
শেষ আপডেট: 24 May 2023 02:04
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ইসলামাবাদ হাই কোর্টের নির্দেশ আছে, ৩১ মে পর্যন্ত ইমরান খানকে (Imran Khan) গ্রেফতার করা যাবে না। কিন্তু প্রাক্তন পাক প্রধানমন্ত্রীর আশঙ্কা মঙ্গলবার তাঁকে সেনা বাহিনী গ্রেফতার (arrested) করে নিতে পারে। মঙ্গলবার তাঁর ইসলামাবাদ হাই কোর্টে (Islamabad High Court) যাওয়ার কথা। বাকি মামলায় জামিনের মেয়াদ বৃদ্ধির আবেদন নিয়ে শুনানিতে হাজির থাকার কথা তাঁর।
আদালতের নির্দেশ উপেক্ষা করে সেনা কি প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রীকে গ্রেফতার (arrested) করতে পারে? আসলে ইমরান ও তাঁর অনুগামীদের বিরুদ্ধে সেনা আইনে মামলা দায়ের হয়েছে। ওই আইনে হওয়া মামলাগুলি হাই কোর্টের (Islamabad High Court) নির্দেশের আওতায় পড়ে না। ফলে সেনা চাইলে প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রীকে গ্রেফতার করতেই পারে।
এদিকে, ইমরানের প্রচার করা একটি ভিডিও বার্তা নিয়েও জোর জল্পনা শুরু হয়েছে পাকিস্তানে। প্রশ্ন ঘোরাফেরা করছে, তাহলে কি চলতি অশান্তির অবসানে ইমরানের পরিণতিও প্রাক্তন দুই প্রধানমন্ত্রী এবং এক রাষ্ট্রপতির মতো হতে চলেছে। দেশে রাজনৈতিক অস্থিরতার মুখে দেশ ছাড়তে হয়েছিল প্রয়াত বেনজির ভুট্টো, নওয়াজ শরিফ এবং প্রয়াত জেনারেল পারভেজ মুশারফকে। তিনজনকেই দেশছাড়া করেছিল সেনা বাহিনী।

ভিডিও বার্তায় ইমরান বলেছেন, ‘আমাকে বলা হচ্ছে, আমি কি দেশ ছাড়তে রাজি আছি। কিন্তু আমি কেন দেশ ছাড়তে যাব? এটা আমার দেশ, আমার ঘর। আমি বরং ঠিক করেছি, বিদেশে যে টুকু সম্পত্তি আছে তা বেচে দেশে নিয়ে আসব।’
কারা তাঁকে দেশ ছাড়ার কথা বলেছে তা স্পষ্ট করেননি প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী। তবে মনে করা হচ্ছে তিনি পাক সেনাকে ইঙ্গিত করেছেন। নানা মহলেও খবর, গত ৯ মে ইমরান সমর্থকদের সেনা ছাউনিতে হামলার ঘটনার বড় ধরনের বদলা নিতে চাইছে সেনা বাহিনী। সেনা প্রধান আসিম মুনির ইতিমধ্যেই আর্মি রুল জারি করেছেন। সেনা ছাউনিতে হামলায় অভিযুক্তদের সেনা আদালতে সেনার আইনে বিচার হবে। অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে যে ধরনের অপরাধে যুক্ত থাকার মামলা দায়ের করা হয়েছে তাতে সর্বোচ্চ সাজা যাবজ্জীবন কারাদণ্ড, এমনকী মৃত্যুদণ্ডও হতে পারে।
বিভিন্ন সূত্রের খবর, সেনা আইনে গ্রেফতারি আটকানো কঠিন হতে পারে ইমরানের পক্ষে। অতীতে এই ধরনের পরিস্থিতিতে সেনা দেশত্যাগের পরামর্শ দিয়ে সংঘর্ষ বিরতির প্রস্তাব দিয়েছে। আর সংঘর্ষ জারি থাকলে ইমরানের গ্রেফতার হওয়া ছাড়া উপায় নেই। দ্বিতীয়টিতে অশান্তি আরও বেড়ে যেতে পারে বুঝেই দেশত্যাগের জন্য চাপ দেওয়া হয়েছে বলে খবর। তাঁকে লন্ডনে যেতে বলা হয়েছে বলেও খবর।
বাস্তব পরিস্থিতি বিচার করে ইমরান গত তিন চারদিন যাবৎ সেনাকে নিশানা করা বন্ধ করে দিয়ে বরং বলছেন, ‘ফৌজের সঙ্গে আমার কোনও বিরোধ নেই।’ অবসরপ্রাপ্ত সেনাপ্রধান কামার জাভেদ বাজওয়ার নাম করে ইমরান বলেছেন, ‘প্রধানমন্ত্রী থাকাকালে ওঁর সঙ্গে আমার ভাল সম্পর্ক ছিল।’ যদিও ইমরান গদি হারানোর পিছনে সেনার হাত, বিশেষ করে বাজওয়া ষড়যন্ত্র করেছিলেন বলে প্রথম থেকেই দাবি করে আসছেন।
কিন্তু গত কয়েকদিন তিনি বারে বারে বলছেন, সেনার সঙ্গে তাঁর শত্রুতার সম্পর্ক নয়। এখন দেখার শেষ পর্যন্ত সেনা বাহিনীর চাপ সামলে ইমরান দেশে থেকে স্বাধীনভাবে রাজনীতি করতে পারেন কিনা। বিদেশি টিভিকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি আরও অভিযোগ করেছেন, ‘বর্তমান সরকার এখন নির্বাচন করছে না আমার ভয়ে। এখন ভোট হলে সরকারি দলগুলি মুছে যাবে। ওরা আমার দলের জনপ্রিয়তার ঢেউ থামার দিন গুণছে।’
আলোচনায় মমতার জোট ফরমুলা, সোমবার নীতীশ-খাড়্গে বৈঠক দিল্লিতে