
শেষ আপডেট: 9 July 2018 19:40
উপাচার্য সুরঞ্জন দাস সোমবার সকালেই ক্যাম্পাসে এসে পড়ুয়াদের সঙ্গে দেখা করে অনশন তুলে নেওয়ার অনুরোধ করেন। জানান, তিনি আচার্য অর্থাৎ রাজ্যপাল কেশরীনাথ ত্রিপাঠিকে সবটা জানিয়েছেন। তাঁর নির্দেশ পাওয়ামাত্র পদক্ষেপ করবেন। এর পরেই দুপুরে আচার্য কেশরীনাথ ত্রিপাঠি নির্দেশ দেন, কর্মসমিতির বৈঠক ডেকে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে। বিশ্ববিদ্যালয়ের যাতে ভাল হয়, সেই সিদ্ধান্ত নেওয়ার দায়িত্ব উপাচার্যকে নিতে বলেন তিনি।
এর পরে কেটে যায় অনেকটা সময়। সোমবার রাতে কর্তৃপক্ষের তরফে জানানো হয়, মঙ্গলবার দুপুর দু'টোয় জরুরি ভিত্তিতে কর্মসমিতির বৈঠক ডাকা হয়েছে। যদিও পড়ুয়াদের অভিযোগ, যেখানে যত তাড়াতাড়ি সম্ভব পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার কথা বলা হচ্ছে, যেখানে পড়ুয়ারা অনশন করতে গিয়ে অসুস্থ হয়ে পড়ছেন, সেখানে 'জরুরি' ভিত্তিতে একটা কর্মসমিতির বৈঠক ডাকতে গোটা একটা দিন সময় লেগে যায়। ইতিমধ্যেই অনশনকারী পড়ুয়াদের রক্তচাপ অনেকটা নীচে নেমে গিয়েছেন। অসুস্থবোধ করছেন বেশ কয়েক জন।
মঙ্গলবার দুপুর দু'টোয় এই কর্মসমিতির বৈঠকের আগে একটি মিছিলের ডাক দিয়েছেন পড়ুয়ারা। তাঁরা জানিয়েছেন, কর্মসমিতির বৈঠকের আশ্বাস পেয়ে কোনও ভাবেই আন্দোলনের পথ বদল করছেন না তাঁরা। বৈঠকের সিদ্ধান্তের উপরেই নির্ভর করছে সব কিছু। কলা বিভাগের ছ'টি বিভাগে প্রবেশিকা পরীক্ষা বহাল রাখা এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তিপদ্ধতিতে তথা সামগ্রিক পরিচালনায় স্বাধিকার বজায় রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হলে, তবেই অনশনের পথ থেকে সরবেন তাঁরা।
মঙ্গলবার বিকেল পাঁচটায় বিশ্ববিদ্যালয়ে একটি জমায়েতের ডাক দেওয়া হয়েছে প্রাক্তনীদের তরফে। তাঁরা জানিয়েছেন, অচলাবস্থা কাটিয়ে, ছেলেমেয়েগুলির শরীরের কথা ভেবে, যথাযথ ভর্তি পদ্ধতি শুরু করার দাবি জানাবেন কর্তৃপক্ষের কাছে। অন্য দিকে বুধবার বেলা তিনটেয় বিশ্ববিদ্যালয়ের গান্ধী ভবনের সামনে একটি গণকনভেনশনের ডাক দিয়েছে শিক্ষক সমিতি জুটা।
যদিও এখনই চাপ কমার কোনও ইঙ্গিত দেখছেন না কেউই। কারণ সরকারি চাপে পড়ে ভর্তিপদ্ধতিতে যে আচমকা বদল আনতে বাধ্য হয়েছেন কর্তৃপক্ষ, তা এত সহজে মীমাংসা হবে বলে মনে হচ্ছে না। ছাত্রদের দাবি মেনে নিলে যে তা উপাচার্যের জন্য খুব সুবিধাজনক পরিস্থিতি তৈরি করবে না, তা তাঁর কথাতেই পরিষ্কার। সোমবার সকালেই তিনি পড়ুয়াদের সঙ্গে কথা বলার সময়ে বলেন, "আমি চেয়ারে বসলে এক রকম, চেয়ারের বাইরে আমার মতামত আলাদা।" ফলে এই 'চেয়ারের চাপ' যে খুব সহজ নয়, তা স্পষ্ট বোঝা গিয়েছে ইতিমধ্যেই।
আবার পড়ুয়াদের দাবি না মেনে নিলেও যে পরিস্থিতি কঠিন থেকে কঠিনতর হবে, তা বলার অপেক্ষা রাখে না। কারণ এই ক'দিনের নাছোড়বান্দা মনোভাব থেকে এটা স্পষ্ট, যে দাবি না মানলে কোনও ভাবেই সুর নরম করবেন না পড়ুয়ারা। সে ক্ষেত্রে বিশ্ববিদ্যালয়ের মান-সম্মান ইতিমধ্যেই যা ধাক্কা খেয়েছে, তা আরও বাড়বে। তীব্র সমালোচনার মুখে পড়বেন কর্তৃপক্ষ।
সকলের চোখ তাই মঙ্গলবার দুপুরের ইসি মিটিংয়ের দিকে।