
শেষ আপডেট: 26 February 2019 18:30

প্রায় তিন দশক ধরে ভারতীয় বায়ুসেনার অন্যতম হাতিয়ার এই মিরাজ ২০০০ ফাইটার জেট। মাল্টিরোল সিঙ্গল ইঞ্জিন এই জেটটির নির্মাতা ফ্রান্সের দাসো এভিয়েশন। পরে দ্বিপাক্ষিক চুক্তির মাধ্যমে ভারতের হাতে আসে মিরাজ। ১৯৭০ সালের শেষের দিকে লাইটওয়েট ফাইটার হিসেবে মিরাজের জন্ম। এর আগে ফ্রান্সের বায়ুসেনার ভাঁড়ারে ছিল ‘মিরাজ ৩’। লাইটওয়েট ফাইটারের আধুনিকীকরণের পর এটাই হয়ে ওঠে বায়ুসেনার সেরা অস্ত্র।
পরবর্তীকালে মিরাজ ২০০০এন (Mirage 2000N), মিরাজ ২০০০ডি (Mirage 2000D), মিরাজ ২০০০সি (Mirage 2000C), মিরাজ ২০০০বি (Mirage 2000B), মিরাজ ২০০০-৫এফ (Mirage 2000-5F), মিরাজ ২০০০ই (Mirage 2000E) স্ট্রাইক ভ্যারিয়ান্ট তৈরি হয়। বিশ্বের প্রায় ন’টি দেশে রয়েছে ৬০০রও বেশি এই ফাইটার জেট।
১৯৮৫ সালে ভারতীয় বায়ুসেনার হাতে আসে মিরাজ ২০০০। প্রথমে ৪০টি মিরাজ যুদ্ধবিমান কিনেছিল ভারত। পরে কেনা হয় আরও ১০টি। ২০১১ সালে এই যুদ্ধবিমানকে আরও আধুনিক করতে চুক্তিও হয় ফরাসি সংস্থা দাসোর সঙ্গে। মূলত বোমারু বিমান হিসেবেই কাজ করে মিরাজ ২০০০। এটি মাল্টিরোল ফাইটার জেট, অর্থাৎ একদিকে যেমন আকাশে অন্য বিমানের সঙ্গে মুখোমুখি যুদ্ধ করতে সক্ষম, তেমনি নিখুঁত আঘাত হানতে পারে মাটিতে চলমান কোনও বস্তুর উপরেও।
মিরাজ সাধারণত একজন পাইলটকে নিয়ে উড়তে পারে। তবে প্রয়োজনে দু’জন পাইলটও এটিকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারে। গতিবেশ ঘণ্টায় প্রায় ২৩৩৬ কিলোমিটার। ৭৫০০ কিলোগ্রাম ওজনের এই ফাইটার জেট ১৭,০০০ কিলোগ্রাম ওজন নিয়ে আকাশে উড়তে সক্ষম। ক্ষেপণাস্ত্র, রকেট ও লেসার নিয়ন্ত্রিত বোমা পরিবহণ ও নিক্ষেপণ করতে পারে মিরাজ ২০০০। এই যুদ্ধবিমানের পাইলটের হেলমেটে থাকে ডিসপ্লে, যার সাহায্যে তিনি সুপারইমপোজড রাডার ডেটা দেখতে পারেন, ককপিটে আলাদা করে ডিসপ্লে থাকার প্রয়োজন হয় না। হেলমেটের সঙ্গে লাগালো ডিসপ্লে একই সঙ্গে নেভিগেশন ও বোমা নিক্ষেপ নিয়ন্ত্রণ করে। মিরাজ-২০০০সি-র ক্ষেত্রে আবার ককপিটেই থাকে Sextant VE-130 হেড-আপ ডিসপ্লে। যার নীচে মাঝ বরাবর থাকে রাডার স্ক্রিন। এর সাহায্যে জেটের গতি নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি, লক্ষ্যবস্তকে নিপুণ নিশানায় আনা যায়।
ভারতীয় বায়ুসেনা সূত্র জানাচ্ছে, এটি মিগ যুদ্ধবিমানের চেয়ে শুধু উন্নতই নয়, পাকিস্তানের বায়ুসেনা বাহিনীর এফ-১৬ যুদ্ধবিমানকে রীতিমতো পাল্লা দিতে পারে মিরাজ ২০০০ ফাইটার জেট। আকাশপথে সার্জিক্যাল স্ট্রাইকের জন্য এই যুদ্ধবিমান একেবারে পারফেক্ট। মিরাজ ২০০০-এ রয়েছে Thales RDY (radar Doppler multi-target) যা মাটিতে থাকা যে কোনও বস্তুর নিখুঁত মানচিত্র এঁকে ফেলতে পারে এবং ১০০ শতাংশ সঠিক নিশানা লাগাতে পারে। কার্গিল যুদ্ধে টলোলিং ও বাটালিক জয়ে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা নিয়েছিল মিরাজ ২০০০ ফাইটার জেট।