
শেষ আপডেট: 4 December 2024 16:11
দ্য ওয়াল ব্যুরো, হুগলি: পুরসভার বিদ্যুৎ বিভাগে কাজ করেন। শহর আলো করে রাখেন। অথচ তাঁর বাড়িতেই অন্ধকার!
তিনমাস বেতন পাননি। বিদ্যুতের বিল মেটাতে না পারায় লাইন কেটে দিয়ে যায় বিদ্যুৎ দফতর। দেবাশিস চক্রবর্তীর বাড়িতে বিদ্যুতের লাইন কেটে দিয়েছে শুনে সহকর্মীরা গামছা পেতে চাঁদা তোলা শুরু করেন। দশ কুড়ি টাকা করে অনেকেই দেন। যা উঠল তা নিয়ে বিদ্যুৎ দফতরে গিয়ে বিল মেটালেন দেবাশিস।
দীর্ঘ তিন মাস বেতন হয়নি হুগলি চুঁচুড়া পুরসভার অস্থায়ী কর্মচারীদের। নিজেদেরই নুন আনতে পান্তা ফুরোনোর অবস্থা। তবু সহকর্মীর পাশে দাঁড়িয়ে দুর্দিনে তাঁরাই সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিলেন এভাবেই।
হুগলি-চুঁচুড়া পুরসভার বিদ্যুৎ বিভাগের অস্থায়ী কর্মচারী দেবাশিস চক্রবর্তী। তিন মাস বিদ্যুতের বিল মেটাতে না পারায় বিদ্যুৎ সংযোগ কেটে দিয়ে যায় বিদ্যুৎ দফতর। এই কথা তিনি তাঁর আন্দোলনের সাথীদের জানানো মাত্রই সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেন তাঁরা। বিলের টাকা তোলার জন্য গামছা পেতে সাহায্য চাওয়া হয় মানুষের কাছে। অনেকেই এগিয়ে এসে সাধ্যমতো অর্থ সাহায্য করেন। সেই অর্থে বিলের টাকা শোধ করেন দেবাশিস।
পুর কর্মচারী সংগঠনের নেতা অসীম অধিকারী বলেন, "আমাদের এক সহকর্মী বিদ্যুতের বিল মেটাতে পারেননি বলে তাঁর লাইন কেটে দিয়ে যায়। আমরা সাহায্য করেছি। কিন্তু পুরসভা তিন মাস বেতন দেয়নি। এভাবে কী করে চলবে, সবারই যে এক অবস্থা।"
দেবাশিস বলেন, "পুরসভার বেতন পাইনি। সংসার চালাতে একটা ভাড়ার টোটো চালাই। পাঁচ হাজার ছশো টাকা বিদ্যুতের বিল এসেছে। দিতে পারিনি বলে লাইন কেটে দিয়েছে। আমার ছেলের পরীক্ষা চলছে। ঘর অন্ধকার থাকবে। সহকর্মীদের বললাম। ওরাই আমার পাশে দাঁড়ালেন।"
অন্যদিকে বেতন না হওয়ায় জল-আলো ছাড়া অন্য সমস্ত পরিষেবা বন্ধ রেখেছে চুঁচুড়া পুরসভার অস্থায়ী কর্মীরা। ফলে শহরে জঞ্জালের স্তূপ জমছে। নিকাশি জঞ্জাল সাফাই বন্ধ থাকায় শহরে ছড়াচ্ছে দূষণ, দুর্গন্ধ। প্রশাসনের পক্ষ থেকে এই সমস্যা মেটানোর জন্য দু- সপ্তাহ সময় চাওয়া হয়েছে। পুরপ্রধান অমিত রায় বলেন, "নাগরিকদের পরিষেবা দেওয়া আমাদের কর্তব্য। কিন্তু সেটা বন্ধ রেখে আন্দোলন করলে মানুষ ভালভাবে নেবে না। কেন্দ্র সরকার পঞ্চদশ অর্থ কমিশনের টাকা দিচ্ছে না। আগে একটা ফান্ডের টাকা অন্য ফান্ডে খরচ করা যেত। এখন আর সেটা করা যায় না। জল দফতরে অনেক টাকা এসে পড়ে আছে। কিন্তু সেই টাকা আমরা কর্মীদের বেতন দিতে খরচ করতে পারছি না।"