
শেষ আপডেট: 31 October 2019 12:16
নিউ সাউথ ওয়েলসের বাসিন্দারা জানিয়েছেন, পোর্ট ম্যাককারির দক্ষিণে লেক ইনস এবং লেক ক্যাথি সংলগ্ন এলাকায় চোখ রাখলেই দেখা যাচ্ছে আগুনের তীব্র ঝলকানি। মনে করা হচ্ছে, বিদ্যুৎ চমকানোর জেরে আগুন ধরে যায় বনের একটি অংশে। তা থেকেই অগ্নিকাণ্ডের সূত্রপাত মঙ্গলবার। ক্রমে ধ্বংসাত্মক হয়ে উঠেছে দাবানল।
পোর্ট ম্যাকাকারিতেই রয়েছে কোয়ালাদের বিশেষ হাসপাতাল। ওই হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের দাবি, ওই এলাকাতেই ছিল, কোয়ালাদের একটি অন্যতম প্রজনন ক্ষেত্র। হাসপাতালের ডিরেক্টর সু অ্যাসটনের কথায়, "কোয়ালাদের বৈশিষ্ট্য হল এদের জিনগত বৈচিত্র্য। এরা জাতীয় সম্পদ। এদের একটা বড় সংখ্যক যদি এ ভাবে মারা যায়, তাহলে তা নিঃসন্দেহে বড় ক্ষতি। কোয়ালাদের উদ্ধারকাজ শুরু হয়েছে। কিন্তু পুরোপুরি কাজ শেষ হতে এখনও দুয়েক দিন লাগবে। ততদিনে আরও কিছু কোয়ালা মারা যাবে।"
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দাবানল থেকে বাঁচতে মোটেও দক্ষ ও ত্রস্ত নয় এই প্রাণীরা। আগুন লেগেছে টের পেলেই এরা ঝটপট কোনও বড় গাছের মগডালে উঠে পড়ে। আর তার পর সেই ডাল জড়িয়েই পড়ে থাকে। ফলে সাধারণত, বড় মাপের অগ্নিকাণ্ড না হলে আগুনের শিখা ছুঁতে পারে না তাদের। কিন্তু যদি দাবানলের তীব্রতা বাড়ে, সে ক্ষেত্রে জীবন্ত পুড়ে মারা যাওয়া ছাড়া আর কিছুই করার থাকে না তাদের। পালাতে পর্যন্ত পারে না তারা।
দেখুন ভিডিও।
https://www.facebook.com/koalahospital/videos/2477998252456794/?v=2477998252456794
আবার অনেক সময়ে এমনও হয়, গাছের মগডালে উঠে কোনও রকমে প্রাণে বাঁচলেও গাছ থেকে নামতে গিয়ে নিজেদের নরম থাবা, নখ পুড়িয়ে ফেলে তারা। এর ফলে এতটাই জখম হয়ে যায়, যে পরে ফের অগ্নিকাণ্ডের থেকে বাঁচতে গিয়ে আর গাছ বেয়ে ওঠার ক্ষমতাটুকুও থাকে না।
খাতায়-কলমে কোয়ালা এখনও বিপন্ন তালিকাভুক্ত নয়। কিন্তু যে ভাবে অরণ্য ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে, তাতে কোয়ালাদের জীবন নিঃসন্দেহে বিপন্ন। দমকল জানিয়েছে, এখনও আগুন জ্বলছে বিভিন্ন জায়গায়। ফলে কোয়ালাদের কতটা ক্ষতি হল, কতই বা বাঁচল, তার আন্দাজ পেতে আরও কিছু সময় লাগবে প্রশাসনের।