দ্য ওয়াল ব্যুরো: মহিলা কণ্ঠের আর্ত চিৎকার শুনে এলাকার বাসিন্দারা ছুটে এসে দেখেন রাস্তায় শুয়ে কাতরাচ্ছে এক কিশোরী। শরীরে কাপড়ের লেশমাত্র নেই, নগ্ন দেহ রক্তে মাখামাখি। হাত, পা, মুখ থেকে গলগল করে রক্ত বেরিয়ে রাস্তায় মিশেছে। তার সামনেই ব্লেড হাতে দাঁড়িয়ে এক যুবক। তার চোখ লাল, মত্ত অবস্থায় মুখে অশ্লীল কথার তুবড়ি।
বৃহস্পতিবার দুপুরে হায়দরাবাদের গান্ধী নগরে এমন ভয়ানক দৃশ্য থেকে শিউরে উঠেছিলেন স্থানীয়রা। কিশোরীকে তড়িঘড়ি হাসপাতালে পাঠানো হয়। তার অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে হাসপাতাল সূত্রে খবর।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, কিশোরীকে সারা শরীর ব্লেড দিয়ে ক্ষতবিক্ষত করছিল ওই যুবক। মেয়েটির চিৎকার শুনে তাঁরা যখন ছুটে এসে দেখেন রক্তে ভেসে যাচ্ছে চারদিক। ব্লেড হাতে তখনও কিশোরীকে আঘাত করে চলেছে ওই যুবক। মুখে গালিগালাজ। শুধু তাই নয়, গোটা ঘটনাটা মোবাইলে ভিডিও করছিল সে। লোকজন দেখেও সে ভয় পায়নি। একই ভাবে ভিডিও করে চলেছিল। স্থানীয় এক বাসিন্দার কথায়, যুবক নেশাগ্রস্ত ছিল। তাকে যখন স্থানীয়রা ধরে ফেলেন সে ঠিকমতো দাঁড়াতেই পারছিল না। গাঁজা ও সেই সঙ্গে অন্য কোনও ড্রাগও নিয়েছিল সে। তার কথাবার্তাও ছিল অসংলগ্ন।
যুবককে ধরে বেধড়ক মারতে থাকেন এলাকার লোকজন। খবর পেয়ে পুলিশ পৌঁছয় ঘটনাস্থলে। যুবককে গ্রেফতার করে নিয়ে যায়। পুলিশ জানিয়েছে, অভিযুক্তকে জেরা করা চলছে। তার নাম, পরিচয় এখনও জানা যায়নি। তার কাছে যে মোবাইল ছিল তাতে মেয়েটির ভিডিও সেভ করা ছিল।
পুলিশ সূত্রে খবর, গান্ধীনগর এলাকার কলেজ, হোস্টেলগুলিতে পড়ুয়াদের মধ্যে নেশার প্রবণতা মাত্রা ছাড়া হয়ে উঠেছে। যথেচ্ছ ভাবে মাদক পাচার চলছে কলেজগুলিতে। অভিযুক্ত যুবক এলাকারই কোনও কলেজের ছাত্র কি না সেটা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। মাদক চক্রের সঙ্গে তার কোনও যোগ রয়েছে কি না খোঁজ চলছে তারও। অভিযুক্তের বিরুদ্ধে, অপহরণ, খুনের চেষ্টা ও পকসো আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে।