
ছাত্রের মৃত্যুতে কান্নায় ভেঙে পড়ল পরিবার
শেষ আপডেট: 17 July 2024 11:44
দ্য ওয়াল ব্যুরো, হুগলি: বন্ধুদের সঙ্গে উল্টোরথ দেখতে বেড়িয়েছিল ক্লাস নাইনের পড়ুয়া। সবাই ফিরলেও সে বাড়ি ফেরেনি। পরে বাড়ির লোক জানতে পারেন আহত অবস্থায় মগড়া হাসপাতালে ভর্তি। কিন্তু বাঁচানো যায়নি তাঁকে। পুলিশ জানিয়েছে মৃত ছাত্রের নাম অর্পণ পণ্ডিত(১৫)। পরিবারের অভিযোগের ভিত্তিতে তিন বন্ধুকে জেরা করছে পুলিশ।
পান্ডুয়ার খন্যান পণ্ডিতপাড়ার বাসিন্দা ধনঞ্জয় পণ্ডিতের ছেলে অর্পণ (১৫)। ইটাচুনা শ্রী নারায়ণ ইনস্টিটিউশনের ক্লাস নাইনের ছাত্র ছিল সে। মঙ্গলবার বিকেলে উল্টোরথ দেখতে বন্ধুদের সঙ্গে মগড়ার হোয়েরায় গিয়েছিল। রাত হয়ে গেলেও বাড়ি ফেরেনি। ছেলেকে খুঁজতে খন্যান চৌমাথায় দাঁড়িয়ে ছিলেন ধনঞ্জয়বাবু। কিছুক্ষণ পরে তিনি দেখেন অর্পণের তিনজন বন্ধু অটো করে বাড়ি ফিরছে। তাদের কাছে ছেলের খোঁজ করলে তারা সদুত্তর দিতে পারেনি। তখন বন্ধুদের নিয়েই অর্পণের বাবা মগড়া থানায় যান।
থানায় গিয়ে জানতে পারেন এক কিশোরকে পুলিশ আহত অবস্থায় উদ্ধার করে মগড়া হাসপাতালে নিয়ে গেছে। সেখানে গিয়ে ছেলেকে দেখতে পান ধনঞ্জয়বাবু। অবস্থার অবনতি হওয়ায় মগড়া থেকে চুঁচুড়া ইমামবাড়া জেলা হাসপাতালে পাঠানো হয় অর্পণকে। সেখানেই মৃত্যু হয় ওই ছাত্রের। ঘটনায় মৃত ছাত্রের বাবা ধনঞ্জয় পণ্ডিত অভিযোগ করেন, তাঁর ছেলেকে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে গিয়ে খুন করা হয়েছে। এই ঘটনার জন্য বন্ধুদেরই দায়ী করেন তিনি। অর্পণের দিদি পূজা ধারা বলেন, "আমার ভাই প্রতিবন্ধী। তাকে এভাবে নিয়ে গিয়ে মেরে ফেলা হয়েছে। দোষীদের শাস্তি চাই।'
অর্পণের বন্ধু মহাদেব ধারার মা আলপনা ধারা জানান, তাঁর ছেলে প্যান্ডেলের কাজ করে। কাজ থেকে ফিরে প্রতিদিনই বিকালে বাইক নিয়ে বেরোয়। গতকাল কোথায় গিয়েছিল কিছু বলে যায়নি। তারপর রাতে এই ঘটনার কথা শোনেন।
অর্পণের আরেক বন্ধু বাপ্পা ধারার দাদা বিকাশ ধারা বলেন,"গতকাল ওরা হোয়েরায় রথ দেখতে গিয়েছিল। তারপর যখন অর্পণকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছিল না ভাইয়েরা মগরা থানায় গিয়ে খোঁজ খবর করে।"
তিন বন্ধুকে থানায় জিজ্ঞাসবাদ করছে মগড়া থানার পুলিশ। পুলিশের প্রাথমিক অনুমান, বাইক চালাতে গিয়ে জিটি রোডে দূর্ঘটনায় মৃত্যু হয়েছে ক্লাস নাইনের ওই ছাত্রের। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট পেলে মৃত্যুর কারণ স্পষ্ট হবে।