দ্য ওয়াল ব্যুরো: কাজ করবে এন৯৫ মাস্কের মতোই। তবে দাম আকাশছোঁয়া নয়। মাত্র ৪৫ টাকায় এমন ফেস-মাস্ক আনছেন দিল্লি আইআইটির পড়ুয়ারা।
করোনা মোকাবিলায় এগিয়ে এসেছে দেশের সমস্ত বড় বড় আইআইটি, আইআইএসসি, ইঞ্জিনিয়ারিং ও টেকনিক্যাল কলেজ-ইউনিভার্সিটি, সায়েন্স রিসার্চ ফার্ম। সবাই নিজেদের মতো করে সুরক্ষার কবচ তৈরির চেষ্টা চালাচ্ছে। ডাক্তার-স্বাস্থ্যকর্মীদের জন্য সংক্রমণ ঠেকাবার মতো বিশেষ ফেস-মাস্ক, পোর্টেবল স্যানিটাইজেশন ডিভাইস তৈরির চেষ্টা চলছে। কোভিড-১৯ সংক্রমণ প্রাথমিক পর্যায়ে ধরে দেওয়ার জন্য কম খরচে টেস্ট-কিট বানিয়েছে দিল্লি আইআইটি। এবার তাদের চমক ‘কবচ’।
দিল্লি আইআইটি জানিয়েছে, এন৯৫ মাস্ক কিনে ব্যবহার করা সকলের সাধ্যের মধ্যে নেই। তাই এমন মাস্ক বানানোর চেষ্টা চলছিল, যা এন৯৫ এর মতোই ভাইরাস ঠেকাতে পারবে এবং দামও হবে সাধ্যবিত্তের মধ্যেই। কবচ এমন একটি ফেস-মাস্ক যার মধ্যে অ্যান্টি-মাইক্রোবিয়াল উপাদান আছে যা ভাইরাসকে প্রতিরোধ করতে পারে। নাক ও মুখকে এমনভাবে ঢেকে রাখে যাতে কোনও সংক্রামক জীবাণুই ঢুকতে না পারে। সাধারণ ফেস-মাস্কে যেটা সম্ভব নয়।
https://twitter.com/iitdelhi/status/1251513964225126402
“কবচে রয়েছে এমন ফিলট্রেশন লেয়ার যা ৯৮% সুরক্ষা দিতে পারে। এর গায়ে রেসপিরেটারি ড্রপলেট লেগে গেলেও তার মধ্যে থেকে ভাইরাস ছেঁকে বার করে দিতে পারে। ৩ মাইক্রন সাইজের কণাও আটকাতে পারে এই ফেস-মাস্ক,” বলেছেন দিল্লি আইআইটির টেক্সটাইল ও ফাইবার ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক বিপিন কুমার। তিনি জানিয়েছেন, প্রাথমিকভাবে এই ফেস-মাস্কের দাম ঠিক হয়েছে ৪৫ টাকা। তবে এই দাম আরও কমানো হবে। পর্যাপ্ত পরিমাণে কবচ ফেস-মাস্ক তৈরির চেষ্টা চালাচ্ছে পড়ুয়ারা। উৎপাদন আরও বাড়লে দামও অনেক কমে যাবে।
অধ্যাপক বলেছেন, ফেস মাস্ক শুধু নয় কম খরচে পার্সোনাল প্রোটেকটিভ ইকুইপমেন্টও তৈরি করা হচ্ছে টেক্সটাইল ও ফাইবার ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগে। দেশজুড়েই মাস্ক ও পিপিঅ-র ঘাটতি রয়েছে। বিশেষত ডাক্তার, স্বাস্থ্যকর্মী, প্যারামেডিক্যাল স্টাফ যাঁরা ঝুঁকি নিয়ে করোনা রোগীদের চিকিৎসা করছেন, তাঁদের জন্যই কম খরচে উন্নতমানের পিপিই তৈরি করা হচ্ছে। সিন্থেটিক পলিপ্রপিলিনের বদলে পরিবেশবান্ধব উপাদান দিয়েই তৈরি হচ্ছে এমন পিপিই।
দিল্লি আইআইটির পড়ুয়ারা বলেছেন, একবার ব্যবহারের পরে ভাল করে ধুয়ে নিলেই ফের ব্যবহার করা যাবে কবচ ফেস-মাস্ক। একটি মাস্ক চলবে বহুদিন।
করোনা মোকাবিলায় একাধিক উদ্যোগ নিচ্ছে দিল্লি আইআইটি। কোভিড-১৯ গবেষণার কাজে সুপার কম্পিউটারের প্রযুক্তিকে কাজে লাগানোর প্রস্তাব ইতিমধ্যেই দেওয়া হয়েছে আইআইটির তরফে। ভাইরাসের সংক্রমণ ঠেকানোর বৈজ্ঞানিক গবেষণায় কাজে লাগানো যেতে পারে হাই-পারফরম্যান্স সুপার কম্পিউটারকে। দিল্লি আইআইটি জানিয়েছে, সুপার কম্পিউটার PADUM এর মেধাকে কাজে লাগিয়ে গবেষণা চালাতে পারেন বিজ্ঞানীরা। এই মর্মে এক কোটিরও বেশি কম্পিউটার ডেটা সংরক্ষণ করে রাখার ব্যবস্থাও করা হবে। আগামী ছ’মাসের জন্য দেশের বিভিন্ন সায়েন্স রিসার্চ ফার্ম, গবেষক-বিজ্ঞানীদের এই সুবিধা দেওয়া হবে। ভাইরাস রুখতে গোটা দেশে যা যা কাজ হচ্ছে সেখানেও কাজে লাগানো যেতে পারে সুপার কম্পিউটারের প্রযুক্তিকে।