
হাওড়া মিউনিসিপ্যালিটি
শেষ আপডেট: 28 June 2024 17:03
দ্য ওয়াল ব্যুরো, হাওড়া: সোমবার রাজ্যের প্রায় সব পুরসভার পুরপিতাদের নিয়ে বৈঠকে বসেছিলেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। আর সেই বৈঠকেই হাওড়া পুর নিগমের কাজকর্ম নিয়ে ক্ষোভ উগরে দেন তিনি। জমি দখল থেকে শুরু করে একাধিক অসামাজিক কার্যকলাপের অভিযোগ তোলেন। নাম না করে কাঠগড়ায় তোলেন হাওড়ার চার বিধায়ককে।
এরপরেই শুক্রবার হাওড়া পুরসভার বৈঠকে ঠিক হল এবার থেকে হাওড়ার উন্নতির জন্য পুলিশ প্রশাসন ও পুরসভা সমন্বয় রেখে কাজ করবে। এদিন হাওড়া পুরসভায় বৈঠকের পর এলাকা পরিদর্শন করেন জেলার পুলিশ কমিশনার, জেলাশাসক এবং ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী মনোজ তিওয়ারি। ছিলেন পুর কমিশনারও। কদমতলা এলাকায় রাস্তার ওপর জবরদখল করে থাকা বাজার ঘুরে দেখেন তাঁরা। জেলাশাসক দিপাপ প্রিয়া বলেন, "রাস্তার ওপর যেসমস্ত বাজার বসছে সেগুলোর জন্য যাতে সমস্যা না হয় সেজন্য পরিকল্পনা নেওয়া হচ্ছে। এছাড়াও বেআইনি বহুতল ও বেআইনি টোটো রুখতেও ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।"
এদিন রাজ্যের মন্ত্রী অরূপ রায় জানান, এবার থেকে পুলিশ-প্রশাসন-পুরসভা সমন্বয় রেখে কাজ করবে। বেআইনি নির্মাণ রুখতে কড়া পদক্ষেপ করা হচ্ছে।অবৈধ নির্মাণের তালিকা তৈরি হচ্ছে। প্রয়োজনে জমির মালিক ও প্রমোটারের বিরুদ্ধে এফআইআর করে গ্রেফতার করা হবে। বেআইনি পার্কিং রুখতেও অভিযান চালাচ্ছে পুলিশ। টোটোকে আইনের অনুশাসনে নিয়ে আসার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। টোটোর জন্য নির্দিষ্ট রুট তৈরি করা হবে। টোটোর মালিককেই গাড়ি চালাতে হবে।
মুখ্যমন্ত্রী ওইদিন ক্ষোভ উগরে দিয়ে বলেন, “প্ল্যান পাশ করতে গিয়েও হয়রানির শিকার হতে হয় সাধারণ মানুষকে। অথচ আমরা অনলাইন করে দিয়েছিলাম। তা সত্ত্বেও সেটা কাজে লাগানো হয়নি। এর মধ্যে অনেকে যুক্ত। সাংবাদিকদের সামনে নাম নিলাম না। একটা গ্রুপ তৈরি হয়েছে। খালি জায়গা দেখলেই লোক বসিয়ে দিচ্ছে। হাওড়ায় কোনও বোর্ড নেই। এসডিও-র তত্ত্বাবধানে আছে। তিনি কোনও কাজ করছেন না। ওইখানকার চারজন বিধায়ক অ্যাডভানটেজ নিচ্ছে। যে যে এলাকায় বোর্ড নেই নির্বাচিত প্রতিনিধিরা ভাবছে এটা আমার সম্পত্তি।”
শুক্রবার রাজ্যের মন্ত্রী অরূপ রায় বলেন, "পুরসভার ভোট করা জরুরি। মুখ্যমন্ত্রীর কাছে আবেদন করা হবে। যতদিন না ভোট হচ্ছে ততদিন সমন্বয় রেখেই হাওড়া পুরো এলাকার উন্নয়ন করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।"