
শেষ আপডেট: 26 August 2024 16:57
দ্য ওয়াল ব্যুরো, হুগলি: সিঙ্গুরে কারখানা তৈরির জন্য আন্দোলনে নামছেন কৃষকরা। তৈরি হল কমিটি। এবার 'বন্ধ্যা জমি পুনর্ব্যবহার কমিটি' নামে একটি কমিটি তৈরি করে মুখ্যমন্ত্রীর কাছে আবেদন জানাচ্ছেন কৃষকরা। তাঁদের আর্জি হয় জমি চাষযোগ্য করে দেওয়া হোক, নয়তো এই জমিতে শিল্প হোক। সিঙ্গুরের তৃণমূল নেতা বেচারাম মান্না অবশ্য দাবি করেছেন, এখানকার ৯১ শতাংশ জমিতেই চাষ হয়।
টাটাদের গাড়ি কারখানার জন্য ২০০৬ সালে সিঙ্গুরে এক হাজার একর জমি অধিগ্রহণ করেছিল তৎকালীন বাম সরকার। এরপরেই অনিচ্ছুক কৃষকরা তাদের জমি জোর করে কেড়ে নেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ তুলে আন্দোলন শুরু করেছিলেন। তৈরি হয় সিঙ্গুর কৃষি জমি রক্ষা কমিটি। সেই কৃষি জমি রক্ষা কমিটির অন্যতম মুখ ছিলেন তৃণমূল নেতা দুধকুমার ধারা। বেড়াবেরি গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান ও সিঙ্গুর পঞ্চায়েত সমিতির কর্মাধ্যক্ষর পদ সামলেছেন দুধকুমার। তবে গত পঞ্চায়েত নির্বাচনে তাঁকে টিকিট দেয়নি দল।
সেই দুধকুমার ধারা এবার সিঙ্গুরের কৃষকদের নিয়ে আবার নতুন করে আন্দোলন শুরু করলেন। তাঁদের দাবি, হয় বন্ধ্যা জমিকে চাষযোগ্য করে দিতে হবে। নয়তো সেখানে শিল্প করতে হবে। ইতিমধ্যেই কৃষকদের জন্য ফর্ম বিলি শুরু হয়েছে। তাঁদের সই সংগ্রহ করে তা মুখ্যমন্ত্রীর কাছে পাঠানো হবে। ৩০ অগস্ট থেকে সিঙ্গুরে অবস্থান শুরু করবে সিঙ্গুর বন্ধ্যা জমি পুনরুদ্ধার কমিটি। দুধকুমার বলেন, "আট বছর পেরিয়ে গেছে সিঙ্গুরে সাড়ে ৬০০ থেকে ৭০০ একর জমি বন্ধ্যা হয়ে পড়ে রয়েছে। ২০১৬ সালে সুপ্রিম কোর্ট যে রায় দিয়েছিল তাতে বলেছিল জমি চাষযোগ্য করে ফেরত দিতে হবে। কিন্তু জমি চাষযোগ্য হয়নি। জমির সীমানাও নির্ধারণ হয়নি।"
তিনি জানান, চাষের জন্য কিছু মিনি ডিপ টিউবওয়েল বসানো হয়েছিল। তার বিল আসছে অত্যধিক। সেগুলোকে সোলার সিস্টেমে আনতে হবে। জমি অধিগ্রহণের আগে কৃষকদের যে অধিকার ছিল সেই অধিকার ফিরিয়ে দিতে হবে। নিকাশি ব্যবস্থা বন্ধ হয়ে গেছে সেটাকে চালু করতে হবে। হাজার চেষ্টার পরও যদি চাষযোগ্য না করা যায় জমি তাহলে সেখানে সরকারি বা বেসরকারি উদ্যোগে শিল্প করা হলে কৃষকরা সহযোগিতা করবেন।
তিনি বলেন, "মুখ্যমন্ত্রী হয়তো সবটা জানেন না। কারণ স্থানীয় প্রশাসন তাকে জানায়নি। বিএলআর অফিসে কৃষকরা গিয়েছিল কিন্তু তাদের পাত্তা দেওয়া হয়নি। তাই আমরা একটা সময় যারা আন্দোলন করেছিলাম সে অনিচ্ছুক কৃষক এবং ইচ্ছুক কৃষকরা দল মত নির্বিশেষে এই কমিটি তৈরি করেছি। আমরা আমাদের আবেদনটাকে সরাসরি মুখ্যমন্ত্রীর কাছে পৌঁছে দিতে চাইছি।"
এ প্রসঙ্গে সিঙ্গুরের বিধায়ক মন্ত্রী বেচারাম মান্না বলেন, "আন্দোলন করা মানুষের অধিকার। যে কেউ আন্দোলন করতে পারে। কিন্তু বাস্তবে সিঙ্গুরের প্রায় ৯১ শতাংশ জমি চাষযোগ্য হয়ে আছে। যারা চাষ করার তারা চাষ করছেন। যারা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে আন্দোলন করেছিলেন তাঁরা এই আন্দোলনে নেই।"