
পাঁচ চিকিৎসককে সাসপেন্ড করার সুপারিশ আইএমএ-র
শেষ আপডেট: 5 September 2024 18:07
দ্য ওয়াল ব্যুরো: সপ্তাহ খানেক আগেই আইএমএ থেকে সাসপেন্ড করা হয়েছে আরজি কর দুর্নীতিতে অভিযুক্ত ডক্টর সন্দীপ ঘোষকে। এবার আরও পাঁচ চিকিৎসককে সাসপেন্ড করার সুপারিশ করল আইএমএ বেঙ্গল। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন আইএমএ-র জলপাইগুড়ি শাখার সম্পাদক ড. সুশান্ত রায়।
আইএমএ-র ওই সুপারিশে যে আরও চার জন চিকিৎসকের নাম রয়েছে, তাঁরা হলেন, ডক্টর অভীক দে, ডক্টর তাপস চক্রবর্তী, ডক্টর দীপাঞ্জন হালদার এবং ডক্টর বিরূপাক্ষ বিশ্বাস।
ওয়েস্ট বেঙ্গল মেডিক্যাল কাউন্সিলের প্রেসিডেন্ট ডক্টর সুদীপ্ত রায়কে আইএমএ বেঙ্গলের তরফে চিঠি লিখে বলা হয়েছে, আরজি করে যে ভয়াবহ অপরাধ ঘটে গেছে, সেই সূত্রে কাউন্সিলের সদস্য এই চিকিৎসকদের বিতর্কিত অবস্থান বারবারই প্রশ্নের মুখে পড়েছে। এঁদের কাউকে কাউকে ঘটনার দিন আরজি করে দেখাও গেছে, কেউ কেউ আবার সিবিআই-এর স্ক্যানারে রয়েছেন।
এই পরিস্থিতিতে কাউন্সিলের দুই চিকিৎসক ডক্টর সুমন মুখোপাধ্যায় ও ডক্টর দীপাঞ্জন বন্দ্যোপাধ্যায় ইতিধ্যেই পদত্যাগ করেছেন। এখন যতদিন না তদন্ত শেষ হচ্ছে, ততদিন এই পাঁচজনকেও সাসপেন্ড করা হোক।
পাঁচজন ডাক্তারের নাম উল্লেখ করে ওই চিঠিতে আরও লেখা হয়, এঁদের ভূমিকা আরজি করের ধর্ষণ-খুন ও দুর্নীতি-- দুই মামলাতেই সন্দেহজনক। তার উপরে এরা মূল অভিযুক্ত সন্দীপ ঘোষকে সমর্থন করে যেভাবে মিডিয়ায় বক্তব্য রেখেছেন, তাতে এঁদের সন্দীপ ঘোষের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা স্পষ্ট। তাই এঁদের পদত্যাগ করা জরুরি। অন্যথায় এঁদের সাসপেন্ড করুক মেডিক্যাল কাউন্সিল।
প্রসঙ্গত, আরজি কর কাণ্ডের বিচার চেয়ে যখন গোটা রাজ্য উত্তাল, সেই পরিস্থিতিতে আশ্চর্যজনকভাবে নীরব রেয়চে ইন্ডিয়ান মেডিক্যাল অ্যাসোসিয়েশনের জলপাইগুড়ি শাখা। আইএমএ রাজ্যস্তর থেকে জাতীয়স্তর পর্যন্ত আরজি করের ঘটনার প্রতিবাদে সামিল হলেও জলপাইগুড়ি ছিল ব্যতিক্রম। এই জলপাইগুড়ি শাখারই সম্পাদক ডক্টর সুশান্ত রায়।
