দ্য ওয়াল ব্যুরো: প্রথমে ধর্ষণ। তার পরে খুন। প্রমাণ লোপাটের জন্য তরুণীর দেহ পুড়িয়ে দিয়েছিল দুই মদ্যপ ট্রাকচালক। হায়দরাবাদে তরুণী পশুচিকিৎসক হত্যাকাণ্ডে নয়া মোড়।
হায়দরাবাদের কাছেই শাদনগর থানার চাতানপল্লি সেতুর কাছ থেকে এক তরুণীর ঝলসানো দেহ উদ্ধার হয় গতকাল, বৃহস্পতিবার। দেহ উদ্ধারে গিয়ে শিউরে উঠেছিলেন পুলিশ কর্তারা। শরীরের অর্ধেকের বেশি পুড়ে গেছে। দেহ ময়নাতদন্তের পরে জানা গেছে ওই তরুণীকে আগে ধর্ষণ করা হয়েছিল। সম্ভবত এর পরে গলা টিপে খুন করা হয়। পরে পুড়িয়ে দেওয়া হয় দেহ। ঘটনায় জড়িত সন্দেহে দুই ট্রাকচালককে গ্রেফতার করেছে সাইবারাবাদ থানার পুলিশ। ধৃতদের অসংলগ্ন কথাবার্তা, হাবভাবেই পুলিশের অনুমান এই ধর্ষণ ও খুনের ঘটনায় তারাই জড়িত। এলাকার সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
তদন্তকারীদের অনুমান, শামশাবাদ মফস্বল এলাকার তন্দুপল্লি টোল প্লাজার কাছে খুন করা হয় ওই তরুণীকে। পরে তরুণীর দেহটি ২৫ কিলোমিটার দূরে শাদনগরে চাতানপল্লি সেতুর কাছে পুড়িয়ে দেওয়া হয়।
স্থানীয় একটি টায়ার সারানোর দোকানের মালিক পুলিশকে জানিয়েছেন, রাত সাড়ে ৯টা থেকে ১০টার মধ্যে এক তরণী তাঁর স্কুটারের টায়ার বদলানোর জন্য দোকানে আসেন। দুই ট্রাক চালকের কাছে সাহায্যও চেয়েছিলেন। পৌণে ১০টা নাগাদ ওই তরুণীকে তিনি ফোনে তাঁর বোনের সঙ্গে কথা বলতে শোনেন। দোকানের মালিকের দাবি, কোনওকারণে ওই তরুণী খুব ভয় পেয়ে গিয়েছিলেন। বার বার তাঁর বোনকে বলছিলেন দুই ট্রাকচালক নাকি তাঁর আশপাশে ঘুরঘুর করছে। কুনজরে তাঁকে দেখছে। এরপরের ঘটনা আর তিনি কিছু বলতে পারেননি।
তরুণীর পরিবারের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে তদন্তকারীরা জানতে পারেন সেদিন রাতে বোনের থেকে সাহায্য চেয়েছিলেন তরুণী। দুই মদ্যপ ট্রাকচালকের কথা বারবার বলছিলেন। তাঁর বোন তরুণীকে পরামর্শ দেন স্কুটার ছেড়ে ক্যাব ভাড়া করে চলে আসতে। পরে যখন তরুণীর বোন আবার তাঁকে ফোন করেন, তখন তাঁর মোবাইলটি বন্ধ ছিল। কোনওবাবেই যোগাযোগ করা যায়নি। বেলা ১১টা নাগাদ তরুণীর পরিবারের তরফে থানায় একটি নিখোঁজ ডায়েরি করা হয়।
সাইবারাবাদের পুলিশ কমিশনার ভি সি সজ্জনার জানিয়েছেন, টোল প্লাজার সিসিটিভি ফুটেজ পরীক্ষা করে দেখা হচ্ছে। ঘটনাস্থল থেকে নির্যাতিতার জামাকাপড়ের ছেড়া অংশ, মদের বোতল, জুতো পাওয়া গেছে। অভিযুক্তদের জেরা করা চলছে।