
শেষ আপডেট: 29 June 2023 16:27
বরাবরই তিনি ঠোঁটকাটা হিসেবে পরিচিত। সাদাকে সাদা, কালোকে কালো বলতে পিছপা হন না। বাংলার সফল ক্রিকেটার, সফল অধিনায়কও। যিনি মনে করেন, এখনও তাঁর বাংলার ক্রিকেটকে খেলোয়াড় হিসেবে কিছু দেওয়ার রয়েছে।
মনোজ তিওয়ারির বয়স ৩৭ হলে কী হবে, এখনও সমান তরতাজা। প্রতিদিন সকালে বাইপাসের রাস্তায় দৌড়তে বেরিয়ে যান। বাংলার প্র্যাকটিস থাকলে নিজেই গাড়ি চালিয়ে চলে যান ইডেনে কিংবা সল্টলেক চিংড়ীঘাটায় যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস মাঠে।
মনোজ এই মুহূর্তে নির্বাচনী কাজে বাঁকুড়ায় রয়েছে। সেখান থেকেই বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় দ্য ওয়ালকে জানালেন, ‘আমি সত্যিই এখন খুব ব্যস্ত, নির্বাচনী প্রচারের জন্য জেলায় জেলায় ঘুরছি। আমি যাঁদের জন্য বিধায়ক হয়েছি, তাঁদের অভাব-অভিযোগ জানার দায়িত্ব আমার। মুখ্যমন্ত্রী আমাকে বিশেষ দায়িত্ব দিয়েছেন, সেই কাজটি যথাযথভাবে করতে চাই।’
ইতিমধ্যেই বোর্ড থেকে জাতীয় নির্বাচকদের জন্য আবেদন নেওয়া শুরু হয়ে গিয়েছে। পূর্বাঞ্চল থেকে মনোজ দিলে বোর্ড ভাবতে বাধ্য হতো। কারণ তাঁর অতীত পরিসংখ্যান। যতটুকু দেশের হয়ে খেলেছেন, নিজের সেরাটা দিয়েছেন। চোট তাঁকে মাঝেমধ্যে সমস্যায় ফেলেছে ঠিকই, কিন্তু বাকি প্রাক্তনদের সঙ্গে লড়াইয়ে তিনি এগিয়ে থাকতে পারতেন।
সেই প্রসঙ্গে নামী ‘প্রাক্তন’ ক্রিকেটার তথা তৃণমূলের বিধায়ক বলছিলেন, ‘আমার জাতীয় নির্বাচকের জন্য কোটি টাকার দরকার নেই। আমাকে পাঁচবছরের জন্য বিধায়ক করেছেন জনগণ। তাঁদের কথা না ভেবে নিজের স্বার্থ দেখব, আমি তা চাই না। দলের হয়ে কাজ করে যতটা পাই, তাতেই আমার চলে যাবে। মানুষের পাশে থাকতে হবে, এটাই ব্রত আমার কাছে।’
মনোজ অবশ্য নেতা হলেও খেলা থেকে এখনই অবসর নেওয়ার পরিকল্পনা নেই। আগামী মরশুমেও রঞ্জি খেলবেন। বলে দিলেন, ‘পঞ্চায়েত নির্বাচন চলে গেলেই ফের বাংলা দলের সঙ্গে প্রস্তুতি সারব। সামনের বছরও রঞ্জি খেলব আমি।’
রঞ্জিতে বাংলার গ্রুপ নিয়ে দীর্ঘ ২০ বছর খেলা অভিজ্ঞতাসম্পন্ন ক্রিকেটারের মন্তব্য, রঞ্জিতে ছোট-বড় দল বলে কিছু নেই এখন। দেশের বহু প্রতিভা উঠে আসছে। বোর্ড তাদের জাতীয় ক্রিকেট অ্যাকাডেমিতে রেখে তৈরি করছে। চোট লাগলে চিকিৎসা করাচ্ছে। অনেক সুবিধে পাচ্ছে। তাই রঞ্জিতে ভাল করতে হলে শুরু থেকেই শক্তিশালী দলের সঙ্গে লড়তে হবে।
বিশ্বকাপে ভারতীয় দলের সম্ভাবনা নিয়ে এখনই মুখ খুলতে নারাজ মনোজ। দেশের হয়ে মোট ২০টি আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলা ডানহাতি ব্যাটারের সোজাসাপটা জবাব, ‘এখনও তিন মাস হাতে রয়েছে। এশিয়া কাপ খেলবে দল। অনেক ম্যাচ রয়েছে সামনে। দলের বহু বদল হবে। তবে ভারতের মাটিতে বিশ্বকাপ, তাই এই সুযোগকে কাজে লাগাতে হবে।’