দ্য ওয়াল ব্যুরো : আমি জেলে যেতে ভয় পাই না। শুক্রবার রাতে বিশাখাপত্তনমে এক জনসভায় বলেছেন তেলুগু দেশম পার্টির নেতা চন্দ্রবাবু নায়ডু। তার কয়েক ঘণ্টা আগেই কুডাপ্পায় তাঁর ঘনিষ্ঠ রাজ্যসভা সাংসদ সি এম রমেশের বাড়িতে হানা দেন আয়কর অফিসাররা। চন্দ্রবাবুর অভিযোগ, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী তাঁকে নানাভাবে হেনস্থা করতে চান।
নায়ডুর কথায়, আজ-কালের মধ্যে হয়তো আমাকেও জেলে পুরবে। কিন্তু আমি তাতে ভয় পাই না। কুডাপ্পায় রমেশ বাবুর বাড়িতে তল্লাশির কথা শুনে তিনি বলেন, মোদী কেন্দ্রীয় সংস্থাগুলিকে টিডিপি নেতা ও প্রার্থীদের বিরুদ্ধে লাগিয়ে দিয়েছেন।
গত কয়েকমাসে তেলুগু দেশম পার্টির বেশ কয়েকজন নেতার বাড়িতে তল্লাশি চালিয়েছে কেন্দ্রীয় সংস্থা। তার বিরুদ্ধে নায়ডু একসময় সমর্থকদের নিয়ে আম্বেদকর মূর্তির পাদদেশে ধরনায় বসেছিলেন। তাঁর দাবি, অন্ধ্রপ্রদেশের বিরুদ্ধে অন্যায় করা হয়েছে। তিনি প্রতিবাদ করেছেন বলেই মোদী তাঁর ওপরে প্রতিশোধ নেওয়ার সুযোগ খুঁজছেন।
বিশাখাপত্তনমের জনসভায় তিনি অভিযোগ করেন, আয়কর দফতর, এনফোর্সমেন্ট ডায়রেক্টরেট, সিবিআই, রিজার্ভ ব্যাঙ্ক এবং নির্বাচন কমিশনকে নিজের স্বার্থে কাজে লাগাচ্ছেন মোদী। এভাবে তিনি গণতন্ত্রের অপমান করছেন।
কিছুদিন আগে নির্বাচন কমিশন অন্ধ্রের মুখ্য সচিব অনিল চন্দ্র পুনেথাকে সরিয়ে দিয়েছে। নায়ডু ওই বদলির তীব্র প্রতিবাদ করে বলেছেন, নির্বাচন কমিশন মোদীর হয়ে কাজ করছে। তাঁর কথায়, নির্বাচন কমিশন প্রথমে এক জেলা কালেক্টরকে সরিয়ে দিল। তারপর পুলিশের ডিজি সহ তিন আইপিএস অফিসারকে সরাল। সব শেষে মুখ্য সচিবকে সরিয়ে দেওয়া হল কোনও কারণ ছাড়াই। নির্বাচন কমিশন যা খুশি তাই করতে পারে না। তাকে নিরপেক্ষভাবে কাজ করতে হবে।
নায়ডু আগেই দাবি করেছেন, তাঁর বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করছেন ওয়াই এস আর কংগ্রেসের ওয়াই এস জগনমোহন রেড্ডি, তেলঙ্গানার মুখ্যমন্ত্রী চন্দ্রশেখর রাও এবং প্রধানমন্ত্রী মোদী। রাজ্য প্রশাসনের শীর্ষস্থানীয় অফিসারদের বদলি করে জগনের সুবিধা করে দেওয়া হচ্ছে।
নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ আছে চন্দ্রবাবুর। তিনি বলেন, ওয়াই এস আর কংগ্রেসের বিরুদ্ধে অভিযোগ করা হয়েছিল, তারা সাত নম্বর ফর্ম ব্যবহার করে সাত লক্ষ ভোটারের নাম বাদ দিয়েছে। কিন্তু এর পরেও নির্বাচন কমিশন কোনও ব্যবস্থা নেয়নি।
চন্দ্রবাবুর কথায়, আমি দীর্ঘ ৪০ বছরের রাজনৈতিক জীবনে বহু নির্বাচন কমিশন দেখেছি। ইভিএমে কারচুপি করার সুযোগ আছে যথেষ্ট। ২২ টি দল দাবি জানিয়েছিল, ৫০ শতাংশ ক্ষেত্রে ভিভিপ্যাটের স্লিপ গণনা করা হোক। কিন্তু নির্বাচন কমিশন সাফ জানিয়ে দিয়েছে, তা সম্ভব নয়।