দ্য ওয়াল ব্যুরো: কোনও রাজনৈতিক নেতাকে দেশ কোনও তাদের আকাশসীমা ব্যবহার করতে না দিলে সে ব্যপারে হস্তক্ষেপ করতে পারবে না ইন্টারন্যাশনাল সিভিল অ্যাভিয়েশন অথরিটি (আইসিএও), কারণ এই বিষয়টি তাদের এক্তিয়ারের বাইরে। ভারতের অভিযোগের প্রেক্ষিতেএ কথা জানিয়েছে রাষ্ট্রপুঞ্জের অধীন আইসিএও।
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সৌদি আরব সফরের জন্য তাঁর বিশেষ বিমানকে পাকিস্তান তাদের আকাশসীমা ব্যবহার করতে দেবে না বলেছিল, এই মর্মে আইসিএও-কে অভিযোগ জানিয়েছিল ভারত।
ইন্টারন্যাশনাল সিভিল অ্যাভিয়েশন অথরিটি জানিয়েছে, অসামরিক পরিবহণের জন্য যে বিমান ব্যবহার করা হয়, সেটি তাদের এক্তিয়ারের মধ্যে পড়ে। রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বদের বিশেষ বিমান এই শ্রেণিতে পড়ে না, কারণ সেগুলিকে বলা হয় স্টেট এয়ারক্র্যাফট। তাই এই বিষয়টি তাদের এক্তিয়ারের বাইরে। তাদের কাজ হল ১৯৩টি সদস্য দেশের অসামরিক বিমান যাতে সুষ্ঠু ভাবে চলাচল করতে পারে, সেটি দেখভাল করা।
ভারতের প্রধানমন্ত্রীর বিমানকে তাদের আকাশসীমা ব্যবহার না করতে দেওয়ার যে সিদ্ধান্ত পাকিস্তান নিয়েছে তাতে দুই দেশের সম্পর্কের আরও অবনতি হবে বলে মনে করছে কূটনৈতিক মহল। ফেব্রুয়ারি মাসে জম্মু-কাশ্মীরের পুলওয়ামায় পাক মদতপুষ্ট জঙ্গিদের হামলায় পঞ্চাশজনের কাছাকাছি সিআরপিএফ জওয়ানের মৃত্যু হয়। তার পাল্টা হিসাবে পাকিস্তানের বালাকোটে বিমান হামলা করে জঙ্গিশিবির গুঁড়িয়ে দেয় ভারত। তখন থেকেই তাদের আকাশসীমা ভারতকে ব্যবহার করতে দিচ্ছে না পাকিস্তান।
ইন্টারন্যাশনাল সিভিল অ্যাভিয়েশন অথরিটি জানিয়েছে, তাদের নির্দেশিকায় বলা আছে, কোনও দেশের আকাশসীমা ব্যবহার করতে গেলে তাদের অনুমতি প্রয়োজন। ভারতকে সেই অনুমতি নিতে হবে।
জম্মু-কাশ্মীরে মানবাধিকার লঙ্ঘিত হচ্ছে বলে অভিযোগ তুলে, সেই ছুতোয় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর বিমানকে তাদের আকাশসীমা ব্যবহারের অনুমতি দেয়নি পাকিস্তান।
ভারতের সংবিধান থেকে অস্থায়ী ৩৭০ ধারা বিলোপ করা এবং জম্মু-কাশ্মীরকে দুটি কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে ভেঙে দেওয়ার সিদ্ধান্ত দেশের অভ্যন্তরীণ ব্যপার বলে আন্তর্জাতিক মহলে জানিয়ে দিয়েছে নয়াদিল্লি। তবে তারপরেও কাশ্মীরকে আন্তর্জাতিক ইস্যু করার নিরন্তর চেষ্টা করে চলেছে পাকিস্তান। তাদের দেশ থেকে ভারতের রাষ্ট্রদূতকে বহিষ্কার করে কূটনৈতিক সম্পর্কও তারা ছিন্ন করেছে।
ইতিমধ্যেই কাশ্মীরের পরিস্থিতি সরেজমিনে দেখতে এসেছেন ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের সাংসদরা। তাঁদের সম্মানে আয়োজিত মধ্যাহ্নভোজে উপস্থিত ছিলেন কাশ্মীরের তিনজন রাজনৈতিক নেতা। কাশ্মীরে গিয়ে সেখানকার স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথাও বলবেন ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের সাংসদরা।