দ্য ওয়াল ব্যুরো : কর্ণাটকের ১০২ বছর বয়সী স্বাধীনতা সংগ্রামী এইচ এস দোরেস্বামী নাগরিকত্ব সংশোধন আইন নিয়ে কেন্দ্রীয় সরকারের সমালোচনা করেছিলেন। তাঁকে পাকিস্তানের এজেন্ট বলেন বিজেপি বিধায়ক বাসবরাজ ইয়াতনাল। তাঁর বিধায়কপদ খারিজের দাবিতে সোমবার কংগ্রেসীরা সরব হন কর্ণাটক বিধানসভায়। হট্টগোলের জেরে বিধানসভার অধিবেশন মুলতবি করে দিতে হয়।
বিধানসভায় প্রথমে বিষয়টি তোলেন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী সিদ্দারামাইয়া। এর পরেই শুরু হয় হইচই। প্রদেশ কংগ্রেসের কার্যনির্বাহী সভাপতি এশওয়ার খানড্রে বলেন, "কয়েকজন বিজেপি নেতা, বিশেষত বাসবরাজ ইয়াতনাল স্বাধীনতা সংগ্রামীদের সম্পর্কে কুকথা বলে চলেছেন। দোরাইস্বামীকে তিনি বলেছেন দেশদ্রোহী। আমরা বিধানসভায় দাবি করেছি, তাঁর বিরুদ্ধে মামলা করতে হবে। বিধানসভার সম্মান রক্ষার্থে অবিলম্বে বহিষ্কার করতে হবে তাঁকে।"
বিধানসভায় ওই ইস্যুটি আলোচনা করার দাবিতে বিরোধীরা আসন ছেড়ে ওয়েলে নেমে আসেন। বিজেপি বলে, আগে নোটিস দেওয়া হয়নি। তাই ওই বিষয়ে আলোচনা হওয়া সম্ভব নয়।
বাসবরাজ কয়েকদিন আগে দোরেস্বামী সম্পর্কে বলেছিলেন, তিনি ভুয়ো স্বাধীনতা সংগ্রামী। তিনি দেশদ্রোহী। এই বিষয়টি নিয়ে কর্ণাটক বিধানসভায় বড় ধরনের অশান্তি শুরু হয়েছে। বিধানসভায় বাজেট পেশ করাতে হবে বৃহস্পতিবার। তার আগে এমন অচলাবস্থা সৃষ্টি হওয়াই উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে সরকারি মহলে।
কংগ্রেস নেতাদের বক্তব্য, বাসবরাজ সামগ্রিকভাবে স্বাধীনতা সংগ্রামের অবমাননা করেছেন। তিনি সংবিধানেরও অবমাননা করেছেন। বিজেপি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, তারা বাসবরাজকে বক্তব্য প্রত্যাহার করতে বলবে না। কারণ দোরেস্বামী কংগ্রেস ও সেকুলার জনতা দলের মুখপাত্র হিসাবে কাজ করছিলেন।
বিজয়পুরার বিধায়ক বাসবরাজের সমর্থনে বক্তব্য পেশ করেছেন কয়েকজন বিজেপি বিধায়ক। তাঁদের প্রশ্ন, দোরেস্বামী প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ও বিজেপির মতাদর্শগত গুরু ভি ডি সাভারকরের সমালোচনা করেছিলেন কেন?