
শেষ আপডেট: 24 July 2019 18:30
আইআইটি বম্বের ইলেট্রিকাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ছাত্রী ঐশ্বর্য আগরওয়াল জানিয়েছেন, ঋতুকালীন স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলেন না অধিকাংশ মহিলারাই।গ্রাম বা আধা শহর বলে নয়, শহরের শিক্ষিত তরুণীদের মধ্যেও ঋতুকালীন সচেতনতা গড়ে ওঠেনি। তাই ব্যবহার করা ন্যাপকিন যত্রতত্র ছড়িয়ে থাকতে দেখা যায়। আবর্জনাস্তুপ থেকে বাড়ির পাশের নর্দমা, খোলা রাস্তা তো বটেই, ব্যবহার করা প্যাডে থেকে ব্যাকটেরিয়া ও রোগের জীবাণু ছড়িয়ে পড়ে চারদিকে।
একই মত আইআইটি গোয়ার দেবযানীরও। দু’জনেই জানিয়েছেন, বাজারচলতি স্যানিটারি প্যাডের অধিকাংশই তৈরি হয় নন-বায়োডিগ্রেডেবল প্লাস্টিক দিয়ে। ফলে এক একটি ব্যবহার করা প্যাড মাটিতে মিশে যেতে ৫০০-৮০০ বছর লেগে যায়। হিসেব করলে দেখা যাবে, এক একজন মহিলা তাঁর ঋতুচক্রে মোট ১২৫ কেজি নন-বায়োডিগ্রেডেবল বর্জ্য জমা করেন। সেই হিসেবে ভারতের অন্তত সাড়ে ৩৫ কোটি মহিলা কতটা জৈবিক বর্জ্য জমা করছেন, সেই সংখ্যাটা আকাশছোঁয়া। কাজেই দূষণ ও রোগের প্রাদুর্ভাবও বাড়ছে পাল্লা দিয়েই।
https://www.facebook.com/invent.iitgn/photos/a.1898975313541177/1912517505520291/?type=3
"Cleanse right" দেবযানী ও ঐশ্বর্যের তৈরি করা যন্ত্রের নাম এটাই। তাঁরা জানিয়েছেন, এই ডিভাইসটি বিদ্যুতচালিত নয়। পুরোপুরি প্যাডেল-নিয়ন্ত্রিত। কোনও জলাধার বা জলাশয়ের মধ্যে, অথবা জমিয়ে রাখা জলের মধ্যেও কাজ করতে পারে এটি। এর প্যাডেল অপারেটেড প্লাঞ্জারে চাপ দিলেই এর মোটর অ্যাকটিভ হয়ে যাবে এবং ব্যবহার করা প্যাডের ভিতর থেকে ঋতুস্রাবের রক্ত নিংড়ে বার করে আনবে। পাশাপাশি, বিজ্ঞানসম্মত পদ্ধতিতে প্যাডটিকে পরিষ্কারও করবে। দেবযানী জানিয়েছেন, শুধু স্যানিটারি প্যাড নয় বাচ্চাদের জাপাকাপড় পরিষ্কার করতেও এই যন্ত্রটি ব্যবহার করা যাবে। এর দাম পড়বে ১৫০০ টাকা।
দেবযানী ও ঐশ্বর্যের দেখানো পথে এই যন্ত্র তৈরি করা শুরু করেছেন আইআইটি বম্বে ও গোয়ার ছাত্রীরাও। খুব তাড়াতাড়ি এই যন্ত্র বাজারে আনা হবে বলে জানা গেছে। আইআইটি গান্ধীনগরের ছ’সপ্তাহের সামার প্রোগ্রামে এই যন্ত্রেটি বিপুল প্রশংসা পেয়েছে।
[caption id="attachment_126860" align="aligncenter" width="463"]
প্রীতি রামাডোস[/caption]
এর আগে চেন্নাইয়ের আন্না ইউনিভার্সিটির পিএইচডি স্কলার 'প্যাড ওম্যান' প্রীতি রামাডোস ‘ইকো-ফ্রেন্ডলি’ স্যানিটারি ন্যাপকিন বানিয়ে চমকে দিয়েছিলেন। বায়োডিগ্রেডেবল সেই প্যাড তৈরি হয়েছিল প্লাস্টিক জাতীয় উপাদান ছাড়াই। প্রীতি জানিয়েছিলেন, সম্পূর্ণ প্রাকৃতিক পদার্থ যেমন পলিস্যাকারাইড এবং পলিমার দিয়ে তৈরি হয়েছে তাঁর স্যানিটারি ন্যাপকিন। এই প্যাড ‘সুপার থিন’, পুরুত্ব মাত্র ৩ মিলিমিটার। দামেও সস্তা আর ব্যবহারেও সম্পূর্ণ নিরাপদ।সেন্ট্রাল ইনস্টিটিউট অব প্লাস্টিক অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং (CIPET) এই ন্যাপকিনকে সুরক্ষিত ঘোষণা করেছে।
আরও পড়ুন:
https://www.four.suk.1wp.in/news-national-tamil-nadu-padwoman-made-eco-friendly-napkin-made-from-cellulose-derivatives/