
শেষ আপডেট: 26 July 2023 10:29
দ্য ওয়াল ব্যুরো: যত দিন যাচ্ছে, তত হু হু করে বাড়ছে পড়ুয়াদের প্রতিযোগিতা। জয়েন্ট এন্ট্রান্স প্রবেশিকায় সুযোগ পাওয়া বা আইআইটি-তে ভর্তি হওয়া এখন আর কেবল 'মেধাবী' ছেলেমেয়েদের উচ্চাকাঙ্ক্ষা নয়, বরং ঘরে ঘরে বোনা হচ্ছে এই স্বপ্নের বীজ (IIT-JEE race)। দশম শ্রেণির বোর্ডের পরীক্ষা পাশ করার পর থেকেই বিশেষ কোচিং নেওয়ার অভ্যেস এতদিন পড়ুয়াদের মধ্যে ছিলই। এখন সেই প্রস্তুতি পর্ব এগোতে এগোতে ঠেকেছে ক্লাস সেভেনে! অন্ধ্রপ্রদেশ এবং তেলেঙ্গানায় (Andhra and Telangana) অন্তত এমনটাই ঘটছে। ক্লাস সেভেন থেকেই শুরু হচ্ছে উচ্চশিক্ষার প্রস্তুতি।
প্রসঙ্গত, এই বছরের জয়েন্ট এন্ট্রান্স (অ্যাডভান্সড) পরীক্ষার যে ফলাফল বেরিয়েছে, তাতে দেখা গেছে, হায়দরাবাদ জোনের পড়ুয়ারাই টপ টেনের মধ্যে ৬টি আসন নিয়েছে। একধাক্কায় এতটা উন্নতির কারণ কী, তা অনুসন্ধান করতে গিয়েই সামনে এসেছে এই প্রস্তুতি পর্ব এগিয়ে আসার বিষয়টি।
ছোটবেলা থেকে আইআইটি-র স্বপ্ন দেখা ছেলেমেয়েদের শৈশব বলে কিছু থাকে না, পড়ার চাপে নষ্ট হয়ে যায়-- এই বিষয়টি নিয়ে বহু চর্চা হয়েছে। কিন্তু এই চর্চা থেকেই উঠে আসা তেলেঙ্গানা এবং অন্ধ্রপ্রদেশ মডেলের সাফল্য যেন তাতে এক নতুন মাত্রা যোগ করেছে। কোটা-নির্ভর পড়াশোনার ছক ভেঙে উঠে আসছে হায়দরাবাদের রেজোন্যান্স জুনিয়র কলেজ, শ্রী চৈতন্য কোচিং সেন্টারের নাম। শিক্ষামহলও বলছে, এটি একটি সামঞ্জস্যপূর্ণ পড়াশোনার আদর্শ মডেল তৈরি করছে।
আরও পড়ুন: কোনও শিক্ষক ছাড়াই ২১ বছরে আইপিএস, পরের বছর আইএএস! দিব্যার লড়াই যেন রূপকথা
বছর পাঁচেক আগেই অবশ্য এই মডেলের পড়াশোনার কথা সামনে আসতে শুরু করেছিল। জানা গেছিল, কীভাবে ক্লাস সেভেন থেকেই বোর্ডের পরীক্ষা এবং বিভিন্ন সর্বভারতীয় ইঞ্জিনিয়ারিং এবং মেডিক্যাল প্রবেশিকা পরীক্ষার প্রস্তুতি শুরু হতে পারে। এতদিন পরে সেই মডেলের যথার্থ ফসল ফলতেই দেশজুড়ে ছড়িয়ে পড়েছে সে কথা।
হায়দরাবাদের রেজোন্যান্স জুনিয়র কলেজের ডিরেক্টর পূর্ণচন্দ্র রাও বলছিলেন, 'অন্ধ্রপ্রদেশ এবং তেলেঙ্গানা থেকে জয়েন্ট এবং নিটের জন্য কোচিং নেওয়া পড়ুয়াদের মধ্যে প্রায় ৯০ শতাংশই বিশেষ ইন্টিগ্রেটেড মডেলে পড়াশোনা করেছে। আপনি যে কোনও জয়েন্ট-সফল পড়ুয়ার সঙ্গে কথা বলুন, তাহলেই বুঝতে পারবেন, প্রস্তুতি পর্ব এবং সে পর্ব তাড়াতাড়ি শুরু করা আসলে কতটা গুরুত্বপূর্ণ। তাড়াতাড়ি মানে যত তাড়াতাড়ি হয়, সপ্তম বা অষ্টম শ্রেণি।'
