দ্য ওয়াল ব্যুরো : কিছুদিন আগে আবু ধাবিতে অর্গানাইজেশন অব ইসলামিক কো-অপারেশনের সভায় গিয়েছিলেন বিদেশমন্ত্রী সুষমা স্বরাজ। সেখানে তিনি সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে জোরালো বক্তব্যও পেশ করেন। কিন্তু তার পরেই কাশ্মীর নিয়ে ভারতের নিন্দা করে কড়া বিবৃতি দেয় ওআইসি। রবিবার তা নিয়ে শাসক বিজেপির কড়া সমালোচনা করেছে কংগ্রেস। তাদের বক্তব্য, কূটনৈতিকভাবে ব্যর্থ হয়েছে সরকার।
শনিবার ভারত সম্পর্কে দু’টি প্রস্তাব পাশ হয়েছে ওআইসি-র সভায়। একটি কাশ্মীর নিয়ে। অপরটি ভারত-পাকিস্তানের শান্তি প্রক্রিয়া নিয়ে। প্রথম প্রস্তাবে বলা হয়েছে, ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে বিরোধের মূল কারণ হল কাশ্মীর। ‘ভারতের অধিকৃত কাশ্মীরে’ মানবাধিকার লঙ্ঘন নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে। সন্ত্রাসবাদীদের পাণ্ডা বুরহান ওয়ানির মৃত্যুকে বলা হয়েছে ‘বিচার বহির্ভূত খুন’। কাশ্মীরে ‘ভারতের সন্ত্রাস’ নিয়ে মন্তব্য করা হয়েছে।
দ্বিতীয় প্রস্তাবে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের প্রশংসা করে বলা হয়েছে, তিনি ভারতের সঙ্গে আলোচনা চেয়েছেন। ভারতের যুদ্ধবিমানের এক পাইলট পাকিস্তানে বন্দি হওয়ার পরে তাঁকে ফিরিয়েও দিয়েছেন। ওআইসি আহ্বান জানিয়েছে, ভারত-পাকিস্তান সীমান্তে এখন সংযম প্রয়োজন। সব বিতর্কের মীমাংসা হওয়া উচিত শান্তির পথে। ভারতের বায়ুসেনা যেভাবে পাকিস্তানের ভিতরে ঢুকে আক্রমণ চালিয়েছে, তার নিন্দা করা হয়েছে। সেই সঙ্গে বলা হয়েছে, আত্মরক্ষার অধিকার আছে পাকিস্তানের।
কংগ্রেসের মুখপাত্র মনীশ তেওয়ারি বলেন, সরকার দাবি করেছিল, ওআইসি-র বিদেশমন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠকে ডাক পাওয়া তাদের কূটনৈতিক সাফল্য। কিন্তু সেই দাবি মিথ্যা প্রমাণিত হয়েছে। ওআইসি কাশ্মীর নিয়ে পাকিস্তানকেই সমর্থন করেছে। ভারতের তথাকথিত বর্বরতার নিন্দা করেছে।
পুলওয়ামায় জঙ্গি হানার পরেই সরকার বলেছিল, কূটনীতির পথে আন্তর্জাতিক মহল থেকে পাকিস্তানকে একঘরে করার চেষ্টা হবে। মনোজ তেওয়ারি বলেন, বিদেশমন্ত্রী সুষমা স্বরাজ আবু ধাবিতে ওআইসি-র মিটিং-এ গেলেন। এনডিএ তথা বিজেপি দাবি করছিল, ও আই সি-র প্লেনারিতে ভারতের আমন্ত্রণ পাওয়া বিরাট কূটনৈতিক সাফল্য। কিন্তু আবু ধাবিতে যা হয়েছে, তা ভারতের পক্ষে অত্যন্ত আপত্তিকর।
মনোজ তেওয়ারির প্রশ্ন, আমি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ও সুষমা স্বরাজের কাছে জানতে চাই, একে কি কূটনৈতিক সাফল্য বলে?
স্বরাজের আগে ভারতের আর কোনও বিদেশমন্ত্রী ওআইসি-র সভায় যাননি। পাকিস্তান থেকে বার বার আবেদন জানানো হয়েছিল, ভারতকে যেন আমন্ত্রণ না করা হয়। কিন্তু ওআইসি সেকথা শোনেনি। সেজন্য পাকিস্তানের বিদেশমন্ত্রী শাহ মাহমুদ কুরেশি প্লেনারি বৈঠক বয়কট করেন। কিন্তু কংগ্রেসের দাবি, ভারত ওই প্লেনারি অধিবেশনে অংশগ্রহণ করে জাতীয় স্বার্থের বিরুদ্ধে কাজ করেছে।