
শেষ আপডেট: 24 March 2022 07:54
দ্য ওয়াল ব্যুরো : গত বছর থেকেই পাকিস্তানের সেনাপ্রধান কামার জাভেদ বাওয়েজার সঙ্গে বিরোধ চলছে প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের (Imran Khan)। শুক্রবার ইমরানের তেহরিক ই ইনসাফ পার্টির সরকারের বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাব আনছেন বিরোধীরা। তার আগে বুধবার আচমকা পাকিস্তানের সেনাবাহিনী সম্পর্কে মতবদল করলেন ইমরান (Imran Khan)। এর আগে তিনি ভারতীয় সেনার প্রশংসা করে বলেছিলেন, তারা দুর্নীতিপরায়ন নয়। কিন্তু বুধবার তিনি পাকিস্তানের সেনাবাহিনীর প্রশংসা করে বলেন, তারাই দেশকে ঐক্যবদ্ধ রেখেছে। না হলে বিভিন্ন জনজাতি এতদিনে পাকিস্তান থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যেত (Imran Khan)।
এর পাশাপাশি ইমরান (Imran Khan) চেষ্টা চালাচ্ছেন যাতে তাঁর সহযোগী দল এমকিউএমের সাংসদরা অনাস্থা ভোটে তাঁর বিপক্ষে ভোট না দেন। পাকিস্তানের অ্যাটর্নি জেনারেল সুপ্রিম কোর্টে আর্জি জানিয়ে বলেছেন, যে সাংসদরা নিজেদের দলের সরকারের বিরুদ্ধে ভোট দেবেন, সংবিধানের ৬৩-এ ধারায় তাঁদের যেন আজীবন সংসদ থেকে বহিষ্কার করা হয়।
শুক্রবার পাকিস্তানের সংসদে অনাস্থা প্রস্তাব পেশ করা হবে ঠিকই কিন্তু এদিনই ভোটাভুটি হবে না। এক সাংসদের মৃত্যুর জন্য অনাস্থা প্রস্তাব পেশের পরেই সংসদের অধিবেশন স্থগিত হয়ে যাবে। পাকিস্তানের সংবিধান অনুযায়ী, অনাস্থা প্রস্তাব পেশের তিন দিন পরে ও সাত দিনের মধ্যে ভোটাভুটি করতে হয়।
পাকিস্তানের সেনাকর্তারা আপাতত রাজনৈতিক ডামাডোল থেকে দূরে থাকার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। কিন্তু একটি সূত্রে খবর, রাওয়ালপিন্ডিতে সেনাবাহিনীর সদর দফতর থেকে ইমরানকে বলা হয়েছে, তিনি যেন অবিলম্বে পদত্যাগ করেন। তাহলে সহজেই একটি অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠিত হতে পারবে। ক্ষমতায় আসার পরে ইমরান প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, ‘নয়া পাকিস্তান’ গড়ে তুলবেন। কিন্তু বাস্তবে তিনি অর্থনীতির পতন ঠেকাতে ব্যর্থ হয়েছেন। তাঁর আমলে চিন থেকে আরও বেশি ঋণ নিতে হয়েছে পাকিস্তানকে।
আফগানিস্তান ও ইউক্রেন নিয়ে আমেরিকা ও পশ্চিমী শক্তিগুলির বিরুদ্ধে মন্তব্য করেছিলেন ইমরান। যদিও তালিবান কাবুল দখল করার পরে নতুন সমস্যায় পড়েছে পাকিস্তান। মোল্লা ইয়াকুবের নেতৃত্বে তালিবান সরকারের সঙ্গে প্রবল শত্রুতা সৃষ্টি হয়েছে হাক্কানি নেটওয়ার্কের। এই হাক্কানি নেটওয়ার্ক পাকিস্তানের গোয়েন্দা সংস্থা আইএসআইয়ের ঘনিষ্ঠ।
আরও পড়ুন : Umar Khalid : দিল্লি দাঙ্গার মামলায় জামিন পেলেন না উমর খালিদ