
শেষ আপডেট: 23 July 2020 18:30
হ্যামার (HAMMER) হল ‘হাইলি অ্যাজাইল মডিউলার মিউনিশন এক্সটেন্ডেড রেঞ্জ’ মিসাইল সিস্টেম। এএএসএম (এয়ার টু গ্রাউন্ড মডিউলার ওয়েপন) সিস্টেমের মধ্যে পড়ে। ২০০৭ সাল থেকে ফ্রান্সের বায়ুসেনা ও নৌসেনা এই মিসাইল সিস্টেম ব্যবহার করে। এই সিস্টেমে সাধারণত ২৫০ গ্রাম ওজনের বোম ও আইএনএস নেভিগেশন সিস্টেম, গ্লোবাল পজিশনিং সিস্টেম (জিপিএস) থাকে। হ্যামারের অনেক রকম ভ্যারিয়ান্ট আছে। ১২৫ কেজি, ৫০০ কেজি, ১০০০ কেজি বোমের সঙ্গে লেজার গাইডেন্স সিস্টেম আছে এই ওয়েপন সিস্টেমে। ফ্রান্সের স্যাফরান ইলেকট্রিনিক্স ও ডিফেন্স এই মিসাইল সিস্টেম তৈরি করেছে।
দৈর্ঘ্যে ৩ মিটার এই মিসাইল সিস্টেমের পাল্লা ৬০ কিলোমিটার। উঁচু পার্বত্য এলাকা, সমতলভূমি যে কোনও জায়গা থেকে আবহাওয়ার যে কোনও পরিস্থিতিতে ছোড়া যায়। একসঙ্গে অনেকগুলো নিশানায় আঘাত করতে পারে। এই মিসাইল সিস্টেমে রয়েছে ইনফ্রারেড ইমেজার এবং এমকে৮২ ওয়ারহেড।
তিন রকমের স্মার্ট বোম ইউনিট রয়েছে এই মিসাইল সিস্টেমে। স্মার্ট বোম ইউনিট এসবিইউ-৩৮, এসবিইউ-৬৪ ও এসবিইউ-৫৪। এসবিইউ-৩৮ ভার্সনে একসঙ্গেই নেভিগেশন সিস্টেম ও জিপিএস গাইডেন্স আছে, এসবিইউ-৫৪ ভার্সনে নেভিগেশন সিস্টেম, জিপিএস গাইডেন্সের সঙ্গেই রয়েছে ইনফ্রারেড গাইডেন্স।
চিনের সঙ্গে চরম উত্তেজনার আবহে প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে আরও মজবুত করার লক্ষ্যে এগোতে চলেছে ভারত। বায়ুসেনার শক্তি বাড়াতে রাশিয়ার থেকে ১২টি অত্যাধুনিক সুখোই ফাইটার জেট ও ২১টি নয়া ভার্সনের মিগ-২৯ কেনার পরিকল্পনা করেছে প্রতিরক্ষা মন্ত্রক। সেই সঙ্গেই রাশিয়ার থেকে এস-৪০০ মিসাইল সিস্টেম কেনার জন্য চুক্তিও করেছে ভারত। প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞরা বলেন, বিশ্বের সবচেয়ে আধুনিক ও শক্তিশালী এয়ার ডিফেন্স মিসাইল সিস্টেম হল এস-৪০০ ট্রায়াম্ফ। এর এক একটি ইউনিটে থাকে ভূমি থেকে আকাশে অর্থাৎ সারফেস-টু-এয়ার মিসাইল, ব্যাটল ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম, দূর-পাল্লার সার্ভিল্যান্স রাডার, অ্যাকুইজিশন অ্যান্ড এনগেজমেন্ট রাডার, কম্যান্ড ভেহিকল এবং ট্রান্সপোর্টার-ইরেক্টর-লঞ্চার ভেহিকল বা টেল ভেহিকল। ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র, মাঝারি পাল্লার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র এবং আকাশপথে আসা নানা ধরনের আক্রমণকে রুখে দিতে সক্ষম এস-৪০০ ট্রায়াম্ফ। পরমাণু যুদ্ধের পরিস্থিতি তৈরি হলে আকাশসীমাকে সুরক্ষিত রাখতে এমন শক্তিশালী এয়ার ডিফেন্স মিসাইল সিস্টেমই সবচেয়ে বড় হাতিয়ার হতে পারে।