
শেষ আপডেট: 21 September 2020 18:30
অম্বালা বায়ুসেনা ঘাঁটির ১৭ নম্বর স্কোয়াড্রনে যোগ দিয়েছে পাঁচ ফরাসি রাফাল ফাইটার জেট। এই ১৭ গোল্ডেন অ্যারো স্কোয়াড্রন ফের একবার ইতিহাস লিখতে চলেছে। প্রথমবার রাফালের মতো দুর্ধর্ষ ফাইটার জেট ওড়াবেন এক মহিলা এয়ার ফাইটার পাইলট। চিনের পঞ্চম প্রজন্মের জে-২১ চেংড়ু যুদ্ধবিমানের মোকাবিলা করতে পারে ফরাসি রাফাল। মিসাইল ছোড়ার প্রযুক্তিও আছে রাফালের। গর্বের সঙ্গে এমন যুদ্ধবিমানের ককপিটের হাল ধরবেন অবনী।
অবনী চতুর্বেদী (ডান দিকে), মোহনা সিং ও ভাবনা কান্থ[/caption]
মধ্যপ্রদেশের ছোট্ট জেলার রাওয়ার বাসিন্দা অবনী। জন্ম ১৯৯৩ সালে। বাবা দিনকর চতুর্বেদী মধ্যপ্রদেশ সরকারি দফতরের ইঞ্জিনিয়ার। দেওলান্দ এলাকার স্কুলে পড়াশোনা শেষ করে রাজস্থানের বনস্থালি ইউনিভার্সিটি থেকে বিটেক করেন ২০১৪ সালে। এয়ার ফোর্স কমন অ্যাডমিশন টেস্টে পাস করে হায়দরাবাদের এযার ফোর্স অ্যাকাডেমিতে যোগ দেন অবনী। মেয়ের গর্বে গর্বিত বাবা জানিয়েছেন, পড়াশোনা ছাড়াও খেলাধূলায় প্রবল আগ্রহ অবনীর। দাবা, টেবিল টেনিসে অনেক পুরস্কার আছে তাঁর। ছবি আঁকতেও ভালবাসেন বায়ুসেনার এই দক্ষ পাইলট। মেয়ে একসময় কল্পনা চাওলা হতে চাইত, বলেছেন অবনীর মা সবিতা। রকেটে চেপে মহাকাশ জয় করতে চেয়েছিল। এখন ফাইটার জেট উড়িয়ে ভারতের আকাশ জয় করবে। অবনীর দাদাও ভারতীয় সেনাবাহিনীর অফিসার পদমর্যাদায় রয়েছেন।
২৫ বছর বয়সে এয়ার ফোর্স অ্যাকাডেমি থেকে পাস করে বায়ুসেনায় ফাইটার পাইলট হিসেবে যোগ দেন ২০১৬ সালে। বিদার থেকে তৃতীয় পর্বের প্রশিক্ষণ শেষ করে সুখোই ও তেজসের মতো যুদ্ধবিমান ওড়ানোর দক্ষতা অর্জন করেন অবনী। তাঁর সঙ্গেই মোহনা সিং জিতারওয়াল ও ভাবনা কান্থকে ভারতীয় বায়ুসেনার ফইটার পাইলট হিসেবে ঘোষণা করা হয়। চলতি বছরেই রাষ্ট্রপতি রামনাথ কোবিন্দের হাত থেকে নারীশক্তি পুরস্কার পান অবনী চতুর্বেদী।
সমুদ্র ও আকাশে বৈষম্যের সীমা ভেঙেছে। নারী ও পুরুষে ভেদাভেদ না করে দক্ষতা ও সাহসের ভিত্তিতেই দক্ষ অফিসারদের বেছে নেওয়ার রীতি শুরু হয়েছে। ভারতীয় নৌবাহিনীর প্রথম মহিলা পাইলটের দায়িত্ব পেয়েছিলেন লেফটেন্যান্ট শিবাঙ্গী স্বরূপ। সম্প্রতি যুদ্ধজাহাজেও মহিলা লেফটেন্যান্ট অফিসারদের নিয়োগ করা শুরু হয়েছে। সে দায়িত্ব পেয়ে নজির গড়েছেন সাব লেফটেন্যান্ট কুমুদিনী ত্যাগী ও সাব লেফটেন্যান্ট রীতি সিং।
বছর কয়েক আগেই যুদ্ধবিমান ওড়ানোর সুযোগ পেয়েছেন মহিলা এয়ার ফোর্স অফিসারেরা। প্রশংসার বন্যা বয়েছে সারা দেশে। ২০১৫ সালের প্রজাতন্ত্র দিবসের প্যারেডেও নেতৃত্ব দিয়েছিলেন এক মহিলা অফিসার। নজির তৈরি হয়েছিল সেবার। প্রথম মহিলা ফ্লাইট কম্যান্ডার হিসেবে যোগ দিয়ে ইতিহাস তৈরি করেছিলেন শালিজা ধামি। গাজিয়াবাদের হিন্ডন এয়ারবেসের প্রথম মহিলা ফ্লাইট কম্যান্ডারও ছিলেন শালিজা। দেখিয়ে দিয়েছিলেন মহিলারা চাইলে যুদ্ধবিমানের ককপিটেরও হাল ধরতে পারেন দক্ষতার সঙ্গেই।