দ্য ওয়াল ব্যুরো: করোনার ভ্যাকসিন গবেষণায় ভারত বায়োটেকের সঙ্গে হাত মেলাল ইন্ডিয়ান কাউন্সিল অব মেডিক্যাল রিসার্চ (আইসিএমআর)। ভারত বায়োটেক আগেই বলেছিল তাদের ভ্যাকসিন গবেষণা দ্বিতীয় পর্যায়ে পৌঁছে গেছে। শনিবার সংস্থার তরফে ঘোষণা করা হয় তৃতীয় পর্যায়ের ট্রায়াল শুরু হয়েছে। সেখানে সাফল্য এলেই মানুষের শরীরে প্রয়োগ করা শুরু হবে।
আইসিএমআর জানিয়েছে, কোভিড রোগীদের নমুনা থেকে যেসব ভাইরাল স্ট্রেন আলাদা করা হয়েছে পুণের ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব ভাইরোলজিতে, সেগুলো গবেষণার জন্য পাঠানো হচ্ছে ভারত বায়োটেকে। এই আরএনএ ভাইরাল স্ট্রেন ভ্যাকসিন তৈরির কাজে লাগবে।
https://twitter.com/BharatBiotech/status/1259370697966706688
কী ধরনের ভ্যাকসিন বানাচ্ছে ভারত বায়োটেক?
ইউনিভার্সিটি অব উইসকনসিন-ম্যাডিসন এবং ফ্লু-জেন ভ্যাকসিন কোম্পানির সঙ্গে হাত মিলিয়ে ন্যাজাল ভ্যাকসিন তৈরি হচ্ছে এই রিসার্চ ফার্মে। বিজ্ঞানীরা বলেছেন, এই ভ্যাকসিনের নাম ‘কোরো-ফ্লু’ (CoroFlu)। এটি হবে ন্যাজাল ড্রপের মতো। শরীরে গিয়ে ভাইরাস প্রতিরোধী অ্যান্টিবডি তৈরি করবে।
ভারত বায়োটেক জানিয়েছে, যেহেতু ফ্লু ভাইরাস বা ইনফ্লুয়েঞ্জা ভাইরাসের সঙ্গে মিল রয়েছে সার্স-কভ-২ ভাইরাসের, তাই ফ্লু ভ্যাকসিন ক্যানডিডেটকেই ব্যবহার করা হচ্ছে এই ন্যাজাল ভ্যাকসিন তৈরির কাজে।
ফ্লু-জেন কোম্পানির তৈরি ফ্লু ভ্যাকসিন ক্যানডিডেট M2SR কে ব্যবহার করেই এই ন্যাজাল ভ্যাকসিন তৈরি করছে ভারত বায়োটেক। গবেষকরা বলছেন, বর্তমানে রেবিস ভাইরাসকে নিষ্ক্রিয় করেও ভ্যাকসিন ক্যানডিডেট তৈরির চেষ্টা চলছে। রেবিস ভাইরাসকে এক্ষেত্রে ভেক্টর হিসেবে ব্যবহার করা হবে। গবেষকরা বলছেন, এই ভ্যাকসিন তৈরির তৃতীয় পর্যায় চলছে। ল্যাবরেটরিতে পশুদের উপর ট্রায়ালে কাজ হচ্ছে।
ভারত বায়োটেকের চেয়ারম্যান ও ম্যানেজিং ডিরেক্টর ডক্টর কৃষ্ণা এল্লা বলেছেন, “আইসিএমআর ও এনআইভি-র সঙ্গে যুক্ত হতে পেরে আমরা গর্বিত। দেশের স্বার্থে যত তাড়াতাড়ি সম্ভব এই ভ্যাকসিন বাজারে আনা হবে।” ভারত বায়োটেকের বিজনেস ডেভেলপমেন্ট হেড র্যাচেস এল্লা বলেছেন, খুব দ্রুত ভ্যাকসিন তৈরি শেষ হবে এবং বিশ্বজুড়ে ৩০ কোটির মতো ভ্যাকসিন পাঠাতে পারবে ভারত বায়োটেক। তাঁর কথায়, এই ভ্যাকসিন মানুষের শরীরের জন্য একদমই নিরাপদ। হিউম্যান ট্রায়ালেই তার প্রমাণ মিলবে।