এই মডেলে প্রস্তুতির মূল বিষয়টিই হল, গোড়া থেকেই প্রবেশিকা পরীক্ষার ফর্ম্যাটের সঙ্গে পড়ুয়াদের পরিচয় করানো। সেই মোতাবেক শুরু হয় সিলেবাসের প্রতিটি বিষয়ে শক্ত ভিত নির্মাণ। নিয়মিত পাঠ্যক্রমে তারা এতদিন যা শিখত, বলতে গেলে এখনও তাই শেখে, কেবল পার্থক্য হল, স্কুলগুলিতে যে নিয়মিত থিয়োরি-ভিত্তিক পড়াশোনা হতো, তার বাইরে বেরিয়ে এই নতুন মডেলটি অনেক বেশি 'অ্যাপ্লিকেশন-ভিত্তিক', যা উচ্চশিক্ষার প্রবেশিকা পরীক্ষার চাহিদাগুলি আরও ভালভাবে পূরণ করে। সেই সঙ্গে এটি শিক্ষার্থীদের বিজ্ঞান এবং গণিত অলিম্পিয়াডের জন্যও প্রস্তুত করে। পাশাপাশি, নিয়মিত তাদের পুরস্কৃত করে উৎসাহ দেওয়া হয়, পরবর্তী ধাপের জন্য আরও ভালভাবে প্রস্তুত করা হয়।
আরও পড়়ুন: আইআইটি-র প্রথম মহিলা ডিরেক্টর প্রীতি, চেন্নাই থেকে তানজানিয়ার লম্বা সফরে গড়লেন ইতিহাস
এখনও পর্যন্ত এই মডেল দুর্দান্ত ফলাফল দিচ্ছে বলেই মত অভিজ্ঞ শিক্ষামহলের। পূর্ণচন্দ্র রাও-এর মতে, জয়েন্টে সেরা ৫ হাজার উত্তীর্ণর মধ্যে এবছর অন্তত তিন থেকে সাড়ে তিন হাজার পড়ুয়াই অন্ধ্র বা তেলেঙ্গানায় পড়াশোনা করেছে। এই রাজ্যদু'টিতে নতুন মডেলের পড়াশোনা নিয়ে সচেতনতা চলছে জোরদার। স্থানীয়ভাবে বিজ্ঞাপন দেওয়া হচ্ছে, টপারদের অভিজ্ঞতা ভাগ করে নেওয়া হচ্ছে। কোচিং ইনস্টিটিউটগুলি ঠিক কীভাবে তৈরি করবে ছেলেমেয়েদের, কী কী শিখবে ছেলেমেয়েরা-- তাই নিয়ে একটা স্বচ্ছ ধারণা দেওয়া হচ্ছে। তাঁর কথায়, 'দেখুন, সময়টাই এমন, সবাইকেই প্রতিযোগিতা করতে হবে। করতেই হবে। এখন সেই প্রতিযোগিতার মধ্যে পড়া ছেলেমেয়েদের অভিভাবকরা যখন দেখতে পাচ্ছেন তাদের সন্তানদের উন্নতি হচ্ছে, তখন তাঁরাও সচেতন হচ্ছেন।'
এখন এই প্রতিষ্ঠানগুলির লক্ষ্য একটাই, সারা দেশেই তারা এই সচেতনতা ও মডেল শিক্ষাপদ্ধতি চালু করতে চায়, প্রচার করতে চায়। তাদের পারফরম্যান্সে একটা ধারাবাহিকতা আনতে চায়। তারা বলছে, যত বেশি সংখ্যক ছেলেমেয়ে যত আগে থেকে এই মডেল ফলো করবে, প্রবেশিকার প্রতিযোগিতা বুঝতে শুরু করবে, ততই তাদের পরীক্ষা নিয়ে ভয় কাটবে, প্রবেশিকাগুলি তাদের জন্য সহজ হবে, মাইলফলক তৈরি হবে কেরিয়ারে, এবং ততই উন্নতি হবে গোটা দেশের উচ্চশিক্ষায়।
আরও পড়ুন: বছরে ১.২৫ কোটি টাকার চাকরি পেলেন অনুরাগ! আইআইটি কিংবা আইআইএম-এর পড়ুয়া নন তিনি