
শেষ আপডেট: 1 October 2019 14:59
ইউরোপ ও অ্যামেরিকার স্যাটেলাইট থেকে পাওয়া তথ্য বলছে, ২৪ ও ২৫ সেপ্টেম্বরের মধ্যে কোনও একটা সময়ে ডি-২৮ নামের ওই বরফের টুকরো ভেঙে গিয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে৷ আন্টার্কটিকার পূর্বাঞ্চলে অবস্থিত অ্যামেরি আইস সেল্ফ থেকে এটি পৃথক হয়ে গেছে৷ তবে হঠাৎ করে নয়, গত দশ বছর ধরে এই ভাঙনের প্রক্রিয়া চলছিল বলে জানিয়েছেন বিজ্ঞানীরা৷
মার্কিন হিমবাহ বিশারদ হেলেন আমান্ডা ফ্রিকার বলেন, ‘‘ভারী তুষারপাতের কারণে অনেক সময়ে আইস সেল্ফের ওজন বেড়ে যায়৷ বাড়তে বাড়তে এক সময়ে অতিরিক্ত ওজন বেড়ে গেলে, তা এ ভাবে ঝরে পড়ে।'' তিনি জানান, ডি২৮ নামের ওই হিমশৈলের ঘনত্ব প্রায় ২১৫ বর্গমিটার এবং সেখানে যতটা বরফ রয়েছে, তার মোট পরিমাণ প্রায় ৩১৫ বিলিয়ন টন!
তবে এই হিমশৈলের ভাঙনের কারণ জলবায়ু পরিবর্তন বা বিশ্ব উষ্ণায়ন নয় বলেই জানিয়েছেন বিজ্ঞানীরা। গবেষকদের দাবি, আন্টার্কটিকার পূর্বাঞ্চলে, যেখানে এই ঘটনাটি ঘটেছে, সেখানে বিশ্ব উষ্ণায়নের প্রভাব সে ভাবে পড়ে না। মহাদেশটির পশ্চিমাঞ্চল ও গ্রিনল্যান্ডের দিকে যে ভাবে বরফ গলছে জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে, সে ভাবে ক্ষতিগ্রস্ত নয় পূর্বাঞ্চল। ফলে এই হিমশৈলের ভাঙনের কারণ সম্পূর্ণ অন্য৷
এই প্রথম নয়। বছর দুয়েক আগেও এক বার ডি২৮-এর চেয়ে তিন গুণ বড় এক বিশাল বরফের চাঁই ভেঙে পড়েছিল আন্টার্কটিকায়। জলবায়ু পরিবর্তন নিয়ে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছিল তখন৷ কয়েক দিন আগেও অনেকটা বরফ গলে যাওয়ার খবর আসে মেরুপ্রদেশ থেকে। তবে এবারের বিষয়টি জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে হয়নি৷ আমান্ডা ফ্রিকার বলছেন, ‘‘এটা মাথায় রাখা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। মানুষ যেন বিভ্রান্ত হয়ে মনে না করে যে, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে এমনটা হয়েছে৷''
দ্য অ্যামেরি আইস সেল্ফ ১৯৬০ এর দশক থেকে সবচেয়ে বড় হিমশৈলগুলোর একটি। মোট ৯ হাজার বর্গকিলোমিটার এলাকা জুড়ে অবস্থিত অ্যামেরি বর্তমানে অ্যান্টার্কটিকার তৃতীয় বৃহত্তম আইস সেল্ফ। এই সেল্ফ থেকে আমকা বিচ্ছিন্ন হওয়া এত বড় হিমশৈলের অবস্থান ও গতিপথ যদি নিয়ন্ত্রণ না করা যায়, তা হলে তা জাহাজ চলাচলের জন্য বড় বিপর্যয়ের কারণ হয়ে দাঁড়াবে।
শুধু তা-ই নয়। বিশাল ওই আইস সেল্ফটির মাধ্যমে বেশ কিছু হিমবাহ সমুদ্রে প্রবাহিত হয়। বিশাল ওই তুষারস্তূপ সমুদ্রে ভেঙে পড়ার কারণে এখন কী ভাবে সেই হিমবাহ প্রবাহের গতিপথ নির্ধারিত হবে, সেটিও এখন বড় চিন্তার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।
অধ্যাপক ও গবেষক ফ্রিকার অবশ্য ২০০২ সালেই এ বিষয়ে সতর্ক করে বলেছিলেন, আগামী ২০১০ সাল থেকে ২০১৫ সালের মধ্যে এই আইস সেল্ফ সমুদ্রে হারিয়ে যাবে। তিনি এখন বলছেন, "আমি এত দিন অপেক্ষা করছিলাম, কবে এমনটা হবে। কারণ আমরা জানতাম, যে কোনও সময় এটা হতে পারে। এটা হলে সর্বনাশ হয়ে যাবে, কিন্তু আটকানোর পথও আমাদের জানা নেই। বরফ নিজের নিয়মে পড়বেই, আর অ্যামেরি আইস সেল্ফ ভারী হতেই থাকবে।"