অতীত আঁকড়ে থাকলে চলবে না: দাউদ-হাফিজ়ের দায় ঝেড়ে ফেললেন পাক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান
দ্য ওয়াল ব্যুরো: অতীতের দায়িত্ব তো তিনি বর্তমানে নিতে পারেন না!-- পুলিশের হিটলিস্টে থাকা পাক সন্ত্রাসবাদী দাউদ ইব্রাহিম প্রসঙ্গে এ কথাই বললেন পাক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান। বৃহস্পতিবার একটি সাংবাদিক বৈঠকে তিনি বলেন, "আমরা অতীত নিয়ে বাঁচতে পার
শেষ আপডেট: 29 November 2018 14:44
দ্য ওয়াল ব্যুরো: অতীতের দায়িত্ব তো তিনি বর্তমানে নিতে পারেন না!-- পুলিশের হিটলিস্টে থাকা পাক সন্ত্রাসবাদী দাউদ ইব্রাহিম প্রসঙ্গে এ কথাই বললেন পাক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান। বৃহস্পতিবার একটি সাংবাদিক বৈঠকে তিনি বলেন, "আমরা অতীত নিয়ে বাঁচতে পারি না। পাকিস্তানের ‘মোস্ট ওয়ান্টেড’ তালিকায় থাকা অনেকেও এই মুহূর্তে আছে ভারতের আশ্রয়ে। আমরা পাকিস্তানকে জঙ্গি আস্তানা বানাতে অনুমতি দিই না। তাই এ নিয়ে আমাদের আগ্রহও নেই।"
১৯৯৩ সালের ভয়াবহ মুম্বাই বিস্ফোরণের মূল চক্রী ছিলেন দাউদ ইব্রাহিম। ২৫৭ জনের প্রাণ নিয়েছিল ওই বিস্ফোরণ। আহত হয়েছিলেন ৭০০ জন। পাকিস্তানের বিরুদ্ধে বারবার অভিযোগ উঠেছে দাউদকে আশ্রয় দেওয়ার লুকিয়ে রাখার। দাউদের পাকিস্তানে থাকার খবর ভারতীয় গোয়েন্দাদের কাছে থাকলেও তা বিভিন্ন সময় অস্বীকার করেছে পাকিস্তান। যদিও ভারতের দাবির পাশেই দাঁড়িয়েছে রাষ্ট্রপুঞ্জ। এই বছরেই পৃথিবীর সব থেকে বিপজ্জনক সন্ত্রাসবাদী সংগঠনের পাশাপাশি সব থেকে বিপজ্জনক জঙ্গিদের একটি তালিকা প্রকাশ করে রাষ্ট্রপুঞ্জ। সেখানে দাউদ ইব্রাহিমের নামের সঙ্গে তার করাচির ঠিকানাও প্রকাশ করে রাষ্ট্রপুঞ্জ। সে অভিযোগই কার্যত উড়িয়ে দিলেন ইমরান খান।

২০০৮ সালের ২৬ নভেম্বর ফের হামলা হয় মুম্বইয়ে। মূল চক্রী হিসেবে দোষী সাব্যস্ত হন হাফিজ় সইদ। তিনিও ২০০৯ সালে পাক আদালতের ক্লিনচিট পাওয়ার পরে পাকিস্তানে এক রকম মুক্ত অবস্থায় ঘুরে বেড়ান বলে অভিযোগ। তাঁর নামে আমেরিকা ১০ মিলিয়ন ডলারের পুরস্কারও ঘোষণা করেছে। প্রধানমন্ত্রী ইমরানের দাবি, দাউদ ইব্রাহিম এবং হাফিজ় সইদের বিষয়টি আগের জমানার সূত্রে তাঁর কাছে এসেছে। সেই ইতিহাসের জন্য তাঁকে দায়ী করা ঠিক হবে না। একই সঙ্গে তাঁর মন্তব্য, ‘‘ইতিহাস আঁকড়ে বসে থাকলে চলবে না। আমাদের ভবিষ্যতের দিকে তাকাতে হবে।"
ভারতের সঙ্গে শান্তির সম্পর্ক তৈরি করতে নিজের আগ্রহের কথা বিভিন্ন সময় বিভিন্ন মহলে জানিয়ে চলেছেন সদ্য নির্বাচিত পাক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান। কিন্তু শুধু কথায় যে কিছু হওয়ার নয়, সেই কথাও ইসলামাবাদকে সাফ জানিয়ে দিয়েছে নয়াদিল্লি। বুধবারই সার্ক সম্মেলনে যোগ দিতে পাকিস্তানের আমন্ত্রণ প্রত্যাখ্যান করে সুষমা জানিয়েছিলেন, ‘‘আমন্ত্রণ এসেছে কিন্তু তাতে আমরা সদর্থক সাড়া দিচ্ছি না। ভারতের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসে মদত দেওয়া বন্ধ না করা পর্যন্ত পাকিস্তানের সঙ্গে কোনও আলোচনা হবে না। আমরা সার্ক সম্মেলনে যোগ দিচ্ছি না।’’
এক দিকে এই দুই সন্ত্রাসবাদীকে আশ্রয় দান, অন্য দিকে শান্তি আলোচনার আহ্বান, এই দ্বিচারিতা নিয়েই আপত্তি ভারতের। আর ইমরানের দায় ঝেড়ে ফেলা বক্তব্য, কবে কী হয়েছে, সেই ইতিহাসের জন্য তাঁকে দায়ী করা ঠিক হবে না।