দ্য ওয়াল ব্যুরো : সোমবার ভোরে লখিমপুর-খেরি (Lakhimpur-Kheri) যাওয়ার পথে আটক হন কংগ্রেস নেত্রী প্রিয়ঙ্কা গান্ধী বঢরা। এদিন বিকালে তিনি প্রশ্ন তোলেন, মন্ত্রীর যে ছেলের নামে কৃষকদের গাড়ি চাপা দিয়ে মারার অভিযোগ উঠেছে, তিনি এখনও মুক্ত রয়েছেন কেন? সিতাপুরে এক সরকারি অতিথিশালায় রাখা হয়েছে প্রিয়ঙ্কাকে। সেখান থেকে তিনি ফোনে সংবাদ মাধ্যমকে সাক্ষাৎকার দেন। পুলিশের উদ্দেশে তাঁর প্রশ্ন, “তোমরা যদি আমাকে গ্রেফতার করতে পার, তাহলে মন্ত্রীর যে ছেলে খুনের দায়ে অভিযুক্ত হয়েছেন, তাঁকে গ্রেফতার করছ না কেন?” তাঁর অভিযোগ, যোগী আদিত্যনাথের আমলে উত্তরপ্রদেশে গণতন্ত্র ও আইনের শাসন পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে গিয়েছে।
প্রিয়ঙ্কা জানান, এদিন ভোর চারটেয় লখিমপুর-খেরির অল্প দূরে তাঁকে গ্রেফতার করা হয়। তাঁকে বলা হয়, ভারতীয় দণ্ডবিধির ১৫১ নম্বর ধারা অনুযায়ী তিনি গ্রেফতার হয়েছেন। পুলিশ আশঙ্কা করছিল, ভবিষ্যতে তিনি কোনও ‘অপরাধজনক কাজ’ করতে পারেন।
কংগ্রেস নেত্রীর কথায়, “গ্রেফতার করার আগে আমাকে কোনও কাগজ দেখানো হয়নি। কোনও কাগজ ছাড়া আটক করলে আমি বলতে পারি, আমাকে অপহরণ করা হয়েছে। ২৪ ঘণ্টার মধ্যে যদি আমাকে ১৫১ ধারায় অভিযুক্ত না করা হয়, আমি মুক্তি পাব।” প্রিয়ঙ্কার অভিযোগ, তাঁকে আইনজীবীর সঙ্গে কথা বলতে দেওয়া হয়নি।
কংগ্রেস নেত্রীর অভিযোগ, পুলিশ প্রথমে তাঁকে বলেছিল, লখিমপুর-খেরিতে ১৪৪ ধারা জারি করা আছে। প্রিয়ঙ্কা বলেন, তিনি চারজনের কম লোক নিয়ে লখিমপুর খেরিতে যাচ্ছেন। তখন পুলিশ বলে, তাঁকে ১৫১ ধারা অনুযায়ী আটক করা হচ্ছে। প্রিয়ঙ্কা বলেন, পুলিশকর্মীরা তাঁকে ধাক্কা দিয়ে গাড়িতে তুলেছেন। তাঁকে হেনস্থা করা হয়েছে।
প্রিয়ঙ্কা পুলিশকর্মীদের বলেন, “ওয়ারেন্ট নিকালো, অর্ডার নিকালো, নেহি তো ম্যঁয় ইহাঁ সে নেহি হিল রহি হুঁ।” প্রিয়ঙ্কার পাশেই দাঁড়িয়েছিলেন কংগ্রেস নেতা দীপিন্দর হুডা। তিনি পুলিশকর্মীদের ধমক দিয়ে বলেন, “আপনারা প্রিয়ঙ্কা গান্ধীকে আটকাচ্ছেন কেন?” এরপরে দেখা যায়, পুলিশ ঠেলতে ঠেলতে হুডাকে গাড়ির দিকে নিয়ে যাচ্ছে। হুডা তখন চেঁচিয়ে বলেন, আমি নিজের চোখে দেখেছি, পুলিশ প্রিয়ঙ্কাকে আঘাত করেছে। আমি সাক্ষী দেব।
অভিযোগ, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী অজয় মিশ্রের ছেলে আশিস মিশ্রের গাড়ি কৃষকদের ওপর দিয়ে চালিয়ে দেওয়া হয়েছিল। অভিযোগ অস্বীকার করে আশিস বলেছেন, তাঁদের কনভয় লখিমপুর পৌঁছনোর আগেই অগ্নিগর্ভ পরিস্থিতি ছিল সেখানে। বহু মানুষের জমায়েত হয়েছিল। তাঁদের গাড়ি দেখেই পাথর ছুড়তে শুরু করে কয়েকজন। গাড়ি ঘিরে ফেলে তারা। ইট, পাথরের ঘায়ে গুরুতর জখম হন ড্রাইভার হরিওম মিশ্র। মাথা ফেটে রক্ত বের হতে থাকে তাঁর। স্টিয়ারিংয়ে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলেন তিনি।