
বৈঠকে পার্শ্ব শিক্ষকরা
শেষ আপডেট: 10 April 2025 17:04
দ্য ওয়াল ব্যুরো, হুগলি: একেই স্কুলে শিক্ষকের অভাব। তার উপর ২৬ হাজার শিক্ষক ও অশিক্ষক কর্মচারির চাকরি বাতিল হওয়ায় স্কুলে পঠনপাঠন চালাতে ভরসা এখন পার্শ্ব শিক্ষকরাই। এবার মঞ্চ তৈরি করে আন্দোলনের ডাক দিলেন বঞ্চিত পার্শ্ব শিক্ষকরা।
বৃহস্পতিবার হুগলির ফুরফুরা শরিফে জড়ো হয়ে তাদের আগামী দিনের আন্দোলনের কর্মসূচি ঘোষণা করেন পার্শ্ব শিক্ষকরা। নিখিলবঙ্গ পার্শ্ব শিক্ষক সমিতি, সমন্বয় সমিতি, রাজ্য পার্শ্ব শিক্ষক উন্নয়ন সমিতি সহ কয়েকটি সংগঠন মিলে
বঞ্চিত পার্শ্ব শিক্ষক মঞ্চ তৈরি করে। তাঁরা জানিয়ে দিয়েছেন, আগামী ১৬ ও ১৭ এপ্রিল কোনও কাজ করবেন না তাঁরা। সর্বশিক্ষার সমস্ত অংশের শিক্ষক-শিক্ষা কর্মী যারা প্যারা টিচার, তাঁরা এই কর্মসূচিতে সামিল হবেন। গণ কনভেনশনের মধ্য দিয়ে জেলাশাসক অফিস ঘেরাওয়ের ডাক দেওয়া হয়েছে ওইদিন।
২৩ এপ্রিল প্রায় ৪০-৫০ হাজার পার্শ্ব শিক্ষক ও সর্বশিক্ষার কর্মীদের নিয়ে বিকাশ ভবন অভিযানের ডাক দেওয়া হয়েছে।এবং এই আন্দোলন লাগাতার চলবে। তাঁরা জানান, ১০ থেকে ১৩ হাজার টাকা ভাতায় কাজ করতে হয়। তাতে সংসার চলে না বহুবার সরকারের কাছে আবেদন করে কোনও কাজ হয়নি। দেওয়ালে পিঠ ঠেকে যাওয়ায় আন্দোলনে যেতে চাইছে সর্বশিক্ষার শিক্ষক এবং শিক্ষা কর্মীরা।
নিখিল বঙ্গ পার্শ্ব শিক্ষক সমিতির সম্পাদক নিরঞ্জন মণ্ডল বলেন, "আমরা চাকরিহারা যোগ্যদের পক্ষে রয়েছি। সুপ্রিম কোর্ট বারবার বলেছিল যোগ্য অযোগ্যদের তালিকা দিতে। সরকার তা দেয়নি। আর গতকাল যেভাবে শিক্ষকদের পুলিশ লাঠিপেটা করেছে তা নিন্দার কোনও ভাষা নেই।"
পার্শ্ব শিক্ষিকা দেবশ্রী অধিকারী বলেন, "আমাদের উপর চাপ পড়ে গেছে এখন। শিক্ষকদের চাকরি বাতিল হওয়ায় গোটাটাই প্রায় আমাদের সামলাতে হচ্ছে। অথচ সরকার কথা শুনছে না। আমাদের পে-স্কেল চালু করার দাবি সেটা মানছে না, সিসিএন চালু করার দাবিও মানা হচ্ছে না।"
পার্শ্ব শিক্ষক ধীমান হাজরা বলেন, "মানবিক মুখ্যমন্ত্রী ও মানবিক শিক্ষামন্ত্রীর কাছে আমাদের আবেদন এই পরিস্থিতিতে আমাদের কথাটা ভাবুন। আমরা কত চাপ নেব। অভুক্ত থেকে কতদিন কাজ করব।" ফুরফুরা শরীফের পীরজাদা ইব্রাহিম সিদ্দিকী বলেন, "যারা টাকা পয়সা নিয়ে চাকরি দিল তাদের কিছু হল না, আর যারা যোগ্য নিজেদের যোগ্যতায় চাকরি পেয়েছে তাদের ফল ভুগতে হচ্ছে।"