দ্য ওয়াল ব্যুরো: আইআইটি-র কৃতী ছাত্র শেষে কি না রেলের ট্র্যাকম্যান?
রেলওয়ে রিক্রুটমেন্ট বোর্ড (আরআরবি)-র গ্রু ডি পরীক্ষায় পাস করে বম্বে আইআইটির কৃতী ছাত্র এখন রেলের ট্র্যাকম্যান। নাম শ্রবণ কুমার। বম্বে আইআইটি থেকে বিটেক করার পরে এমটেক। এখন ধানবাদের চন্দ্রপুরা ও টেলো সেকশনের নজরদার অর্থাৎ ট্র্যাকম্যান।
‘পাবলিক ওয়ার্কস ইনস্পেকটর’ (PWI)-এর অধীনে দিনকয়েক আগেই কাজে লেগে পড়েছেন শ্রবণ। অফিসার হলেও না হয় কথা ছিল, তাই বলে রেলের গ্রুপ ডি স্টাফ! চাকরির প্রথম দিন তাজ্জব হয়েছিলেন রেলের শীর্ষ আধিকারিকরাও। এমন একজনকে সামান্য ট্র্যাকম্যানের পদে বহাল করা হবে কি না, সে নিয়েও ভাবনাচিন্তাও করেন রেলের অফিসাররা। তবে শ্রবণ নাকি ছিলেন নাছোড়বান্দা। পরীক্ষা দিয়ে সরকারি চাকরি পেয়েছেন, অতএব কাজ তিনি করবেনই।
২০১০ সালে বম্বে আইআইটিতে পড়াশোনা শুরু করেন বিহারের শ্রবণ। নম্বর বরাবরই ভালোর দিকে ছিল শ্রবণের। বিটেক শেষ করে, এমটেকও করেন তিনি। তারপর সরাসরি বসে পড়েন সরকারি চাকরির পরীক্ষায়। শোনা গেছে, আইআইটিতে তাঁর বন্ধুদেরও নাকি সরকারি চাকরির পরীক্ষায় বসার অনুরোধ করেছিলেন শ্রবণ, তবে তাঁরা রাজি হননি।
হঠাৎ করে এমন সিদ্ধান্তের কারণ কী? বেকারত্ব সমস্যা? তা ঠিক নয়। তাহলে কি মনের মতো চাকরি জুটছিল না? সেটাও নয়। বম্বে আইআইটির ছাত্র জানিয়েছেন, সরকারি চাকরিই ছিল তাঁর লক্ষ্য। সে যে কোনও পদেই হোক। শ্রবণের কথায়, ‘গ্লোবাল পজিশনিং সিস্টেম’ বা জিপিএস প্রযুক্তি আসার পরে ট্র্যাকম্যানদের কাজ অনেক সহজ হয়েছে। তা ছাড়া রেলের লাইনে কোথায় গলদ, দুর্ঘটনার আশঙ্কা রয়েছে কি না সেটা নজর রাখা, এমন কাজ মন্দ কী!
‘‘সরকারি চাকরি ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করে। আর তো ক’টা বছর। পরীক্ষা দিয়ে ঠিক অফিসার হয়ে যাব,’’ আশা ছাড়ছেন না শ্রবণ।