বিক্ষোভকারীদের দাবি, দিনের বেলায় বাস চলাচল বন্ধ থাকলেও, রাতের অন্ধকারে পুলিশের মদতেই ওই রুট ধরে ব্রিজের উপর দিয়ে ভারী ভারী লরি পার করা হচ্ছে।

গ্রাফিক্স - দিব্যেন্দু দাস
শেষ আপডেট: 5 January 2026 14:47
দ্য ওয়াল ব্যুরো: দীর্ঘদিন ধরে চলা কাজের জেরে (work in progess in Bamangachi howrah) চরম সমস্যায় পড়েছেন হাওড়ার বামনগাছি এলাকার (Howrah Bamangachi) বাস মালিক ও কর্মীরা। বামনগাছির গুরুত্বপূর্ণ রেলব্রিজে সংস্কার ও নির্মাণের কাজ চলার কারণে ওই রাস্তা দিয়ে চারটি রুটের সমস্ত বাস চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ করে দিয়েছে প্রশাসন (bamangachi rail bridge route closed)।
যে চারটি রুট বন্ধ, তা হল ৫৭এ, ৩৯, ১৮ এবং মলুআটি (৩০ নম্বর) (bamangachi rail bridge 4 bus route closed)। কয়েকটি রুটের বাসকে বিকল্প হিসেবে অন্য পথে ঘুরিয়ে দেওয়া হলেও, তাতে সমস্যার সমাধান হয়নি বলেই দাবি বাস মালিকদের। এদিকে বাস চলাচল বন্ধ থাকায় আর্থিকভাবে মারাত্মক ক্ষতির মুখে পড়েছেন তাঁরা।
তবে শুধু মালিকরাই নন, বাস চালক থেকে কন্ডাক্টর - সকলেই পড়েছেন বিপাকে। তাঁদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে বাস না চলায় সংসার চালানোই কঠিন হয়ে পড়েছে। আয় প্রায় বন্ধ হয়ে যাওয়ার মতো পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।
তাঁদের কথায়, ছ'মাস ধরে এই সমস্যায় জর্জরিত তাঁরা। বারবার প্রশাসনের দ্বারস্থ হয়েও সুরাহা মেলেনি। যত দিন যাচ্ছে, আশা হারাচ্ছেন বলে দাবি তাঁদের। তাই বাধ্য হয়ে এই পথ বেছে নিয়েছেন তাঁরা।
এই পরিস্থিতির প্রতিবাদে শুক্রবার বাস নিয়ে বামনগাছি রেলব্রিজের কাছে রাস্তা অবরোধ করে বিক্ষোভ দেখান বাস মালিকরা। অবরোধের জেরে সাময়িকভাবে যান চলাচল সম্পূর্ণ স্তব্ধ হয়ে পড়ে ওই এলাকায়।
বিক্ষোভকারীদের দাবি, দিনের বেলায় বাস চলাচল বন্ধ থাকলেও, রাতের অন্ধকারে পুলিশের মদতেই ওই রুট ধরে ব্রিজের উপর দিয়ে ভারী ভারী লরি পার করা হচ্ছে।
বাস মালিকদের বক্তব্য, যদি ব্রিজ দিয়ে ভারী লরি চলাচল করতে পারে, তাহলে কেন বাস চলাচলের উপর নিষেধাজ্ঞা জারি থাকবে? এই প্রশ্নের কোনও সদুত্তর মিলছে না। তাই অবিলম্বে ওই রোডে বাস চলাচলের অনুমতি দেওয়ার দাবি জানান তাঁরা।
বিক্ষোভের খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছয় লিলুয়া ও মালিপাঁচঘড়া থানার পুলিশ। পুলিশ প্রশাসনের তরফে আলোচনার মাধ্যমে আশ্বাস দেওয়া হয় সমস্যার সমাধান নিয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলা হবে। পুলিশের আশ্বাসের পর প্রায় ৩০ মিনিট পরে অবরোধ তুলে নেন বাস মালিকরা। এরপর ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হয় যান চলাচল।
তবে বাস মালিকদের স্পষ্ট বার্তা, দ্রুত সমাধান না হলে আগামী দিনে আরও বড় আন্দোলনের পথে হাঁটতে বাধ্য হবেন তাঁরা।