
শেষ আপডেট: 24 February 2023 05:56
ইউরোপার পৃষ্ঠদেশ পুরু বরফ দিয়ে তৈরি। হাবল টেলিস্কোপ দেখিয়েছে, পিঠে জমে আছে চাপ চাপ বরফ। প্রায় ১৫ থেকে ২৫ কিলোমিটার পুরু। সেই বরফের চাদরের তলায় ঢাকা পড়ে আছে জলের স্তর। সেখানে প্রাণের অস্তিত্ব থাকতে পারে বলে নানা মতামত দিয়েছিলেন বিজ্ঞানীরা। মনে করা হয় বরফের স্তরের নীচে ৬০ থেকে ১৫০ কিলোমিটার গভীরে জলের স্তর আছে। গবেষণায় এও দেখা গিয়েছিল, ইউরোপায় নাকি এত বড় জলের ভাণ্ডার আছে যা পৃথিবীর সমুদ্রের চেয়েও বড়।
গবেষকরা বলছেন, প্রাণের জন্য জলকে তরল অবস্থায় থাকতেই হবে আর সেই জলকে পর্যাপ্ত হতে হবে, এটা যেমন ঠিক, তেমনই তরল অবস্থায় জলের হদিশ মিললেই যে প্রাণ সৃষ্টি হবে, তা কিন্তু জোর দিয়ে বলা যায় না। প্রাণ তৈরি হতে গেল পর্যাপ্ত অক্সিজেনেরও প্রয়োজন। আর সেই অক্সিজেনকে পর্যাপ্ত পরিমাণে গ্যাসীয় অবস্থাতেই থাকতে হবে। এখনও পর্যন্ত যে সব তথ্য পাওয়া গিয়েছে, তাতে মঙ্গলের তুলনায় অক্সিজেন গ্যাস অনেক বেশি পরিমাণে রয়েছে বৃহস্পতির দুই চাঁদ— ‘ইউরোপা’ আর ‘গ্যানিমিদ’-এ।
১৯৯৯ সাল থেকে ২০১৫ সাল অবধি ইউরোপাকে নজরে রেখে দেখা গিয়েছিল, এই উপগ্রহের চারপাশে জলীয় বাষ্পের স্তর জমে আছে। এর আগেও একবার ধোঁয়া বের হতে দেখা গিয়েছিল ইউরোপা থেকে। এখন নাকি আরও বড় এলাকা জুড়ে ধোঁয়া বের হতে শুরু করেছে।
বৃহস্পতি আমাদের সৌরমণ্ডলের সবচেয়ে বড় গ্রহ। আকারে-আয়তনে, ভরে পেল্লায় হওয়ায় একে গুরুগ্রহই বলে মহাকাশবিজ্ঞানীরা। এই বৃহস্পতির ৭৯টি উপগ্রহ আছে। কোনও গ্রহের উপগ্রহকে সাধারণত চাঁদ বলেই ডাকা হয়। তো বৃহস্পতির এই ৭৯টি চাঁদের সবকটিই গ্যাসীয় পিণ্ড। তাতে প্রাণ থাকার সম্ভাবনা খুব একটা আছে কিনা সে নিয়ে পাকাপোক্ত তথ্য এখনও দিতে পারেননি বিজ্ঞানীরা। এমনিতেই ভিন গ্রহে প্রাণের খোঁজ নিয়ে সেই কবে থেকেই তোলপাড় চলছে। নাসা এক্সোপ্ল্যানেট হান্টার কবে থেকেই ভিন গ্রহদের পাড়ায় চক্কর কেটে চলেছে। এর আগে বৃহস্পতির উপগ্রহ গ্যানিমিদ থেকে রেডিও সিগন্যাল পাওয়া গিয়েছিল। বিজ্ঞানীরা বলেছিলেন, পৃথিবীর মতোই বৃহস্পতির এই চাঁদে শক্তিশালী চৌম্বক ক্ষেত্র আছে। এই চৌম্বক ক্ষেত্র আছে গ্যানিমিদের দুই মেরুতে। পৃথিবীর মতোই সেই চৌম্বক ক্ষেত্রের টানে গ্যানিমিদের দুই মেরুতে উজ্জ্বল আলোর স্রোত দেখা যায়। অনেকটা অরোরার মতো। আয়নিত কণার সমষ্টি ভেসে বেড়ায় সেখানে।
পড়ুন দ্য ওয়ালের সাহিত্য পত্রিকা 'সুখপাঠ'