিতির মোকাবিলায় বাঘ, হাতির গতিবিধির ওপর নজরদারি বাড়াতে স্থানীয়দের যুক্ত করার জন্য বুধবারই ইঙ্গিত দিয়েছেন রাজ্যের প্রশাসনিক প্রধান মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তারই সঙ্গে এবার বাঘ-হাতির যাতায়াতের পথে বাড়তি ট্র্যাপ ক্যামেরা লাগাতে চলেছে বন দফতর।
বুধবার আলিপুরদুয়ারের প্রশাসনিক সভা থেকে মুখ্যসচিবের উদ্দেশে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, "এবার বাঘ, হাতির মুভমেন্ট দেখার জন্য লোকাল ট্রাইবাল ছেলেদের ইনভলভ করো।"
সূত্রের খবর, রাজ্যের প্রশাসনিক প্রধানের কাছ থেকে ইঙ্গিত পাওয়ার পর ইতিমধ্যে জঙ্গলমহল এবং উত্তরবঙ্গের বনাঞ্চল সংলগ্ন এলাকার তরুণদের নিয়োগের বিষয়ে প্রাথমিক প্রক্রিয়াও শুরু করেছেন প্রশাসন।
এর পাশাপাশি এবার ট্র্যাপ ক্যামেরা লাগানোর বিষয়েও তোড়জোড় শুরু হয়েছে। প্রশাসন সূত্রের খবর, ইতিমধ্যে জঙ্গলমহলে বাঘ-হাতির করিডরে কিছু ট্র্যাপ ক্যামেরা লাগানো হয়েছে। একইভাবে উত্তরবঙ্গে এবং সুন্দরবনের গভীর বনাঞ্চলে বসানো হয়েছে ট্র্যাপ ক্যামেরা।
এবার সেই ট্র্যাপ ক্যামেরার সংখ্যা আরও বৃদ্ধি করা হচ্ছে। বস্তুত, এই জানুয়ারিতেই গত দু'সপ্তাহে মৈপীঠে সাতবার হানা দিয়েছে বাঘ। একইভাবে জিনাতের পর পুরুলিয়া-বেলপাহাড়ির জঙ্গলমহলেও আরও দু'বার বাঘের পায়ের ছাপ পেয়েছেন বাসিন্দারা। বন দফতর সূত্রের খবর, পুরুলিয়া সীমান্তে আরও একটি বাঘ ঘাঁটি গেড়ে রয়েছে বলে খবর।
ঘন ঘন বাঘের আগমন ঘিরে স্বভাবতই জঙ্গল লাগোয়া এলাকার বাসিন্দাদের মধ্যে তীব্র আতঙ্কের পরিবেশও তৈরি হয়েছে। বনকর্তাদের অভিযোগ, পড়শি রাজ্য থেকে ঘন ঘন বাঘ এরাজ্যে ঢুকে পড়লেও গতিবিধির বিষয়ে পড়শি রাজ্য থেকে কোনও তথ্য দেওয়া হচ্ছে না।
বুধবার আলিপুর দুয়ারের সভা থেকে এ নিয়ে তীব্র ক্ষোভও প্রকাশ করেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। নাম না করে ওড়িশা, ঝাড়খণ্ড রাজ্যের প্রতি মুখ্যমন্ত্রীর প্রশ্ন, "বাঘ পালিয়ে আসে কেন রোজ রোজ? তোমার বাঘ তুমি সামলাতে পারছো না কেন!"
তবে গত এক দশকে বাংলার জঙ্গল যেভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে, সেটাও বাঘ-হাতির ঘনঘন আগমনের একটি বড় কারণ বলে মনে করছেন বনকর্তারা। এহেন পরিস্থিতিতে নজরদারি বাড়াতে স্থানীয়দের নিযুক্ত করার পাশাপাশি বাঘ, হাতির সম্ভাব্য যাতায়াতের পথে বাড়তি ট্র্যাপ ক্যামেরা লাগানোর প্রক্রিয়া শুরু করেছে বন দফতর।