এই সুশান্ত রায়কে নিয়ে আগেও অনেক বিতর্ক হয়েছে, তিনি প্রভাবশালী বলেই পরিচিত। প্রভাব খাটিয়ে তিনি উত্তরবঙ্গের ওএসডি হয়েছিলেন বলেও অভিযোগ উঠেছিল৷ এর পরে চাকরি থেকে অবসর নেওয়ার পরে তিনি ওয়েস্ট বেঙ্গল মেডিক্যাল কাউন্সিলের সহ-সভাপতি হয়েছেন৷
তবে বিতর্ক তাঁর পিছু ছাড়েনি। আরজি কর-কাণ্ডেও তাঁর নাম জড়িয়েছে, কারণ ৯ অগস্ট তরুণী চিকিৎসকের দেহ উদ্ধারের পরে আরজি করে গিয়েছিলেন সুশান্ত রায়। সেকথা সংবাদমাধ্যমের কাছে তিনি নিজেই স্বীকার করেছেন। দাবি করেছেন, মেডিক্যাল কাউন্সিলের নির্দেশেই তিনি সেদিন আরজি করে গিয়েছিলেন। এতে প্রশ্ন ওঠে, খুনের ঘটনাস্থলে মেডিক্যাল কাউন্সিলের কী কাজ? তাহলে কি যে তথ্যপ্রমাণ লোপাটের অভিযোগ উঠছে, তাতেই কোনওভাবে সুশান্ত রায় জড়িত৷
এছাড়া আরজি কর-কাণ্ডে নাম জড়িয়ে যাওয়া আরও এক চিকিৎসক অভীক দে-র নাম রয়েছে সাসপেন্ডের সুপারিশে। তিনি জলপাইগুড়ি আইএমএ-রই সহ সভাপতি। বিতর্কের জেরে তাঁকে ইতিমধ্যেই সাসপেন্ড করেছে টিএমসিপি।
সাসপেন্ডের সুপারিশ করা আর এক চিকিৎসক বিরূপাক্ষ বিশ্বাসকে আবার গতকালই বর্ধমান থেকে কাকদ্বীপ মহকুমা হাসপাতালে বদলি করে দিয়েছে রাজ্যের স্বাস্থ্য দফতর। বর্ধমান মেডিক্যাল কলেজের রেসিডেন্ট ডক্টর পদে ছিলেন তিনি। তাঁর বিরুদ্ধে বর্ধমানের ছাত্রদের অভিযোগ, সন্দীপ ঘোষের একান্ত ঘনিষ্ঠ এই নেতার 'দাদাগিরি'তে রীতিমতো অতিষ্ঠ তাঁরা।
তাঁকে নিয়ে এই চাপানউতোরের মধ্যেই একটি অডিওয়ো ক্লিপ ভাইরাল হয়। যদিও এই ভাইরাল অডিওর সত্যতা যাচাই করেনি দ্য ওয়াল। এই ভাইরাল অডিওতে পরীক্ষায় ফেল করানোর হুমকি দিতে শোনা যায় তৃণমূলের চিকিৎসক নেতা বিরূপাক্ষ বিশ্বাসকে। ভাইরাল সেই অডিও ক্লিপ চিকিৎসকদের গ্রুপে গ্রুপে ঘোরে।
তবে বর্ধমান মেডিক্যাল কলেজ থেকে কাকদ্বীপ মহকুমা হাসপাতালে বদলি করে দেওয়ার পরেও বিরূপাক্ষ স্বস্তিতে নেই। অসন্তাষ দেখা দিয়েছে কাকদ্বীপেও। কাজে যোগ দিতে এলে তাঁকে বাধার মুখে পড়তে হবে, এমন হুঁশিয়ারি দিয়েই পোস্টার সাঁটানো হয়েছে হাসপাতালে।
'কাকদ্বীপবাসী দিচ্ছে ডাক, বিরূপাক্ষ নিপাত যাক', এমন পোস্টারে ছেয়ে গেছে গোটা হাসপাতাল চত্বর। কোথাও আবার লেখা হয়েছে, 'বিরুপাক্ষের চামড়া গুটিয়ে দেবো আমরা'। কোথাও আবার 'বিরুপাক্ষের গালে গালে জুতো মারো তালে তালে' লেখা রয়েছে।