দ্য ওয়াল ব্যুরো: মুম্বইয়ের গ্লেনমার্কের পরে দেশের বাজারে অ্যান্টি-রেট্রোভিয়াল ওষুধ ফ্যাভিপিরাভির নিয়ে আসছে হায়দরাবাদের ফার্মাসিউটিক্যাল কোম্পানি জেনারা ফার্মা। ফ্যাভিপিরাভির ওষুধ তৈরি ও বিক্রির জন্য ড্রাগ কন্ট্রোলের অনুমতিও পেয়েছে এই সংস্থা।
জেনেরা ফার্মার তৈরি ফ্যাভিপিরাভিরের ব্র্যান্ড হল ফ্যাভিজ়েন। গ্লেনমার্ক ফ্যাভিফ্লু নামে এই ওষুধ বিক্রি করছে। জেনেরার ম্যানেজিং ডিরেক্টর ডক্টর জগদীশ বাবু বলেছেন, ওষুধের মূল উপকরণগুলি দেশেই তৈরি হয়েছে। বাইরে থেকে আমদানি করার দরকার পড়েনি। তাই দেশের বাজারে কম দামেই বিক্রি করা হবে এই ওষুধ। ড্রাগ কন্ট্রোলের অনুমতি পাওয়ার পরে বিভিন্ন হাসপাতাল ও নার্সিংহোমে ফ্যাভিজ়েন পৌঁছে দেওয়ার ব্যবস্থা করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন তিনি। এই ওষুধের দাম কত হবে সে ব্যাপারে এখনও কিছু জানায়নি জেনেরা ফার্মা।
চিন, জাপান, ইতালিতে করোনা রিকভারি ট্রায়ালে ফ্যাভিপিরাভিরের রিপোর্ট ভালর দিকে থাকায় দেশেও এই ওষুধের ক্লিনিকাল ট্রায়াল শুরু করেছিল ইন্ডিয়ান কাউন্সিল অব মেডিক্যাল রিসার্চ (আইসিএমআর) এবং সরকারি সংস্থা সেন্টার ফর সায়েন্টিফিক অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিয়াল রিসার্চ তথা সিএসআইআর। করোনা থেরাপির সলিডারিটি ট্রায়ালে রেমডেসিভির, টোসিলিজুমাবের মতো ফ্যাভিপিরাভিরের প্রয়োগও সম্মতি দিয়েছিল কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রক। ড্রাগ কন্ট্রোলের গাইডলাইনে বলা হয়েছিল, করোনা সংক্রমণ যদি মৃদু বা মাঝারি হয়, তবেই নির্দিষ্ট ডোজে এই ওষুধ প্রয়োগ করা যাবে। জরুরি ভিত্তিতেই ফ্যাভিপিরাভিরের প্রয়োগ করার কথা বলা হয়েছে নির্দেশিকায়।
ফ্যাভিপিরাভির ওষুধ বানিয়েছে জাপানের ফুজিফিল্ম টোয়ামা কেমিক্যাল। এই ড্রাগের ব্র্যান্ড নাম হল ‘অ্যাভিগান’ । ২০১৪ সালে ইনফ্লুয়েঞ্জা ভাইরাসের প্রকোপ যখন মারাত্মক পর্যায়ে পৌঁছেছিল, তখন এই ওষুধ বানিয়েছিল জাপানের অন্যতম বড় ফার্মাসিউটিক্যালস ফুজিফিল্ম। ইনফ্লুয়েঞ্জা প্রতিরোধে এই ড্রাগ কার্যকরী। হলুদ জ্বর, হাত ও পায়ের যে কোনও ভাইরাল ইনফেকশন কমাতে পারে এই ওষুধ। চিন, জাপান, রাশিয়া এবং পশ্চিম এশিয়ার কিছু দেশে কোভিডের মোকাবিলায় সম্ভাব্য ওষুধ হিসেবে এর পরীক্ষা হয়েছে। তাতে ইতিবাচক ফলও মিলেছে বলে ট্রায়ালের রিপোর্টে জানিয়েছে ফুজিফিল্ম।
কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রক ও ইন্ডিয়ান কাউন্সিল অব মেডিক্যাল রিসার্চের উদ্যোগে করোনার সলিডারিটি ট্রায়ালে ফ্যাভিপিরাভিরের পরীক্ষামূলক প্রয়োগ শুরু করেছিল গ্লেনমার্ক ফার্মাসিউটিক্যালস। প্রথম দুই ট্রায়ালের রিপোর্ট সন্তোষজনক হওয়ায় তৃতীয় পর্যায়ের ট্রায়াল হয় এই ওষুধের। সেই ট্রায়ালের রিপোর্ট দেখেই করোনা চিকিৎসায় ফ্যাভিপিরাভিরের ব্র্যান্ড ফ্যাবিফ্লু প্রয়োগ করার ছাড়পত্র দেয় ড্রাগ কন্ট্রোল। কেন্দ্রীয় ড্রাগ কন্ট্রোলার ভি জি সোমানি জানান, হয়েছে, মৃদু ও মাঝারি সংক্রমণের রোগীদের উপরেই জরুরি ভিত্তিতে ফ্যাভিপিরাভিরের থেরাপি করা যাবে।
জুন মাসে দেশের বাজারে ফ্যাভিপিরাভিরের জেনেরিক ভার্সন ফ্যাবিফ্লু নিয়ে এসেছে মুম্বইয়ের গ্লেনমার্ক ফার্মাসিউটিক্যালস। গ্লেনমার্ক জানিয়েছিল ফ্যাভিফ্লু ওষুধের একটি ট্যাবলেটের দাম পড়বে ১০৩ টাকা। কিন্তু পরে স্বাস্থ্যমন্ত্রকের তরফে জানানো হয়, ওষুধের দাম নিয়ে ভুল খবর রটিয়েছে গ্লেনমার্ক। যদিও সংস্থার তরফে জানানো হয়, ফ্যাভিপিরাভির ওষুধের বিক্রি লাভজনক হয়েছে। ভারতের বাজারে এই ওষুধের চাহিদাও রয়েছে। এই ওষুধের মূল উপকরণগুলি গ্লেনমার্কই তৈরি করে। বিদেশ থেকে এই ওষুধ তৈরির কোনও উপকরণই আমদানি করার প্রয়োজন পড়ে না। তাই দাম কমানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।