অভিনন্দন ফিট হলেই বসতে পারবেন ককপিটে, জানালেন এয়ার চিফ মার্শাল
দ্য ওয়াল ব্যুরো: তিন মাস বা ছ’মাসের অপেক্ষা নয়, দ্রুত সুস্থ হয়ে উঠলে যে কোনও দিনই ফের যুদ্ধবিমান নিয়ে আকাশে উড়তে পারবেন বায়ুসেনার উইং কম্যান্ডার অভিনন্দন বর্তমান, সোমবার এমনটাই জানিয়েছেন ভারতের এয়ার চিফ মার্শাল বিএস ধানোয়া।
পাকিস্তানের কব
শেষ আপডেট: 3 March 2019 18:30
দ্য ওয়াল ব্যুরো: তিন মাস বা ছ’মাসের অপেক্ষা নয়, দ্রুত সুস্থ হয়ে উঠলে যে কোনও দিনই ফের যুদ্ধবিমান নিয়ে আকাশে উড়তে পারবেন বায়ুসেনার উইং কম্যান্ডার অভিনন্দন বর্তমান, সোমবার এমনটাই জানিয়েছেন ভারতের এয়ার চিফ মার্শাল বিএস ধানোয়া।
পাকিস্তানের কব্জা থেকে মুক্ত হওয়ার পর দিল্লির সেনা হাসপাতালে শারীরিক পরীক্ষা নিরীক্ষা চলছে অভিনন্দনের। প্রবল স্নায়ুর চাপ থেকে বেরিয়ে আসার পর খেয়াল রাখা হচ্ছে তাঁর মানসিক স্থিতিরও। এখন শুধু তাঁর সুস্থ হয়ে ওঠার অপেক্ষা। এয়ার চিফ মার্শাল ধানোয়ার কথায়, ‘‘অভিনন্দন যত দ্রুত সম্ভব সেনাবাহিনীতে যোগ দেওয়া ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন। কিন্তু আমরা ঝুঁকি নিতে চাই না। তাঁর শারীরিক অবস্থা দেখেই সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।’’ সেই সঙ্গেই তিনি জানিয়েছেন, অভিনন্দনকে যদি ইতিমধ্যেই ফিট সার্টিফিকেট দিয়ে দেন চিকিৎসকরা, তাহলে যে কোনও দিনই যুদ্ধবিমান চালানোর অনুমতি পাবেন তিনি।
শুক্রবার রাতে ওয়াঘা-আটারি সীমান্ত পার করে দেশে ঢোকার পর অভিনন্দনকে প্রথমে অমৃতসর এয়ারবেসে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে থেকে বিশেষ বিমানে উড়িয়ে তাঁকে নিয়ে যাওয়া হয় দিল্লিতে। সেখানেই সেনা হাসপাতালে শুরু হয় তাঁর শারীরিক ও মানসিক পরীক্ষা। এমআরআই এবং অন্যান্য পরীক্ষার পর দিল্লি ক্যান্টনমেন্টের রিসার্চ অ্যান্ড রেফারাল হাসপাতালের চিকিৎসকরা স্পষ্ট করেন, তাঁর শরীরে কোনও রকম কোনও মাইক্রোচিপ বা যন্ত্র ঢোকানো হয়নি। তবে অভিনন্দনের মেরুদণ্ডে এবং পাঁজরের হাড়ে চোট রয়েছে।
গত ২৬ ফেব্রুয়ারি আকাশসীমা লঙ্ঘন করে ভারতে ঢুকে পড়ে পাকিস্তানের একাধিক যুদ্ধবিমান। মিগ-২১ বাইসন যুদ্ধবিমান নিয়ে পাল্টা আক্রমণে নামেন অভিনন্দন। পাকিস্তানের একটি এফ-১৬ যুদ্ধবিমান ধ্বংস করেন তিনি। তাঁর মিগ বিমানটিও ভেঙে পড়ে। তবে মিগ নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাচ্ছে দেখে চলন্ত বিমান থেকেই ইজেক্ট করে বেরিয়ে আসেন তিনি।
বায়ুসেনা সূত্রে খবর, প্রাণের ঝুঁকি নিয়ে ইজেক্ট করতে হয় বিমানচালকদের। আর মিগের মতো ফাইটার জেটের সর্বোচ্চ গতি ঘণ্টায় ২০০০ কিলোমিটারেরও বেশি থাকে। সে ক্ষেত্রে ‘ব্লো আপ’ করে ককপিট থেকে বার হওয়ার সময় কাঁধে ও কলারবোনে চোট পাওয়ার সম্ভাবনা থাকে। শূন্যে ভাসার সময়ে প্রথমে সিট খুলে পড়ে যায় নিজে থেকেই। ওই অবস্থায় ভাসতে ভাসতেই নীচে নামেন চালক। অনেকসময়েই প্যারাস্যুটের কাজ করতে অসুবিধা হয়, তখন ক্যানোপিটা থেকে দড়ি টেনে বার করতে গিয়ে মেরুদণ্ডে চোট লাগার সম্ভাবনা থাকে প্রবল। তা ছাড়া যে উচ্চতায় ‘ইজেক্ট’ করা হয়, সেখানে মাধ্যাকর্ষণ শক্তিও মাটির থেকে কয়েক গুণ বেশি থাকে। সুতরাং, একই সঙ্গে পাঁজরের হাড়, হৃদপিণ্ড, ফুসফুস-সহ শরীরের বিভিন্ন জায়গায় আঘাত লাগার সম্ভাবনা থাকে।
অভিনন্দনের ক্ষেত্রেও তেমনই আশঙ্কা করা হয়েছিল। একাধিক পরীক্ষার রিপোর্টে জানা যায়, তাঁর মেরুদণ্ডে গুরুতর চোট রয়েছে। শুধুমাত্র চলন্ত বিমান থেকে ইজেক্ট করে বেরনোর জন্য, নাকি পাকিস্তানের হাতে ধরা পড়ার সময় মারধরের চোটে সেই আঘাত সেটা এখনও স্পষ্ট নয়। তাই সেনা হাসপাতালে তাঁর শারীরিক পরীক্ষা নিরীক্ষা ডিবিফ্রিং ও ডিবাগিং চলছে সমান্তরাল ভাবেই। এয়ার চিফ মার্শালের কথায়, চিকিৎসকরা সর্বক্ষণ খেয়াল রাখছেন তাঁর শারীরিক পরিস্থিতির দিকে। তাঁর অভিনন্দনকে ফিট ঘোষণা করলেই ফের ককপিটে বসতে পারবেন তিনি।
আরও পড়ুন:
https://thewall.in/we-cant-count-casualties-says-air-chief-marshal-on-balakot-air-strike/