দ্য ওয়াল ব্যুরো : নিরক্ষরদের তুলনায় শিক্ষিতরা চাকরির বাজারে বেশি যোগ্য বলে বিবেচিত হন। বিশ্ব জুড়ে এমনই ধারণা প্রচলিত। কিন্তু ভারতের বিবাহিত মহিলাদের বেলায় উলটে যায় এই ধ্যানধারণা। কেননা এদেশে যে বিবাহিত মহিলারা ১০ ক্লাস অবধি পড়াশোনা করেছেন, তাঁদের তুলনায় নিরক্ষরেরাই চাকরি করেন বেশি। আমেরিকার মেরিল্যান্ড ইউনিভার্সিটি এবং ন্যাশনাল কাউন্সিল অব অ্যাপ্লায়েড ইকনমিক রিসার্চের এক যৌথ সমীক্ষায় জানা গিয়েছে একথা।
দেখা গিয়েছে, মেয়েরা দশম শ্রেণি অবধি পড়াশোনা করলে তাদের চাকরি করার প্রবণতা কমে। তার চেয়ে বেশি পড়াশোনা করে যারা, তাদের আবার চাকরি করার প্রবণতা বৃদ্ধি পায়। তাও যে মহিলারা আর্থিকভাবে স্বচ্ছল পরিবারের বধূ, তাঁরা শিক্ষিত হলেও চাকরি করার প্রবণতা কম থাকে।
বিদেশী সমীক্ষকরা প্রথমে সমীক্ষার ফল দেখে অবাক হয়ে যান। পরে অনেক খতিয়ে দেখে সিদ্ধান্ত নেন, শিক্ষিত মহিলারা সাধারণত শিক্ষিত পুরুষদের বিবাহ করেন। তাঁদের স্বামীরা ভালো আয় করেন। তাই স্ত্রীদের আর চাকরি করার দরকার হয় না।
দশম শ্রেণি অবধি পড়া মহিলাদের মধ্যে চাকরিরতদের হার এত কম কেন?
সমীক্ষকদের ধারণা, নিরক্ষর মহিলারা যে ধরণের কাজ করেন, তা তাঁরা করতে চান না। তাঁরা চাকরি করতে পারেন বিভিন্ন কোম্পানির বিপণন বিভাগে, অথবা কেরানির পদে। সেই সব চাকরির জন্য প্রতিযোগিতা প্রবল। ফলে তাঁরা আর চাকরি পান না।
দু’দফা সমীক্ষার ভিত্তিতে ওই সিদ্ধান্তগুলি নেওয়া হয়েছে। ইন্ডিয়ান হিউম্যান ডেভলপমেন্ট সার্ভেস ২০০৪-০৫ সালে ৪১ হাজার ৫৫৪ টি পরিবারে সমীক্ষা করে। ২০১১-১২ সালে ফের ৪২ হাজার ১৫২ টি পরিবারে সমীক্ষা চালানো হয়। তাতে দেখা যেয়, ২৫ থেকে ৫৯ বছর বয়সী বিবাহিত মহিলারা মনে করেন, ২৫ বছরের কমবয়সী মেয়েদের পড়াশোনা করা উচিত। ৫৯ বছরের বেশি বয়স যে মহিলাদের, তাঁরা অবসর নিলে ভালো হয়।
দু’দফায় মোট ৭২ হাজার ৬২০ জন মহিলার ওপরে সমীক্ষা চালানো হয়েছিল। তাঁদের ৪৭.৪ শতাংশ নিরক্ষর। ২৬.৭ শতাংশ প্রাথমিক শিক্ষা সম্পূর্ণ করেছে। ১৩.৩ শতাংশ মাধ্যমিক স্তর পর্যন্ত পড়াশোনা করেছে। ৭.৬ শতাংশ প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পড়াশোনা শুরু করেছিল ঠিকই কিন্তু শেষ করতে পারেনি। কেবল পাঁচ শতাংশ স্নাতক হয়েছে।
বিবাহিত মহিলাদের ৪১.৬ শতাংশ চাকরি করেন। যে বছর সমীক্ষা করা হচ্ছে তার আগের বছর যে মহিলারা অন্তত ২৪০ ঘন্টা কাজ করেছেন, তাঁদেরই চাকরিরত বলে ধরা হয়েছে।