
ধৃত পিসেমশাই
শেষ আপডেট: 7 August 2024 13:32
দ্য ওয়াল ব্যুরো, হুগলি: মধ্যযুগীয় বর্বরতা কোন্নগরে! সম্পত্তির লোভে এক তরুণীর গায়ে গরম জল ঢেলে দেওয়ার অভিযোগ উঠল তাঁরই স্বজনদের বিরুদ্ধে। অভিযুক্ত বাবা ও ছেলেকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, কোন্নগরের শরৎচন্দ্র চ্যাটার্জি লেনের বাসিন্দা প্রণবকুমার আদক। তার মেয়ে বছর পঁচিশের ওই তরুণীর গায়ে গরম জল ঢেলে দেওয়ার অভিযোগে গ্রেফতার করা হয়েছে পিসেমশাই ও পিসতুতো ভাইকে। ২ অগস্ট সন্ধেয় ওই কাণ্ড ঘটে। গরম জলে শরীর-মুখ ঝলসে যায় ওই তরুণীর। পুলিশ জানিয়েছে সম্পত্তি নিয়ে ভাইবোনের মধ্যে অনেক দিনের অশান্তি। অভিযোগ পাওয়ার পর মামলা দায়ের করা হয়েছে। তদন্ত শুরু হয়েছে। প্রণববাবুর অভিযোগ, তাকে ও তাঁর মেয়েকে ওই বাড়ি থেকে উৎখাত করতে নানারকম ষড়যন্ত্র করছে তাঁর বোন ভগ্নিপতি।
তিনি বলেন, "মেয়েকে দেখে আমি স্তম্ভিত হয়ে গেছি। ওর মানসিক স্বাস্থ্য খারাপ। ভয়ে-যন্ত্রণায় আরও জড়োসড়ো হয়ে গিয়েছে। ওর উপর নির্মম অত্যাচার হয়েছে।" ঘটনার দিন প্রণববাবু কাজে গিয়েছিলেন। রাত নটা নাগাদ বাড়ি ফিরে মেয়ের চেহারা দেখে অবাক হয়ে যান। তিনি বলেন, "গরম জল তৈরি করে ঢালা হয়েছে মেয়ের গায়ে। তারপর আবার তার পিসি বোরোলিন লাগিয়ে দেয়। পিসেমশাই আইসক্রিম খাওয়াতে নিয়ে যায়। যেন ব্যাপারটা কিছুই হয়নি।" বর্তমানে কোন্নগরের একটি বেসরকারি নার্সিংহোমে ওই তরুণীর চিকিৎসা চলছে।
প্রণববাবুর অভিযোগ, তাঁর বাবা পান্নালাল আদকের মৃত্যুর আগে বোন ভগ্নিপতি জোর করে এই বাড়ি নিজেদের নামে লিখিয়ে নেয়। উত্তরপাড়ায় নিজের বাড়ি থাকলেও গত পাঁচ বছর এই বাড়িতেই এসে থাকছেন তাঁর বোন-ভগ্নিপতি। সমানে চেষ্টা করছেন তাঁকে আর তাঁর মেয়েকে বাড়ি থেকে উৎখাত করতে। তিনি বলেন, "গত মে মাসে স্ত্রীর মৃত্যু হওয়ার পর মেয়েটা একা হয়ে গেছে। আমি বেসরকারি জায়গায় কাজ করি। মেয়েকে রেখেই কাজে যেতে হয়। আর সেই সুযোগে তার উপরে এমন অত্যাচার হয়। এর আগে একবার আমার মাথায় জল ভর্তি পিতলের বালতি ছাদ থেকে ফেলে দিয়েছিল আমার ভাগ্না। সেটা আমি দেখে ফেলেছিলাম। সে যাত্রায় কোনওভাবে বাঁচি। আমাকে মারতে পারছে না, এখন মেয়েটার উপর নির্যাতন করছে।"
প্রণববাবুর অভিযোগ পাওয়ার পরেই উত্তরপাড়া থানার পুলিশ অভিযুক্ত দীপঙ্কর মৈত্র ও তার নাবালক ছেলেকে গ্রেফতার করেছে। আজ ধৃত দীপঙ্করকে শ্রীরামপুর আদালতে পেশ করা হচ্ছে। তার ছেলেকে জুভেনাইল আদালতে পেশ করা হচ্ছে।
কোন্নগর পুরসভার চেয়ারম্যান স্বপন দাস বলেন, "সম্পত্তির জন্য মানুষ যে এত নির্মম হতে পারে তা দেখে খারাপ লাগছে।ঘটনা যদি সত্যি হয় পুলিশ ব্যবস্থা নেবে।অভিযুক্তদের পক্ষে কেউ থাকবে না।"