দ্য ওয়াল ব্যুরো : রবিবারই হরিয়ানা পুলিশ সতর্ক করে বলেছিল, সোমবার কৃষকরা কয়েকটি হাইওয়ে অবরোধ করতে পারেন। তাই যানজটের (Huge Jam) জন্য প্রস্তুত থাকুন। এদিন সকালে জানা যায়, দিল্লি সীমান্তে গুরগাঁও ও নয়ডাতে ব্যাপক যানজট দেখা দিয়েছে। পুলিশ ও আধা সেনা জওয়ানরা প্রতিটি গাড়ি পরীক্ষা করে দেখছেন। ভারত বন্ধের জেরে কয়েকটি ট্রেনও বাতিল করা হয়েছে।
সোমবার ভোরেই জানা যায়, হরিয়ানা ও পাঞ্জাবে কয়েকটি হাইওয়ে অবরোধ করা হয়েছে। কিন্তু কৃষক নেতা রাকেশ টিকায়েত দাবি করেন, তাঁরা কোনও রাস্তাই বন্ধ করেননি। অ্যাম্বুলেন্স, চিকিৎসক ও জরুরি পরিষেবা প্রদানকারী সকলকেই যাতায়াত করতে দেওয়া হচ্ছে। রাকেশ টিকায়েতের কথায়, "আমরা কিছুই বন্ধ করিনি। আমরা কেবল একটি বার্তা দিতে চেয়েছি।" দোকানদারদের উদ্দেশে তিনি আহ্বান জানান, দোকান বন্ধ রাখুন। বিকাল চারটে অবধি দোকান খুলবেন না।
৪০ টিরও বেশি সংগঠনকে নিয়ে গঠিত সংযুক্ত কিষাণ মোর্চা এদিন ভোর ছ'টা থেকে দিল্লি-মিরাট এক্সপ্রসওয়ে অবরোধ করে। গাজিপুরে ওই অবরোধের জন্য উত্তরপ্রদেশ থেকে দিল্লিগামী যানবাহন চলতে পারেনি। কৃষক সংগঠনগুলি জানিয়েছে, ১২ ঘণ্টার এই বন্ধে দেশ জুড়ে সরকারি ও বেসরকারি অফিস, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, কারখানা ও দোকানপাট বন্ধ থাকবে। একইসঙ্গে বলা হয়েছে, বিক্ষোভ থাকবে শান্তিপূর্ণ।
এদিন ভোরেই কৃষকরা হরিয়ানার কাছে শম্ভু সীমান্তও অবরোধ করেন। পাঞ্জাবে প্রদেশ কংগ্রেসের সভাপতি নভজ্যোৎ সিং সিধু দলীয় কর্মীদের উদ্দেশে আহ্বান জানিয়েছেন, বন্ধকে সমর্থন করুন। টুইট করে তিনি বলেন, "প্রদেশ কংগ্রেস দৃঢ়ভাবে কৃষক ইউনিয়নগুলির ভারত বন্ধের পক্ষে দাঁড়াচ্ছে। যখন ন্যায় ও অন্যায়ের মধ্যে লড়াই হয়, তখন কেউ নিরপেক্ষ থাকতে পারে না।"
উত্তরপ্রদেশে বহুজন সমাজ পার্টির প্রধান মায়াবতী বলেছেন, তাঁর দল শান্তিপূর্ণ ভারত বন্ধ সমর্থন করবে। তাঁর কথায়, "আমাদের দেশের কৃষকরা তিনটি কৃষি আইন মেনে নেননি। তাঁরা গত ১০ মাস ধরে বিক্ষোভ দেখাচ্ছেন।"
কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক কে সি বেণুগোপাল বলেছেন, "কালা কৃষি আইনের বিরুদ্ধে আমরা কৃষকদের পাশে আছি।" রবিবার রাকেশ টিকায়েত বলেন, "কৃষকরা প্রয়োজনে ১০ বছর ধরে আন্দোলন করবেন। সরকারকে আমাদের কথা শুনতেই হবে।"
দিল্লিতে পুলিশের টহলদারি বাড়ানো হয়েছে। রাজধানীর সীমান্তে তৈরি হয়েছে পুলিশ পিকেট। পুলিশের এক কর্তা জানিয়েছেন, দিল্লিতে আইন-শৃঙ্খলা বজায় রাখার জন্য যথেষ্ট ব্যবস্থা করা হয়েছে। দিল্লি সীমান্তে তিনটি বিক্ষোভস্থল থেকে কোনও আন্দোলনকারী শহরে ঢুকতে পারবেন না।