দ্য ওয়াল ব্যুরো : প্রাক্তন অর্থমন্ত্রী পি চিদম্বরমের জামিনের আবেদনের বিরুদ্ধে শুক্রবার দিল্লি হাইকোর্টে সওয়াল করলেন সিবিআইয়ের কৌঁসুলি তথা সলিসিটার জেনারেল তুষার মেহতা। তিনি বলেন, জামিন পেলে ৭৪ বছর বয়সী চিদম্বরম দেশ ছেড়ে পালাতে পারেন। শুধু তাই নয়, তিনি এতই প্রভাবশালী যে তাঁর জামিন পাওয়ার খবর শুনে সাক্ষীরা ভয় পেতে পারেন।
পরে তুষার মেহতা বলেন, আইনসভার সদস্যরাই যদি আইন ভাঙেন, তাহলে খুব মুশকিল হয়। চিদম্বরমকে গ্রেফতারের আগে ২৪ ঘণ্টা খুঁজে পাওয়া যাচ্ছিল না। তাঁর বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ আছে। তিনি জানেন, তাঁর শাস্তি হবে। অন্য দেশে পালানোর মতো যথেষ্ট ক্ষমতাও তাঁর আছে। সুতরাং তিনি যদি জামিন পান, তদন্ত চালানো কঠিন হয়ে উঠবে।
চিদম্বরমের কৌঁসুলিরা যুক্তি দেখান, তাঁদের মক্কেল সম্মানিত মানুষ। তাঁর পক্ষে পালিয়ে যাওয়া সম্ভব নয়। তার জবাবে সলিসিটার জেনারেল বলেন, কেউ সমাজের সম্মানিত সদস্য হলেই তিনি পালাবেন না, এমন কথা বলা যায় না। অভিযুক্ত সম্মানিত ব্যক্তি কি না, তা বিচার করে কাউকে জামিন দেওয়া হয় না। এক্ষেত্রে আমাদের খেয়াল রাখতে হবে, অভিযুক্ত ব্যক্তি অত্যন্ত ক্ষমতাশালী। তিনি জেলের বাইরে আছেন শুনলেই সাক্ষীরা ভয় পাবে।
সিবিআই এদিন আদালতে কয়েকটি ই-মেলের বয়ান পেশ করে। আইএনএক্স মিডিয়া চিদম্বরমের ছেলে কার্তি চিদম্বরমের বিভিন্ন সংস্থাকে ওই মেলগুলি পাঠিয়েছিল। গোয়েন্দাদের দাবি, ওই ই-মেলগুলি থেকে প্রমাণিত হয়, এক্ষেত্রে বেআইনি কাজ হয়েছে।
এর আগে চিদম্বরমের কৌঁসুলি কপিল সিব্বল দাবি করেন, তাঁর মক্কেলের সঙ্গে কখনও আইএনএক্স মিডিয়ার মালিক ইন্দ্রাণী মুখার্জির দেখাই হয়নি। ইন্দ্রাণীর বিবৃতির ভিত্তিতেই চিদম্বরম ও তাঁর ছেলের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে। মেয়েকে খুনের দায়ে ইন্দ্রাণী এখন জেলে আছেন। অভিযোগ, ইন্দ্রাণী ও তাঁর স্বামী পিটার মুখার্জি ২০০৭ সালে তৎকালীন অর্থমন্ত্রী চিদম্বরমের সঙ্গে দেখা করেছিলেন। চিদম্বরম বলেছিলেন, ইন্দ্রাণীরা যদি তাঁর ছেলেকে সাহায্য করেন, তাহলে তিনি আইএনএক্স মিডিয়াতে বিদেশি বিনিয়োগে ছাড় দেবেন।