গ্রামবাসীরা জানান, মাথায় উপর ছাতা, পায়ের নীচে জল—এই অবস্থাতেই গোটা বর্ষা পঠনপাঠন চলে এই স্কুলে। এখন ছোটদের স্কুলে পাঠাতে ভয় পান অভিভাবকরা।

শেষ আপডেট: 20 June 2025 17:15
দ্য ওয়াল ব্যুরো, হুগলি: ক্লাস চলছে। শিক্ষক পড়াচ্ছেন, পড়ুয়ারা মন দিয়ে শুনছে—কিন্তু সকলের মাথাতেই ছাতা। বর্ষা আসতেই টিনের চাল ভেদ করে টুপটাপ জল পড়ছে যে! হুগলির পান্ডুয়ার পাঁচপাড়া প্রাথমিক স্কুলের এই ছবি ভাইরাল হতেই শোরগোল পড়েছে এলাকায়। তবে ভাইরাল ভিডিওর সত্য়তা যাচাই করেনি দ্য ওয়াল।
গ্রামবাসীরা জানান, মাথায় উপর ছাতা, পায়ের নীচে জল—এই অবস্থাতেই গোটা বর্ষা পঠনপাঠন চলে এই স্কুলে। এখন ছোটদের স্কুলে পাঠাতে ভয় পান অভিভাবকরা। বিজেপি নেতা অমিত মালব্য এই স্কুলের ছবি এক্স হ্যান্ডেলে পোস্ট করে প্রশ্ন তুলেছেন রাজ্যের শিক্ষার পরিকাঠামো নিয়ে। বিজেপি নেতা স্বপন পাল বলেন, “এই দৃশ্য রাজ্যের শিক্ষা ব্যবস্থার বাস্তব চিত্র। পরিকল্পনা করেই শিক্ষার এমন হাল করেছে রাজ্য সরকার।”
সিপিএমও চুপ নেই। সিপিএমের প্রাক্তন বিধায়ক তথা শিক্ষক আমজাদ হোসেনের অভিযোগ, “বাচ্চার থেকে বাচ্চার মা-বাবাকে খুশি করতেই বেশি মনোযোগ রাজ্যের। ফলে শিক্ষা বেহাল।”
এই স্কুলের ৬৮ জন পড়ুয়া। শিশু শ্রেণি থেকে চতুর্থ শ্রেণি পর্যন্ত পড়াশোনা হয়। চারটি ঘরের মধ্যে দু’টি টিনের চালের। দীর্ঘদিন ধরেই সেগুলির ছাদ চুঁইয়ে জল পড়ে। দেওয়ালে নোনা ধরেছে। সেই অবস্থাতেই দাঁড়িয়ে আছে ক্লাসঘরগুলি।
স্কুলের প্রধান শিক্ষক জয়ন্ত গুপ্ত বলেন, “২০২৩ সালে স্কুলে যোগ দিয়েছি। তার আগে থেকেই ঘরের অবস্থা খারাপ। ব্লককে জানিয়েছি বহুবার। গত বছর সংস্কারের প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। দেখি কী হয়। গতকাল দু’টি ত্রিপল দেওয়া হয়েছে।”
স্থানীয় তৃণমূল নেতা সঞ্জয় ঘোষ বলেন, “ওরা আগে নিজেদের রাজ্যে তাকাক। এই স্কুলের বিষয়টা প্রশাসন দেখছে।” পান্ডুয়ার বিডিও শ্রেবন্তী বিশ্বাস জানান, ২০২৪ সালে স্কুল সংস্কারের জন্য ১১ লক্ষ টাকার প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। ত্রিপল পাঠানো হয়েছে, নজর রাখছে ব্লক প্রশাসন।” তবে ছাতা ছাড়া আদৌ কি বর্ষায় পড়াশোনা করতে পারবে ছোটরা, সেই প্রশ্নের উত্তর জানা নেই কারও।