
ট্যাব কেলেঙ্কারিতে প্রতারিত নীলাভ্র ও তাঁর বাবা তাপস হালদার
শেষ আপডেট: 15 November 2024 12:25
দ্য ওয়াল ব্যুরো, হুগলি: তরুণের স্বপ্নের ট্যাবের টাকা প্রতারণার জাল ছড়িয়েছিল দু'বছর আগেই। তখনও দক্ষিণের টাকা উত্তরের ব্যাঙ্কে জমা হয়েছিল। পুলিশকে জানানো হলেও তদন্ত সেইভাবে হয়নি বলে অভিযোগ।
পোলবার শরৎচন্দ্র মেমোরিয়াল এইচ এস ইন্সটিটিউটশন স্কুলে ২০২২ সালে এই ঘটনা ঘটে। সেই সময় নীলাভ্র হালদার একাদশ শ্রেণির ছাত্র ছিলেন।তাঁর ক্লাসে ৬৮ জন পড়ুয়ার মধ্যে একমাত্র তাঁরই অ্যাকাউন্টে টাকা ঢোকেনি। নীলাভ্র বর্তমানে পোলবা কলেজে ইংরেজি অনার্সের ছাত্র। সেই সময় ট্যাবের টাকাটা পেলে তাঁর খুব কাজে লাগত বলে জানান ওই ছাত্র। কারণ অনলাইন ক্লাস করতে সমস্যা হয়।
ছাত্রের বাবা তাপস হালদার জানান, সরকারি প্রকল্প তরুণের স্বপ্নের টাকা সবাই পেলেও তাঁর ছেলে পাননি। তিনি বলেন, "নীলাভ্রর অ্যাকাউন্টে টাকা ঢোকেনি অথচ ওর সহপাঠীরা টাকা পেয়েছে জানতে পেরে স্কুলে জানাই। স্কুল থেকে তখন একটা এফআইআর করা হয়। সাইবার ক্রাইম থানা থেকে একটা চিঠি আমাকে দেওয়া হয়। সেখানে বলা হয় উত্তরবঙ্গে একটা অ্যাকাউন্টে টাকা চলে গেছে। সেই টাকা আজ পর্যন্ত ফেরেনি। আগে হয়তো একটা দুটো হয়েছিল এখন দেখছি এরকম ভূরিভূরি হয়েছে। এখন দেখছি যারা প্রতারিত হয়েছে তাদের টাকা ফিরিয়ে দিচ্ছে সরকার। সেটা যদি হয় তাহলে আমার ছেলেও তো টাকা পাওয়া উচিত।"
তিনি জানান, তাঁর ছেলের ইউকো ব্যাঙ্কে টাকা ঢোকার কথা ছিল। পোলবা ব্রাঞ্চে। সেই টাকা চলে গেল উত্তর দিনাজপুরের এসবিআই এর অ্যাকাউন্টে। স্কুলের বক্তব্য, অ্যাকাউন্ট নম্বরে কোনও অসুবিধা ছিল না, তাহলে এটা কেন হল। ট্রেজারি থেকে তো টাকা ছাড়া হয়েছিল ছেলের নামে তাহলে সেই টাকা সে পাবে না কেন? সেই প্রশ্ন তুলেছেন তাপসবাবু।
শরৎচন্দ্র এইচএস ইন্সটিটিউটশনের টিচার ইনচার্জ শিখা বাগ বলেন, "আমার স্কুলে সেসময় ৬৮ জন পড়ুয়া ছিল। তার মধ্যে ৬৭ জন পেয়েছিল। শুধু নীলাভ্র পায়নি। এবছর ৯২ জন টাকা পেয়েছে। নীলাভ্রর বিষয়টা জানার পর ডিআই অফিসে গিয়ে জানতে পারি আরও অনেক স্কুলের এরকম কয়েকজনের টাকা গায়েব হয়েছে। তখন আমরা বিষয়টা বুঝতে পারিনি কীভাবে টাকাটা অন্য জায়গায় যাচ্ছে। আমাদের কোন ভুল হয়েছে কিনা সেটাই জানার চেষ্টা করছিলাম।এখনতো দেখছি ব্যাপক হারে হয়েছে। আমরাও পুলিশেও অভিযোগ করেছিলাম। স্কুলের কোনও ত্রুটি নেই। আমরা সব রকম চেষ্টা করেছি।"
বাংলার শিক্ষা পোর্টালে ছাত্রদের তথ্য থাকে। সেইখানে সহজেই লগ ইন করে ব্যাঙ্কের তথ্য পরিবর্তন করে টাকা অন্য অ্যাকাউন্টে সরিয়ে ফেলা হয়েছে কিনা তা নিয়ে তদন্ত চলছে।