
শেষ আপডেট: 5 October 2024 18:36
দ্য ওয়াল ব্যুরো, হুগলি: কাটারির কোপে ক্ষতবিক্ষত হয়েছিলেন। দুই হাতের চারটে আঙুল বাদ যায়। বাদ যায় উপরের পাটির দাঁত। সে সবের থেকেও বেশি কষ্ট দিয়েছিল স্বামী কাছ থেকে পাওয়া সেই আঘাত। ২০ বছর ঘর করার পর এমন ঘটনা যে ঘটতে পারে ভাবতেই পারেননি পোলবা থানার সুগন্ধা গ্রাম পঞ্চায়েতের ধূমা গ্রামের বাসিন্দা পূর্ণিমা মেটে। অভিযুক্তের যাবজ্জীবন সাজা ঘোষণায় সেই ক্ষততে মলম লাগল খানিক ।
হুগলির পোলবা থানার সুগন্ধা গ্রাম পঞ্চায়েতের ধূমা গ্রামের বাসিন্দা পূর্ণিমা মেটে। সুগন্ধার একটি বি ফারমা কলেজের হোস্টেলে ওয়ার্ডেনের কাজ করেন। ২০২২ সালের ৩ রা জুন বাড়ি থেকে কলেজে যাওয়ার পথে কামদেবপুর স্বাস্থ্য কেন্দ্রের কাছে পথ আটকায় তাঁর স্বামী প্রদীপ মেটে। আচমকা কাটারি দিয়ে কোপাতে শুরু করেন।মহিলা দুই হাত দিয়ে নিজেকে বাঁচানোর চেষ্টা করেন।দুই হাতের চারটে আঙুল কেটে মাটিতে পরে যায়। মুখে কাটারির কোপ লাগে। উপরের পাটির সব দাঁত কেটে পরে যায়। ঘাড়ে হাতে এলোপাথারি কোপে ক্ষতবিক্ষত হন বধূ। শনিবার চুঁচুড়া আদালতের বিচারক অভিযুক্ত প্রদীপ মেটের যাবজ্জীবন সাজা ঘোষণা করলেন।
সরকারি আইনজীবী শঙ্কর গঙ্গোপাধ্যায় বলেন, "অভিযুক্ত প্রদীপ মেটের বিরুদ্ধে তদন্তকারী অফিসার সুবীর গোস্বামী ২০২২ সালের ২২ নভেম্বর চার্জশিট জমা দেন। ভারতীয় দণ্ডবিধির ৩৪১,৩০৭,৩২৬ ধারায় তাকে দোষী সাব্যস্ত করে আদালত। ১৫ জনের স্বাক্ষ্য গ্রহণ করা হয়। শুক্রবার অভিযুক্তকে দোষী সাব্যস্ত করেন চুঁচুড়া জেলা আদালতের তৃতীয় দায়রা বিচারক অরুন্ধতী ভট্টাচার্য। শনিবার তাকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ডের সাজা শোনানো হল।" তিনি জানান, "মহিলার অবস্থা এতটাই খারাপ হয়েছিল যে চুঁচুড়া হাসপাতালে মৃত্যুকালীন জবানবন্দিও নিয়ে রাখা হয়েছিল। প্রায় ২৭ দিন যমে মানুষে লড়াই করে বেঁচে ফিরেছে।"
পূর্ণিমার মা পারুল পাল বলেন, "মেয়ে বাইরে কাজে যায় সেটা পছন্দ ছিল না। বাড়িতে অশান্তি করত। অনেকবার বোঝানোর চেষ্টা করেছি। মেয়েকে মেরেই ফেলেছিল। কোনওভাবে বেঁচেছে। এখন একমাত্র মেয়েকে একাই বড় করছে।"