দ্য ওয়াল ব্যুরো : শনিবার বিকালেই পাঞ্জাবের মুখ্যমন্ত্রী অমরিন্দর সিং-এর ছেলে রনিন্দর সিং (Ranindar Singh) জানিয়েছিলেন, তাঁর বাবা ইস্তফা দিতে চলেছেন। সেইমতো সন্ধ্যায় রাজভবনে গিয়ে ইস্তফা দিলেন অমরিন্দর সিং। তাঁকে প্রশ্ন করা হয়, এবার কি আপনি নতুন দল গড়বেন? ক্যাপটেন অমরিন্দর সিং এমন সম্ভাবনার কথা উড়িয়ে দেননি। তিনি বলেন, কংগ্রেসে তাঁকে তিনবার অপমানিত হতে হয়েছে। এখন দলের হাইকম্যান্ড যাকে খুশি পাঞ্জাবের মুখ্যমন্ত্রী নিয়োগ করতে পারে।
শুক্রবার রাতে আচমকাই জানা যায়, পাঞ্জাবের বিধায়করা বৈঠকে বসেছেন। শোনা যায়, তাঁদের বড় অংশই হাইকম্যান্ডের কাছে আবেদন জানিয়েছেন, মুখ্যমন্ত্রী বদল করা হোক। শনিবার ৭৯ বছর বয়সী অমরিন্দর বলেন, এদিন সকালেই তিনি পদত্যাগ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। কংগ্রেস সভানেত্রী সনিয়া গান্ধীকে তিনি জানিয়েও দিয়েছেন সিদ্ধান্তের কথা।
অমরিন্দর সিং বলেন, "গত দু'মাসে কংগ্রেসের নেতারা তিনবার আমাকে অপমান করেছেন। হাইকম্যান্ড থেকে দু'বার বিধায়কদের ডেকে পাঠানো হয়েছে দিল্লিতে। এদিন কংগ্রেস পরিষদীয় দলের বৈঠক ডাকা হয়েছে। মনে হচ্ছে নেতৃত্ব আমার ওপরে আস্থা রাখতে পারছে না।"
বিদায়ী মুখ্যমন্ত্রীকে প্রশ্ন করা হয়, আপনি কি কংগ্রেসেই থাকবেন, নাকি নতুন দল গড়বেন? তিনি বলেন, সব পথই খোলা আছে। সময়মতো সিদ্ধান্ত নেব। তবে এই মুহূর্তে আমি কংগ্রেসে আছি। অমরিন্দর সিং-এর ছেলে টুইট করে বলেন, আমার বাবার সঙ্গে রাজভবনে গিয়েছিলাম। সবকিছু নতুন করে শুরু করতে হবে।
২০১৭ সাল থেকে প্রাক্তন ক্রিকেটার তথা রাজনীতিক নভজ্যোৎ সিং সিধুর সঙ্গে অমরিন্দর সিং-এর অশান্তি চলছে। অমরিন্দরের আপত্তি সত্ত্বেও গত জুলাইতে সিধুকে প্রদেশ কংগ্রেসের সভাপতি করে হাইকম্যান্ড। তার আগে দলনেত্রী সনিয়া গান্ধী, প্রাক্তন কংগ্রেস সভাপতি রাহুল গান্ধী ও কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক প্রিয়ঙ্কা গান্ধী দফায় দফায় অমরিন্দর সিং ও সিধুর সঙ্গে বৈঠকে বসেন। পরে সিধু ও অমরিন্দরকে চায়ের আসরে দেখা যায়। তারপর রাহুল সাংবাদিকদের বলেন, “আপনারা দেখতেই পাচ্ছেন, পাঞ্জাব সংকটের সমাধান হয়েছে।”
পাঞ্জাব প্রদেশ কংগ্রেসের সভাপতি হওয়ার পরে সিধু চিঠি লেখেন অমরিন্দর সিংকে। তিনি বলেন, সনিয়া গান্ধীর জন্যই তিনি দলে উঁচু পদ পেয়েছেন। তিনি লেখেন, “আমার কোনও ব্যক্তিগত স্বার্থ নেই। আমি মানুষের পক্ষে কথা বলি। আপনি পাঞ্জাব কংগ্রেস পরিবারে সবচেয়ে বয়স্ক। আপনি দয়া করে প্রদেশ কংগ্রেসের নতুন টিমকে আশীর্বাদ করুন।”
এরপর সিধু তাঁর কয়েকজন উপদেষ্টা নিয়োগ করেন। তাঁদের নিয়ে অমরিন্দরের সঙ্গে সিধুর নতুন করে বিরোধ শুরু হয়। পরে বিধায়কদের এক বড় অংশ ফের বলতে থাকেন, অবিলম্বে অমরিন্দর সিংকে সরানো উচিত। কারণ তিনি নির্বাচনের আগে দেওয়া প্রতিশ্রুতি পালন করতে পারেন না। অবশেষে সেই চাপের কাছে নতিস্বীকার করলেন বর্ষীয়ান ক্যাপটেন অমরিন্দর সিং।