
হুমায়ুন কবীর।
শেষ আপডেট: 27 November 2024 14:33
দ্য ওয়াল ব্যুরো: দলের তরফে শো-কজের পরও নিজস্ব মেজাজে রয়েছেন মুর্শিদাবাদের ভরতপুরের তৃণমূল বিধায়ক হুমায়ুন কবীর। অন্তত শো-কজের প্রশ্নে সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া প্রতিক্রিয়ায় হুমায়ুন তেমন ইঙ্গিতই দিলেন।
ভরতপুরের তৃণমূল বিধায়কের কথায়, "বিধানসভার মধ্যে তো কোনও কথা বলিনি!" হুমায়ুন এও বলেন, "রাজনীতির ময়দানে কাউকে ভয় করি না।" প্রশ্ন তুলেছেন, "অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের হয়ে কথা বললে সেটা শৃঙ্খলাভঙ্গ হয় কি করে?"
হুমায়ুন এও বলেন, "আমার ব্যক্তিগত স্বার্থে কেউ আঘাত করলে আমার মৃত বাবার সঙ্গেও কম্প্রোমাইজ করিনি, সেখানে কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় বা ফিরহাদ হাকিমের সঙ্গে করার তো প্রশ্নই নেই।"
তিনি এখনও শো-কজের চিঠি পাননি জানিয়ে হুমায়ুন বলেন, "দলে মনে করেছে শো-কজ করেছে। তবে এখনও চিঠি পাইনি। চিঠি পেলে যে যে পয়েন্টে শো-কজ করা হয়েছে তার জবাব দেব।"
সম্প্রতি কসবার গুলি কাণ্ডের পর রাজ্য পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে উপ মুখ্যমন্ত্রী করার দাবি জানিয়েছিলেন হুমায়ুন। একই সঙ্গে দলের একাংশ নেতার বিরুদ্ধেও প্রকাশ্যে মুখ খুলেছিলেন। হুমায়ুন বলেছিলেন, "অন্যায় হলে আমাকে তো বলতেই হবে। আমি কাউকে ভয় ডর করি না।"
এমনকী মমতার ঘনিষ্ঠরা দলনেত্রীর ভাল চান না বলেও প্রকাশ্যে মন্তব্য করেন তিনি। ফিরহাদ হাকিম, কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়দের নামোল্লেখ করে হুমায়ুন এও বলেন, "প্রভাবশালীরা আমাকে মার্ডার করে ফেলতে পারে।" এদিনও হুমায়ুন বলেন, "আমি চাই না দলের ক্ষতি হোক। তাই প্রকাশ্যে কিছু কথা বলেছি।"
শো-কজের পরও এদিন নিজের বক্তব্যে অনড় থেকে হুমায়ুন বলেন, "হক কথা বলার জন্য দল শোকজ করলে করবে! এর আগে তো ২০১৫ সালে আমাকে বিনা নোটিসে ৬ বছরের জন্য শোকজ করে দেওয়া হয়েছিল। এবারে তবু নোটিস দেওয়া হয়েছে। তাতে গর্ব অনুভব করছি।"
একই সঙ্গে তিনি এও বলেন, "বেঁচে থাকলে রাজনীতির ময়দান ছেড়ে কখনও যাব না।" অর্থাৎ শেষ পর্যন্ত সাসপেন্ড করলে তিনি কি দল বদলাবেন? হুমায়ুন বলেন, "আমার স্ট্যান্ড ক্লিয়ার। অভিষেককে নিয়ে যা বলেছি, তাতে ভুল কিছু বলিনি। দল কী পদক্ষেপ করে সেটা দেখে পরের পদক্ষেপ ঠিক করব।"
প্রসঙ্গত, অতীতে কংগ্রেস করা হুমায়ুন, তৃণমূলে সাসপেন্ড হওয়ার পর কিছুদিনের জন্য বিজেপিতেও যোগ দিয়েছিলেন। ফলে তাঁর অনড় মন্তব্যের জেরে দল বদলের সম্ভাবনা একেবারে উড়িয়ে দিচ্ছে না ওয়াকিবহাল মহল।
প্রসঙ্গত, সোমবার দলের জাতীয় কর্ম সমিতির বৈঠক থেকে তিনটি শৃঙ্খলারক্ষা কমিটি গড়ে দেন তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। নির্দেশ অমান্য করলে যে কড়া শাস্তির মুখে পড়তে হবে সেটাও সোমবারই স্পষ্ট করে দিয়েছিলেন চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য। চন্দ্রিমা এও বলেন, এখন থেকে কাউকে তিনবার শোকজ করা হবে। না শুধরালে এরপর সংশ্লিষ্ট নেতাকে দল সাসপেন্ড করবে।
তাৎপর্যপূর্ণভাবে, এরপরও মঙ্গলবার মুর্শিদাবাদের ভরতপুরের বিধায়ক হুমায়ুন কবীরকে দেখা গেছে নিজস্ব মেজাজে। দলের একাংশ নেতৃত্বর বিরুদ্ধে মিডিয়ার সামনে মন্তব্য করতে দেখা গিয়েছে তাঁকে। এরপরই বুধবার তৃণমূলের বিধানসভা শৃঙ্খলারক্ষা কমিটির তরফে হুমায়ুনকে শো-কজ করা হয়।