
শেষ আপডেট: 25 February 2025 15:54
দ্য ওয়াল ব্যুরো, হুগলি: দেনায় জড়িয়ে আছে সুতন্দ্রার পরিবার! বাড়ি ও দোকান ঘর দুটোই ব্যাঙ্কে মর্টগেজ রেখে লোন নিয়েছিলেন সুতন্দ্রার বাবা সুকান্ত চট্টোপাধ্যায়। রেলের ঠিকাদার ছিলেন সুকান্তবাবু। চন্দননগরের নাড়ুয়ায় তাঁর বাড়ি ও চন্দননগর পালপাড়ায় ধরগলি এলাকায় তাদের একটি দোকান রয়েছে। ব্যবসায়ে মন্দা ও নিজের ক্যানসারের চিকিৎসা করাতে গিয়ে বহু টাকা খরচ হয়ে যায় সুকান্তবাবুর। তারপরেই দোকান ও বাড়ি মর্টগেজ রেখে লোন নিয়েছিলেন সুকান্তবাবু। সুতন্দ্রার মা তনুশ্রী চ্যাটার্জি জানান, প্রায় ৫০ লক্ষ টাকা দেনা রয়েছে তাদের। সেই দেনা কী করে মিটবে তা নিয়ে চিন্তায় ঘুম ছুটেছে।
তিনিই জানান, স্বামীর মৃত্যুর পর ইভেন্টের কাজ করে কোনওভাবে দেনা শোধ করার চেষ্টা করছিলেন তাঁর মেয়ে সুতন্দ্রা। কিন্তু তা সফল হওয়ার আগেই পৃথিবী ছাড়তে হল সুতন্দ্রাকে। স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, সোমবারই তাঁদের দোকানে ব্যাঙ্ক থেকে নোটিস লাগানো হয়। তারপরেই আরও অসহায় বোধ করছেন তনুশ্রীদেবী। আগামী দিনে হয়তো বাড়িটাও চলে যাবে। মাথার উপর ছাদটাও হারাতে হতে পারে তাদের।
সুতন্দ্রাদের পরিবারের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে প্রতিবেশী রুমেলা লাহার। তরুণীর মৃত্যুতে ভেঙে পড়েছেন তিনিও। রুমেলা বলেন, "সুতন্দ্রার বাবা-মার সঙ্গে আমাদের দীর্ঘদিনের সম্পর্ক। একসঙ্গে বেড়াতেও যেতাম। সুতন্দ্রার ডাকনাম মামন, আমার বিয়ের সময় খুবই ছোট ছিল। ছোটবেলা থেকেই নাচের শখ ছিল এবং ভালো নাচ করত। বিভিন্ন জায়গায় অনুষ্ঠান করত। সুতন্দ্রার বাবার যখন ক্যান্সার ধরা পড়ে তখন তিনি কাউকে জানাননি, যে বাড়ি ব্যাঙ্কে মর্ডগেজ রাখা রয়েছে। তিনি মারা যাওয়ার পর ব্যাঙ্ক থেকে যখন ফোন আসত, তখন তারা জানতে পারেন যে ব্যাঙ্কে বাড়ি মর্ডগেজ রাখা রয়েছে।"তিনি জানান, সুতন্দ্রা সবসময় চেষ্টা করত কীভাবে লোন শোধ করে বাড়িটাকে বাঁচানো যায়। দোকানটা বিক্রির জন্যও লোক খুঁজছিল। সব সময় চিন্তা করত। বাড়ির লোন শোধ করার জন্য আরও বেশি বেশি করে কাজ করছিল। তার মধ্যেই এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা।
স্বামীকে হারানোর কয়েক মাস পরেই মেয়েকে হারানোয় অসহায় হয়ে পড়েছেন তনুশ্রী। বাড়িতে তাঁর বৃদ্ধা শাশুড়িও রয়েছে। কোথা থেকে পেট চলবে, জোগাড় হবে ওষুধ উত্তর খুঁজছেন তিনি।