দ্য ওয়াল ব্যুরো : বৃহস্পতিবার ৩১ টি বিরোধী দলের সঙ্গে বৈঠকে বসে মোদী সরকার। তালিবান অধিকৃত আফগানিস্তানে এখন কী পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে, তা বিস্তারিত জানানো হয় বিভিন্ন দলের প্রতিনিধিকে। বিদেশমন্ত্রী এস জয়শংকর বলেন, ১৫ হাজার মানুষ আফগানিস্তান থেকে পালানোর জন্য ভারত সরকারের কাছে সাহায্য চেয়েছেন। আপাতত ভারতীয়দের ফিরিয়ে আনার ওপরেই সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে সরকার।
জয়শংকর পরে জানান, ভারতীয়দের অধিকাংশকেই আফগানিস্তান থেকে ফিরিয়ে আনা হয়েছে। বুধবারের ফ্লাইটে কয়েকজন ফিরতে পারেননি। ভারতীয়দের জন্য ই-ভিসা চালু করা হয়েছে। যত শীঘ্র সম্ভব সরকার প্রত্যেক ভারতীয়কেই ফিরিয়ে আনবে।
সর্বদলীয় বৈঠকে জানানো হয়, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ইতিমধ্যে জার্মানির চ্যান্সেলার অ্যাঞ্জেলা মার্কেলের সঙ্গে কথা বলেছেন। রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গেও তাঁর কথা হয়েছে। আগামী দিনে আফগানিস্তান নিয়ে তিনি আরও কয়েকটি উচ্চপর্যায়ের বৈঠক করবেন।
বৈঠকের পরে জয়শংকর টুইট করে বলেন, "আমরা অত্যন্ত কঠিন পরিস্থিতির মধ্যে ভারতীয়দের উদ্ধার করেছি। বিশেষত বিমান বন্দরের অবস্থা ছিল ভয়াবহ।" জয়শংকর বাদে সরকারের তরফে বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী প্রহ্লাদ যোশি এবং কেন্দ্রীয় মন্ত্রী পীযূষ গোয়েল। বিরোধীদের তরফে ছিলেন রাজ্যসভায় কংগ্রেসের নেতা মল্লিকার্জুন খাড়গে, লোকসভায় কংগ্রেসের নেতা অধীররঞ্জন চৌধুরি, এনসিপি প্রধান শরদ পাওয়ার, ডিএমকে-র টি আর বালু এবং প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী এইচ ডি দেবগৌড়া।
https://twitter.com/DrSJaishankar/status/1430815173355261952
মল্লিকার্জুন খাড়গে বলেন, বিরোধীরা সাধারণভাবে সরকারের অবস্থানের প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন। আফগানিস্তানের পরিস্থিতি যা দাঁড়িয়েছে, তাতে সমস্যায় পড়তে পারে আমাদের দেশ। তাঁর কথায়, দেশের স্বার্থে সকলকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করতে হবে। আমরা জানতে পেরেছি, আফগানিস্তানের এক মহিলা কূটনীতিককে সেদেশে ফেরত পাঠানো হয়েছে। সরকারের বক্তব্য, এক্ষেত্রে ভুল হয়ে গিয়েছে। ভবিষ্যতে এমন ভুল আর হবে না।
একটি সূত্রে জানা যায়, সরকার বৈঠকে বলেছে, কাবুল দখলের কয়েক সপ্তাহ আগে দোহায় আমেরিকা ও তার মিত্রশক্তিগুলির কাছে কয়েকটি প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল তালিবান। কিন্তু সেই প্রতিশ্রুতি তারা ভঙ্গ করেছে। বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন বিজেডি নেতা প্রসন্ন আচার্য। তিনি বলেন, সরকারের দাবি, তারা বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েনি। আফগানিস্তানে যাঁরা আটকে পড়েছেন, তাঁদের উদ্ধারের কাজ চলছে জোর কদমে।
কাবুল বিমান বন্দর থেকে রোজ দু'টি করে বিমান ওড়ানোর অনুমতি পেয়েছে ভারত। প্রতিটি বিমানে ৩০০ জন যাত্রীকে ফিরিয়ে আনা হচ্ছে।